(১১৩)

নাহ ফিসফাস যাতে জ্ঞানের ফিরিস্তি না হয়ে যায় সে বিষয়ে পাঠক/ পাঠিকাদের প্রতি একটা দায়িত্ব আছে বই কি! তবে বেশী নয় ছোট দুটো ঘটনা আপনাদের সামনে রেখে দেব। সিদ্ধান্ত বা মতামত আপনাদের নিজস্ব। আমার কাজ খালি তুলে ধরা।

গতকাল মেট্রো করে এয়ারপোর্ট থেকে ফিরছিলাম। এই নতুন রুটটি আমার এক বন্ধু শিখিয়ে দিয়েছে। লাগেজ টাগেজ আছে? অফিস টাইম? কোন অসুবিধা নেই দশ মিনিট না হয় বেশীই লাগল। কিন্তু এয়ারপোর্ট মেট্রো লাইন ধরে চলে যাও উলটো দিকে তারপর ব্লু লাইনের মেট্রো ধরে শান্তিতে বসে বাড়ি এস। সে যাই হোক এক ঘন্টা কি আর ঘুমিয়ে কাটানো যায়? বিশেষত মোবাইলের ব্যাটারি যেখানে তল ছুঁয়েছে।

তাই চোখ এদিক ওদিক চলেই যাচ্ছিল। পাঠক পাঠিকারা আমাকে ওই রকম ভাববেন না যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অদম্য আকর্ষণে চোখ উলটো সিধে জায়গায় চলাচলকারি ফিলান্ডারার। যদি সুন্দরকে কার না ভাল লাগে বলুন। তবে আমি একটু অন্য চোখে দেখি। মানে গল্প খুঁজে বেড়াই। হাজার হোক ফিসফাসের পাঠক পাঠিকাদের প্রতি একটা দায়িত্ব আছে তো!

তা গল্প পেয়েই গেলাম বুঝলেন? দ্বারকার হাজার একটা স্টেশন থেকে এক দম্পতি তাদের বছর আটেকের কন্যা সন্তানকে নিয়ে উঠেছে। মেয়েটি মিষ্টি কিন্তু প্রজাপতির মতো চঞ্চল। পোল ধরে ঘুরে হ্যাণ্ডেল লাফিয়ে ধরে উৎসবের মরসুম নিয়ে এল মেট্রোতে। মা বাবার অবশ্য অন্য গল্প চলছে। যদিও কান পেতে শোনা খুব খারাপ, তবুও পুরো স্টোরিলাইনটা সিনেমাটিক বলে ফেলতে পারলাম না। মা বাবার মধ্যে টেনশনটা স্পষ্ট।

মা বোধহয় বাপের বাড়ি চলেছেন। মেয়েও তা জানে, তা সে জিজ্ঞাসা করে ফেলল, “পাপা হামারে সাথ কাঁহা যা রহে হো?” মা উত্তর দিলেন, “সাথ যা রহে হয়ে বেটা!” বাবা উত্তর দিলেন, “নানি কে ঘর!” উত্তর দেবার সময় মায়ের চোখ থেকে চোখ সরালেন না! মা যেন একটু হাসলেন মনে হল? মেয়েটা খুশীতে উচ্ছল হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “মেরি পাপা ইজ দ্য বেস্ট!” মা বাবা দুজনেই একটু লজ্জা পেলেন। তারপর দুজনেই একটা একটা সিট খালি দেখেও বসতে গেলেন না। চোখে চোখে আড় চুপে হালকা মান অভিমানে কথা চলতে লাগল আর মেয়েটি উলটো দিকের দরজার গায়ে নিজেদের ব্যাগটার উপর বসে মা আর বাবার হাত ধরে বলে উঠল, “মেরি মাম্মি… মেরি পাপা!” সিনেমাগুলোও কি এর থেকে বেশী নাটকীয় বা জীবন্ত মনে হয় বলুন? নরনারীর প্রাথমিকতম সম্পর্কের উর্ধে মানব মানবীর সম্পর্ক হল বাবা মায়ের সম্পর্ক। সন্তানের মুখ চেয়ে আমরা কত আনোনা তরকারি মুখে দিয়ে ফেলি, কত শ্বশুরবাড়ি নিয়ে খোঁটা সহ্য করে নি, কতই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ঢোঁক গিলে হজম করে ফেলি বিনা প্রতিবাদে। বাটি ঘটির ঠোকাঠুকি না থাকলে তো সংসারে শব্দই থাকে না। শব্দই যে ব্রহ্ম! সন্তানদের বেড়ে ওঠা নিশ্চিন্ত করতে এটুকু তো সবাই আমরা করতে পারি বলুন? পরিবার কথাটার অপর মানেই তো অঙ্গে ধারণ করা। তা গরলই হোক বা অমৃত!

যাই হোক চট জলদি অপর ঘটনাটায় যাই। উত্তম নগরের কাছে এসে একটু ভিড় হল ট্রেনটি। আমার উলটো দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সীট। সেখানে দুটি ছেলে বসেছিল। দুই মহিলা আস্তেই উঠে দাঁড়ালো, কিন্তু নিমরাজি হয়ে! বলেই ফেলল, “আপ লোগোকে লিয়ে তো কামরা হ্যায়! ওঁহা তো যা সকতে হ্যায়!” মহিলাদের একজন বললেন, “আপ বয়েঠ যাইয়ে।” ছেলেটি বসল না কিন্তু আপত্তি জাহির করতেই থাকল। আমি আর থাকতে না পেরে বললাম, “এক কে মুকাবলে পাঁচ! মহিলাও কে লিয়ে আরক্ষণ ঠিক হ্যায় না?”

যদিও ছেলেগুলো খুব অভদ্র ছিল না আর আমিও ভয়ানক ক্লান্ত ছিলাম বলে আলোচনা বেশী দূর চলল না। তবুও একবার ভেবে দেখতে হয় যে আরক্ষণ কেন করতে হয়। সে চাকরীর পদেই হোক আর বাস বা ট্রেনের সীটেই হোক। আরক্ষণ কাউকে অন্যায় সুবিধা দেবার জন্য নয় কিন্তু। যদিও আজকের রাজনীতিবিদরা সে গল্প ভুলে আরক্ষণের নামে পিছিয়ে পড়াদের পিছিয়েই রাখেন। তবুও আরক্ষণ যাবতীয় অসুবিধা দূর করার জন্যই। মহিলাদের আরক্ষণ করার প্রয়োজন কেন পড়ছে সে নিয়ে আর বেশী কথা বলে কি করব? সবই তো জানেন! তবে একটা কথা বলতেই পারি, মহিলারা যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে দেশ তো এগোয় না। মহিলারা যদিও পিছিয়ে নেই, তবে পিছিয়ে রাখার চেষ্টার কোন খামতি নেই! সেই অসুবিধাগুলো নিয়ে আমরা একটু ভাবি বরং! নারী বিরোধী বা নারী বাদী না হয়ে মানববাদী হয়েই ভাবি কথাগুলো। আগামী প্রজন্মকে আমরা কি পৃথিবী দিয়ে যাব?

(১১২)


নবমী নিশি পোহাইল… পূজা মণ্ডপের ধূমধাম থেকে ফেরার পথে দেখতে পেলাম একটি ধূসর ওয়াগন আরের প্রশস্ত ছাদে দুটি ডেলকেশিয়ান ভাবলেশহীন ভাবে জিভ বার করে বসে আছে। হিংসে হল, মানব জনম লইয়া বিধি বাম থেকে ডানে যেতে পারে না কো! গণ্ডী গণ্ডী তদুপরী গণ্ডি!

আরে আরে আরে হলটা কি ফিসফাসের, এসব সিরিয়াস কাব্য বরং তোলা থাক অন্য কোথাও অন্য কোন খানের জন্য। ফিরে আসি কাজের কথায়।

অষ্টমীর দিন মোদীবাবু রসগোল্লা খাওয়াবার জন্য ডেকেছিলেন! আহা বচ্ছরকার দিনে একটা মাত্র অষ্টমী তাতেও শপথ টপথের বাড়াবাড়ি। যা ভাই খুব হয়েছে অফিস যাব তো কি হয়েছে? পুজো আছে না? চলাও পানসি ধুতি পাঞ্জাবী। লোকজন তো এক্কেরে থ! মায় সেক্রেটারি সাহেবা বলে ফেললেন, “সৌরাংশু, ফ্যান্সি ড্রেসমে কিউ?” আমিও সপাট উত্তর, পূজা ম্যাডাম! “আরে তুম বাঙ্গালী হো কেয়া? পুরা বাঙ্গালী? তো মিঠাই কিউ নেহী খিলাতে হো!” যাই হোক সে সব তো গেল এর পর এল শপথের কথা।স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালু হবে! ভাল কথা! গান্ধীজীর জন্মদিনে সম্মান প্রদর্শন করে শপথ গ্রহণ! তাও ভাল কথা! নিজে শপথ নিয়ে আরও একশো জনকে শপথ নেওয়ানো! ইয়ে মানে সেতো আরও ভাল কথা! কিন্তু শপথটি কে লিখেছে হে? এত খুনখারাবিভাবে ড্রাফট করা শপথ আমি জিন্দেগীতে দুটো দেখি নি।

সে যাই হোক! তারপর আরেক নাটক। সেক্রেটারী ম্যাডাম জানালেন যে রাজপথে মোদী বাবু সবাইকে বগলে হাওয়া লাগিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। তাই এখানেও সকলকে হাত তুলে জোড়হাতে শপথ পাঠ করতে হবে! ইল্লি আর কি! গলার কাছের কি যেন একটা বিদ্রোহ করে উঠল। করবই না! আমার ডিওডোর্যা ন্ট কি অতই সস্তা? যে যাকে তাকে গন্ধ উপহার দিয়ে বেরাব? তারপর এক ঘণ্টা ধরে ভারত ভাগ্য বিধাতা করে তারপর ছাড়ান। ইল্লি ততক্ষণে হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের খিল্লিতে পরিণত হয়ে গেছে। তবে জয় গুরু! ধুতি পাঞ্জাবী ইজ্জত বাঁচিয়ে দিল! যদি শুভ কাজে সুপোশাকে ও সুমনে আসা যায় তো কেয়া বাত হ্যায়!

যাই হোক এবারের পুজোটা এপার ওপার খেয়া বেয়ে নেয়ে দেয়ে বেশ কেটে গেল। কিন্তু গতবারের সপ্তমীর কথা মনে পড়লে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। ষষ্ঠীর রাত থেকেই সহস্র ধারা শুরু! সপ্তমীতে যখন মণ্ডপে গিয়ে পৌঁছালাম তখন তা এঁদো ডোবায় পরিণত হয়েছে। শুরু হল মাটি কেটে জল ছাঁচার খেলা! এক দুই তিন চার পেরিয়ে পাঁচ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এবার মাটি ফেলা শুরু হল! সেও চলল প্রায় ঘণ্টা তিনেক। অনুষ্ঠান শুরু সাড়ে সাতটায়। ঘড়ি এগোচ্ছে আর জল শুকিয়ে বেঞ্চিও এগোচ্ছে। শেষে দশ মিনিট দেরীতেই শুরু করে ফেলা গেল ম্যাজিক শো! ম্যাজিকের মতো! পুরষ্কার তো বনতা হ্যায়! যারা মেহনত করল তাদের জন্য। কালী পুজোর দিন সকলকে ডেকে ডেকে স্মারক তুলে দেওয়া হল! কি দুর্দশাই না হত তা না হলে।

পুজো আসে পুজো যায়! কিছু টুকরো টুকরো গল্প রেখে যায় আমাদের জন্য! নাটক, আগমনী, রিহার্শাল, নাচ গান টিকটিকি আড্ডা খাওয়া দাওয়া! আপনার আমার গল্প! সেই গল্পগুলোই সারা বছরের খোরাক দিয়ে যায়! হাসি মুখে মার থাকা না থাকা ফিরে ফিরে আসে। আসছে বছর আবার এসো মা! আঁচল পেতে বসে থাকব আমি! আমেন!

(১১১)


আরে নিজে একটা ব্লগ লিখি বলে নিজের হিরোগিরির গল্প ফাটাবার একটা চেষ্টা করব না বলুন? সাহসিকতা বলতে গেলে রাস্তাঘাটে নিজের সততা বজায় রাখার চেষ্টা বলতে পারেন। আফটার অল দুই বাচ্চার বাপ। এটুকু তো করাই উচিত।

তা এসব গল্প বলতে গেলে ফিরে যেতে হয় নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে, তখনো কোলকাতা শহরটা আমায় দেশান্তরে পাঠায় নি। চাকরি বাকরি আর প্রেম উভয়ই চুটিয়ে চলেছে। সন্ধ্যায় আলিপুর থেকে বাসে করে টি বোর্ড তারপর বান্ধবীর অফিস থেকে হাঁটা পথে মানিকতলা। সরষে দানার তো অভাব ছিল না।

এমনই এক দুরন্ত দিনে সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের সামনের রাস্তা পার করার সময় একটা টাটা সুমো হঠাৎ গতি বাড়িয়ে প্রায় চাপা দিয়ে দেয় আর কি। রক্ত আর আবহাওয়া উভয়ই গরম থাকায় কিছু একটা মুখ থেকে বেরিয়ে যায়, যা আজ আর মনে নেই। কিন্তু তাতে সুমো গাড়িটা হঠাৎ সামনে গিয়ে ক্যাঁচ করে ব্রেক মেরে দুটি ছেলে নেমে আসে এবং অশ্রাব্য তর্পন চলাকালীন আমার তলপেট লক্ষ্য করে জুতোর সোলের দাগ নেমে আসে। প্রথমে একটু হকচকিয়ে গেলেও হাত আমিও চালাই। কিন্তু পিছন থেকে একজন ধরে ফেলে আর সামনে লোকটি কোমরের কাছে ফুলে থাকা কিছুতে হাত দিয়ে আমার বান্ধবীকে বোঝাতে শুরু করে, যে আমার বেঁচে থাকার জন্য তার আমাকে বোঝানো কতটা জরুরী- “সমঝাও ইসে, জান গওয়া বয়ঠেগা”। তা এহেন সময়েও দিগ্বিদিক হারাই নি। আমায় ছেড়ে গাড়িটা কলেজ স্ট্রিটের দিকে বাঁক নেবার সঙ্গে সঙ্গে আমি ছুটে যাই একশো মিটার দূরে দাঁড়ানো পিসিআর ভ্যানে অভিযোগ জানাতে। যদিও তাদের আর পাওয়া যায় নি আর বান্ধবীর প্যাল্পিটেশন সে রাতের মতো থামে নি।

কিন্তু স্বভাব কি কখনো অভাবে যায়। কাট টু কাট ফিরে আসি দিল্লীর বুকে। তখন থাকি আশ্রম বলে এক জায়গায়। একদিন অফিস থেকে স্কুটারে সওয়ার হয়ে ফেরার পথে হঠাৎ দেখি একটা রিক্সা রেলব্রীজের তলা দিয়ে ঢালু জমিতে নামতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয় সামনের স্যান্ত্রোর গায়ে পড়েছে। আর সে স্যান্ত্রো চালক কথা বার্তা কিছু বিশেষ না বলে গাড়ি থেকে নেমে এক ঘুষিতে দিয়েছে রিক্সাওলার ঠোঁট ফাটিয়ে। আহা বিবেক বাবাজী তো র্যােম্পে হাঁটতে উদ্যত, সে কি আর চুপ থাকতে পারে। নেমেই ড্রাইভারের কলার চেপে মস্তানি, “মারা কিঁউ? গরীব বোল কি ইজ্জত নহি হ্যায় কেয়া?” সে যা হোক পুলিশ ডেকে গাড়ির আসল মালিক ডেকে রিক্সাওলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর শান্তি। আহা সমাজ কল্যাণে যা ন্যাজ মোটা হয় না! কি যে বলব?

সেই রকমই একটা কিছু ঘটল আজ। এমনিতে মহালয়ার সকালে আলোর বেণুপথ বেয়ে গেছিলাম মুম্বই। তা তার তো ভীষণ বদনাম, আবহাওয়া সব সময় ছিঁচকাঁদুনে বলে। কিন্তু কেন জানি না, মা জননী আসবেন বলে সমস্ত কায়নাৎকে মাসাআল্লাহ বানিয়ে রেখে দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই তাই ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে গেলাম একটু ময়ূর বিহারের পথে। তা প্রায় গন্তব্যে পৌঁছব পৌঁছব করছি। শেষ চৌমাথায় দেখি একটা ট্রাক ট্যারা হয়ে দাঁড়িয়ে আর তার সামনে থেকে একটা বাইকের সিট কেউ তুলে নিয়ে সাইডে গেল। কোন রকমে পেরিয়ে আস্তে গিয়ে দেখি মারমুখী জনতার রোশে ট্রাকবাহনের শোলের ম্যাকমোহনের মতো অবস্থা। নিজের গাড়িটাকে ধারে দাঁড় করিয়ে ছুটে এসে দেখি। কয়েকটি তাজা তাজা দেশের ভবিষ্যৎ মুখে ভুরভুরে গন্ধ আর অকথ্য সম্ভাষণ সহ বেড়ে বেড়ে গিয়ে ট্রাক ড্রাইভারটাকে মারার চেষ্টা করছে।

সত্যি বলতে কি পাঠক পাঠিকারা, মায়া হল খুব! আহা ড্রাইভারটা না হয় গড়বড়িয়ে ফেলেছে! তা বলে অবেলায় তার জান চলে যাবে? পাবলিকের মধ্যে থেকেও তো আমরা মানুষ! সবার আগে তাই সবুজ টি শার্ট পরিহিত যে ছেলেটি গ্লুকোজ টেনে ফুটছে তাকে আটকালাম। গালাগালির গতিপথ আমার দিকে পরিবর্তিত হল। আমি নরমে গরমে সামলে দেবার চেষ্টা করছি। সমানে বলছি, “মারো মত পুলিশকো দে দো!” কিন্তু সমর্থন বিশেষ যেন পাচ্ছি না। আর ওদিকে নব্য যুবকের দল তাকে খুনই করে ফেলবে। আমি তখন বেগতিক দেখে বললাম “উসকো ম্যায় উতার রাহা হুঁ- মগর মার না নহি!” ছেলেগুলো কি বুঝল কে জানে একটু থমকে গেল। কিন্তু কেউ আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না, বাইকচালকের কি হয়েছে। যাই হোক ড্রাইভারটা ভবিষ্যতের হাতে নিজেকে সঁপে দেবার প্রস্তুতি নিয়ে নেমে এল। আর উন্মত্ত জনতা মঙ্গলবার দিন মানুষের মাংসের লোভে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার উপর। জনতা বলতে জনা চারেক পাঁচেক ছোকরা আর দুটো মুসকো লোক। পরে বোঝা গেল তারাই বাইকে ছিল এবং মরেই যেত। যদিও অনেক খুঁজেও তাদের গায়ে আমি বিশেষ আঁচড় টাচ-ওর দেখতে পাই নি। তবে কি না মরে যেত বলে কথা।

কি জানি আমার ভিতরে তখন কি যেন একটা ভর করেছিল। শান্ত গলায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে শুরু করলাম, “মুঝে মারনা হ্যায় তো মার দো, মগর ঈশ গরীবকো মারনে নহি দুঙ্গা!” শুকনো মুখে ফিরে যেতে হবে দেখে উৎসাহীরা আমার দিকে ফিরল। কিন্তু কেন জানি না যুত করে মারতে পারছিল না আমায়। কেন তা বলতে পারব না, তবে কলার ধরা খান দুয়েক চড় চাপড়ের মধ্যেও আমি বলে যেতে লাগলাম, “বাইকওয়ালা কিধার হ্যায়? প্যাহলে বতাও! মারো মাত!” সত্যি হয়তো মজা ঠিক হচ্ছে না দেখে তারা সরে যেতে লাগল। আর এই সময়ই দেবদূতের মতো হাজির হল এক কনস্টেবল। ব্যাস তখন আম জনতা মস্তানদের দিকে আঙুল তুলতে শুরু করল। আর আমি পেলাম পূর্ণ চন্দ্রকলা হাতে। হেব্বি কনফি নিয়ে ছুটে গেলাম ছোকরা মস্তানদের দিকে।

কনস্টেবলটাও করিৎকর্মা! সে গিয়ে ছোকরাদের গাড়ির মধ্যে স্যাট করে সেঁটিয়ে গিয়ে বার করে আনল বিয়ারের বোতল। ছোকরারা তখন জনতার মধ্যে মিশে গেছে। শুধু ধরা পড়েছে সেই গাড়ির ড্রাইভার বাবাজী। ট্রাকের ড্রাইভারটা ভদ্রলোকের মতো ট্রাকটাকে ধারে নিয়ে ফিরে আসছিল। কনস্টেবলটির কথায় তার টিকি নাকি স্থানীয় থানায় বাঁধাই আছে। বাইক চালক ও তার সহযাত্রীকে আমি বেশ ঘ্যাম নিয়েই বললাম যে ১০০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে, যে তারা মরতে বসেছিল। কিন্তু ট্যাঙ্কি তো ঠনঠন গোপাল। তাই তারা বলল না তারা এসব নিয়ে আর এগোতে চায় না। তখন চড়ল আমার গলা, “মাজাকি পায়া হ্যায়? আভি আপ লোগোকা জান যা রাহা থা বোলকে আপ দুসরো কো ইন্সটিগেট করকে ড্রাইভারকি জান লেনে পে তুলে হুয়ে থে!” সে আমতা আমতা করতে শুরু করেছে। কনস্টেবলের সঙ্গীরাও এসে গেছে। তারা তখন সেই গাড়ির (স্যান্ত্রো) ড্রাইভারকে নিয়ে পড়েছে। সে তো স্মার্টলি বলতে শুরু করেছে, সে তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মোমো খাচ্ছিল। ছেলেগুলোকে কাউকে চেনে না। আমি তখন প্রবল পরাক্রমশালী প্রতাপাদিত্য মহারাজ। বললাম, “ঝুট বোল রহা হ্যায়! থানে পে লে যাকে দো চার হনুমান চালিশাকা শ্লোক শুনা দো!” পুলিশগুলোও দেখলাম সহমত হল।

এক ভদ্রলোক খালি এসে ইংরাজিতে বলল- বাইক চালক যখন অভিযোগ করছে না তখন ছেড়ে দেওয়া হোক না। ইংরাজরা প্রায় সত্তর বছর হল চলে গেছে এ দেশ ছেড়ে কিন্তু ভাষার যা ওজন দিয়ে গেছে কি আর বলি। আমিও দেখলাম সারা দিনের শেষে এসব নিয়ে ন্যাকামো করে লাভ নেই। সমবেত জয়ধ্বনি ও করতালির মধ্যে দিয়ে দু চার বাণী জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিয়ে রওনা হলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। এখনো মেপে দেখি নি। কিন্তু ঠিক জানি ছাতি এখন মদনলাল হয়ে গেছে। ফিরে আসার সময় সেই ট্রাক ড্রাইভার ছেলেটার চোখে চোখ পড়ল। এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে সে। ভাষা পড়ার দরকার পড়ল না।

এই হল গিয়ে আমার হিরোগিরির গল্প। ভাগ্যিস ফিসফাস ছিল! তা বলি কি পাঠক পাঠিকারা, ফিসফাস-২ বই হয়ে বেরোবে বলে প্রকাশক আশা দিয়েছেন। আমিও বুক বেঁধে আছি, যে আপনারা উৎসাহ দিতে থাকবেন আর আমিও কমন অব আ পাওয়ার ম্যান দেখাতে থাকব। পাঠক আছে বলেই তো কলম বেঁচে থাকে। আর পাঠিকাদের জন্য কলমধারী। জয় হিন্দ, জয় মহারাষ্ট্র, জয় বাংলা।

(১১০)


লেখাটা লিখতে একটু দেরী হয়ে গেল বলে পাঠক পাঠিকারা মার্জনা করবেন। আসলে একটু অন্যরকম করে শুরু করব ভেবেছিলাম। হয়তো একটা কবিতা টবিতা। সৃষ্টির আদিকালে আমি খান কতক কবিতা পাড়ার চেষ্টা করেছিলাম বটে, কিন্তু সেটা খচ্চরের ডিমের থেকে বেশী দূর এগোয় নি। তাই লিখেতে বসে,

মেঘের আদর
গোলাপি চাদর
আমিও বাঁদর
তুমিও বাঁদর

এর বেশী এগোন গেল না। তাই আর কি এট্টু দেরী হয়ে গেল। আসলে বাঁদর সেই রবীন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্রের কাল থেকে বাংলা সাহিত্যের মানবর্দ্ধন ও মানভঞ্জন করে আসছে। সেই যে কবিগুরুর অমোঘ উক্তি- ‘এই ঘরে একটি বাঁদর (বাঁ দোর) আছে’ সেই থেকে শুরু। তারপর সেই ‘হুলা হুলা গান আর ট্যাঙো ট্যাঙো নাচ’। প্রেমেন মিত্র। এ ছাড়া বিশেষ পড়েছি কি না মনে পড়ছে না। পাঠক পাঠিকারা একটু স্মরণ করিয়ে দিলে বাধিত থাকব।

সংস্কৃত সাহিত্যে তো বাঁদরদের গুরুত্ব অপরিসীম, তারা তখন রাম নাম লিখতে পারত রাবণকে ল্যাজে বেঁধে তিন ভুবনের পারে আলুকাবলি খাওয়াতে পারত। প্রযুক্তি বিদ্যাতেও তাদের গুণগান ছিল। প্রথম উল্লেখযোগ্য সেতু বন্ধন বাঁদর ইঞ্জিনিয়ারের হাতেই হয়েছিল। আর হনুমানের কথা তো বললামই না। এতই প্রতিভাবান ছিল যে উপযুক্ত পাত্রী পাওয়া গেল না। সারাজীবন হরিমটর আর রামকথাতেই চালাতে হল।

সে যাই হোক, আমাদের মধ্যেও একটা বাঁদরামির প্রবণতা কম বেশী দেখা যায় বলে বদনাম আছে নাকি আমরা বাঁদরের বংশধর। তবে কি না বাঁদর না হলে তো আর মানুষ হিসাবে গণ্যও করা যায় না। তা আমি খান দুই বাঁদরামির গল্প বলব। আপনারা ধৈর্য ধরে শুনতে পারেন।

প্রথমটি গত বুধবার সংঘটিত হল! এর সঙ্গে বাঁদরের প্রত্যক্ষ কোন যোগাযোগ নেই, কিন্তু বাঁদরামির আছে। মানে বাঁদরদের মতো সক্ষমতা তো মানুষের থাকে না, আমরা খালি চেষ্টা করতে পারি। আর্বান রানিং বলে একটা বস্তু হয়েছিল যেটা অক্ষয়কুমার থামস আপের বিজ্ঞাপনে প্রভূত প্রচার করেছিলেন। সে কিছু না, জানলার কার্নিশ, সিঁড়ির রেলিং, ম্যাজেনাইন ফ্লোর, ঝুলন্ত বাদুড় ইত্যাদি ছুঁয়ে লাফিয়ে গড়িয়ে বালীগঞ্জীয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো।

তা এক কালে সে সব আমারও খুব মজাই লাগত। খুব যে করতে পারতাম তা নয় তবুও চেষ্টার তো কমতি ছিল না। বর্তমানে কোমর বেড়ে ৩৫, ফিটনেসের অবস্থাও খুব দারুণ কিছু না আর চটকানো হাঁটু তো আছেই। তো সে সব দিকে খুব যে মাড়াই তা নয়। আরে বাবা বয়সটাকে তো বোতলবন্দি রাখা যায় না।

কিন্তু মাঝে মাঝে উপায়ান্তর থাকে না যে। দুর্গাপূজা নিকটবর্তী হতে যত আরম্ভ করেছে। রিহার্সালের বহরও ততই বাড়ছে। তো বুধবার সপরিবারে রিহার্সাল বেড়াতে বেরোচ্ছিলাম। কিন্তু আমার পার্শ্ববর্তিনী কিছুতেই আর নীচে এসে পৌঁছতে পারছেন না। অন্যান্য বহু মহিলার মতো ওনার সাজুগুজুর প্রতি জেন্ডার বায়াস নেই বলে বেশ নিশ্চিন্তেই থাকি। তাই লিপস্টিকে যে সময় নষ্ট হচ্ছে না সে বিষয়ে নিশ্চিত। ফোনও এনগেজড। তাইলে?

এলেন তিনি মিনিট দশেক পর। এসে জানালেন, যে সামনের বাড়ির ছোট মেয়েটি বাড়ির ভিতর লোহার দরজা বন্ধ করে আপাত ঘুমোচ্ছে। বড় মেয়েটি প্রথমে আর তার পর তার মা এসে ফোন করে করে বেল বাজিয়ে বাজিয়ে হদ্দ হয়ে পড়ছে। পার্শ্ববর্তিনীর ফোনটিও এতক্ষণ উদ্ধারকার্যে মগ্ন ছিল।

এসব শুনলে কোন বিবেকবান বা রবীন্দ্রবান পুরুষই কি চুপ করে থাকতে পারে? আর আমার তো বনের মোষ তাড়াবার প্রবল তাড়না। ছুটলাম উপরে। গিয়ে পত্রপাঠ তিন তলার সিঁড়ির জানলা দিয়ে শরীর গলিয়ে কার্নিশের উপর পা রাখলাম। ঘুরঘুট্টি অন্ধকার, কার্নিশের উপর খুলে রাখা একটা জানলার গ্রিল সামনের বাড়ির ব্যালকনিটি ফুট চারেক দূরে। নীচে মেয়ের কান্না আর পিছে সামনের ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলার ক্রমাগত সাবধান বাণী। সব মিলিয়ে বেশ দোলাচলে।

আসল কথাটা হল ফিটনেস! বছর দুয়েক আগে হলেও এসব নিয়ে ভাবতাম না। কিন্তু এখন তো ওজন এবং বয়স পাল্লা দিয়েই বেড়েছে। ভদ্রমহিলাও দেখলাম বলছেন, “সিনহা জী, ছোড় দিজিয়ে! ও সো রহি হ্যায়। নিন্দ টুটনে কি বাদ হি খুলেগি!” আমি ভাবলাম হিরোগিরি দেখাবার সুযোগ কেই বা ছাড়ে। এক হাতে জানলার পাল্লার গোড়াটা শক্ত করে ধরে অপর হাত বাড়িয়ে চার ফুট দূরের ব্যালকনির কার্নিশে রাখা টবের চুলের মুঠি ধরে তুলে আনলাম অতীব সাবধানে। তারপর হস্তান্তরিত করলাম ভিতরে। খোলা গ্রিলটাও পায়ের তলা থেকে সরিয়ে একই গন্তব্যে পাঠালাম। তারপর যা থাকে কপালে বলে ষাট ডিগ্রি কোণাকুণি এক পায়ে লাফ মারলাম। ডান হাঁটুর শুবানাল্লাহ অবস্থার জন্য লাফ টাফ একটু সাবধানেই মারতে হয়। সেই হরিদার অমোঘ উক্তি, “সাবধানের বাবার মুখ ভর্তি দাড়ি আছে, সাবধানের মার নেই।” তাই এক পা।

নেমেই নিজেকে এবং নীচে দাঁড়ানো বাক্স প্যাঁটরাকে জানিয়ে হাঁক দিলাম, “পৌঁছ গয়ে।”

তারপর শুরু কসরত। দুটো দরজার লোহার আবরণ বন্ধ। কিন্তু ছোট ঘরের জানলাটা খোলা। সেখান দিয়ে ওয়াইপার দিয়ে প্রথমে কাঠের দরজার ছিটকিনি এবং তার পর লোহার দরজার আবরণ সরিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। ভিতরে সেই হাচ-এর কুকুরটা “খ্যাউ খ্যাউ” করে তেড়ে এল। আমি ওসবে বিশেষ পাত্তা টাত্তা না দিয়ে এগিয়ে গেলাম বেডরুমের দিকে। দেখি ভর সন্ধ্যা বেলায় গান চালিয়ে এসি চালিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ত্রয়োদশী কন্যাটি পাড়ি দিয়েছেন মালাবার হিলের ওপাড়ে।

বেশী না ঘাঁটিয়ে সদর দরজা খুলে দিয়ে “হেঁ হেঁ” হাসি নিয়ে গাড়ির পানে ছুটলাম। পিছনে ম্যাণ্ডেটরী ‘থ্যাঙ্কু ট্যাঙ্কু’র বহমানতাকে উপেক্ষাই করে নিলাম। রিহার্সালে দেরী করা আমার নিয়ম বিরুদ্ধ। গুরুর বারণ আছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি পরশু অফিসের। এমনিতে মোদীবাবুর আগমনে সরকারী বাবুগিরির আলতামাসি আরামের দিন কেটে পড়েছে। তার উপর বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গার প্রিন্ট আই বল ম্যাচিং ইত্যাদিন হাইটেক ব্যাপার স্যাপার নিয়ে একদম ২২১ বেকার স্ট্রিট। তার উপর তিনি আবার বাউণ্ডারী সীমানা বেঁধে দিয়েছেন ১০০ দিন।

দাও ব্যাটা ১০০ দিনে কে কত গাল গল্প লিখেছ তার হিসাব কিতাব। তা গল্প উপন্যাস লিখতে আমার প্রতিভা তো অপরিসীম মূলো। যখন তখন গুঁজে দেওয়া যায়। তাই যুগ্ম সচিবের ঘরে নিজের ডিভিশনের হাল হকিকত পৌঁছতে যেতেই তিনি যুতে দিলেন অর্ধপক্ক ব্যঞ্জনের সঙ্গে। এখানে যাও সেখানে যাও শেষে সচিবের কাছে যাও। সচিব মহোদয়া অত্যন্ত মিশুকে এবং এক্সপ্রেসিভ। সব কিছুই ওনার মুখে চলে আসে। গুরু গম্ভীর মিটিং-এ বসে কোন মহিলা সহকর্মী যদি পুরুষ সহকর্মীর প্রায় গায়ের উপর পড়ে যাবার মতো অবস্থা হয় তাতেও তিনি ফুট কাটতে ছাড়েন না, “আরে দাস সাহাব, কোই সুন্দর লড়কি (পড়ুন পঞ্চান্ন বছরের মহিলা) আপকি উপর গির রহি হ্যায়, থোড়া তো হাস দিজিয়ে।”

তা তিনি দেখলাম তাঁর এবং যুগ্ম সচিবের পি এসের উপর মাথার উপর দাঁড়িয়ে হাঁউ মাউ করতে শুরু করেছেন আর পি এস যুগল বেচারা ১০ লাখের জায়গায় ১৫ কোটি লিখতে গিয়ে হোঁচট বিষম আর খাবি একসঙ্গে খাচ্ছে। আমাকে দেখেও তিনি বেশ বকা ঝকা করে দিলেন। আমি ওনাকে কিছু বলার আগেই। তারপর বলে দিলেন, “শরম আনে চাহিয়ে তুম লোগোকো, ইতনে ইয়ং অউর ইনটেলিজেন্ট হো মাগর কাম নেহি করতে হো অউর আভি হাস রহে হো।” ব্যাখ্যা করতে গেলাম না যে আমার কাজটা আমি করেই দিয়েছি। যার সমন্বয়ের কাজ তিনি দূর থেকে তখন গুলতির টিপ প্র্যাকটিস করছিলেন। মুখ দিয়ে বেরলো অমোঘ বাণী, “শরম তো আ রহি হ্যায় ম্যাডাম, ইসিলিয়ে আপনে আপ পে হাস রহা হুঁ।” এর পর আর কোন কথা হয় না।

যাই হোক কাজে লেগে পড়লাম, কিন্তু সন্ধ্যা ছটা নাগাদ পেটের ছুঁচো একটু নড়ে চড়ে বসলে চাড্ডি মুড়ির বন্দোবস্ত করতে সেকেন্ড ফ্লোরে গেছিলাম। গোলমালটা বাঁধল ফেরার সময়। স্বাভাবিক উদর বৃদ্ধি রোধ করতে এবং সক্ষমতা বজায় রাখতে আমি এলিভেটরের ব্যবহার করি না। সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছিলাম ষষ্ঠ তলে তৃতীয় তলেই দেখলাম অফিস সময় পেরিয়ে গেছে বলে ল্যাজ বিশিষ্ট বানর কূলের কনসার্ট শুরু হয়ে গেছে। বছর চারেক আগে এক উচ্চ পদস্থ অফিসারকে এই বানরকূলই বাথরুমের মধ্যে বন্ধ করে রেখেছিল ঘণ্টা চারেক। শেষে কেয়ারটেকার কয়েক জনকে নিয়ে এসে তারপর উদ্ধার করে।

আমার বরাবরের স্ট্র্যাটেজী, যা ফিসফাস-১এর পাঠক পাঠিকারা জানেন, তা হল ‘ইগনোর কর, ইগনোর কর মনা’। এখনও করছিলাম। কিন্তু দেখলাম তিনখানা বাঁদর আমার সহযাত্রী হল। পঞ্চম তলে গিয়ে দেখি আরও চারটে বসে এবং তার মধ্যে খান দুই বেশ বাছুরের সাইজের। ষষ্ঠ তলের দিকে পা বাড়াতে যাব, হঠাৎ নীচ থেকে উঠে আসা একটি বিচ্ছু বাঁদর কপাৎ করে লাফিয়ে আমার ঘাড়ে চড়ে ফেলল। আর আরেকটি ধেড়ে আমার পিঠে একটা আলতো করে থাবড়া লাগালো। আরেকটি তখন আমার পায়ের ডিম ম্যাসেজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাঠক পাঠিকারা, সত্যি বলছি। মেরুদণ্ড বেয়ে ঠাণ্ডা স্রোত নেমে আসছিল। কিন্তু ডর কে আগে জিত হ্যায় না? তাই কোন রকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সোজা পঞ্চমতলের দরজায় ঢুকে গেলাম। তার একটু নিশ্বাস নিয়ে ভাবলাম নাহ, ঘাবড়ালে চলবে না। বাঁদরগুলো বোধহয় মাটি পরীক্ষা করছিল। কিন্তু এ মাটি বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি, বাঁদরের চাঁটি, চলো যাই হাঁটি। ফিরে এলাম ফেলে আসা পথে। বানরকূল সসম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে দিল। বিচ্ছুটির হয়তো ইচ্ছা ছিল আমাকে পথ দেখাবে। কিন্তু বড়রা বারণ করল বোধহয়। যে পথে যুধিষ্ঠির করেছে গমন সে পথ কখনই নয় যে কমন। ফিরে এলাম এক বুক নিশ্বাস আর বিজয় গর্ব সঙ্গে করে। জিজ্ঞাসা করলে বললাম, হাঁ ঝপকি তো লাগায়া থা! মাগর উসকো রিয়্যাক্ট নেহি করনা! সবাই বেশ চোখ বড় বড় করে শুনলো বানর বিজয় কাহিনী আর আমি আবার ছুটলাম সচিব এবং যুগ্ম সচিবের হৃদয় জয় করতে। যা সে দিন রাত দশটা পেরিয়ে পরের দিন চারটেয় শেষ হল বটে। কিন্তু সে আরেক হিমালয় ডিঙোবার গল্প।

স্প্রাইট কিন্তু সত্যিই একটা দারুণ ক্যাচফ্রেস বানিয়েছে। ডরের পরে জিত অবশ্যই আছে। অবশ্যম্ভাবী…

(১০৯)

সেই হাড়জিরজিরে ব্যারামের মতো আমার সৎ হবার ব্যায়রাম আছে। মানে মাঝে মাঝে কিছু কিছু স্পেলে আমার অন্তরাত্মা টিকটিক করে ওঠে, আর বলে সব ঠিক সব ঠিক। মানে তখন আমি মেয়েদের দিকে অন্যচোখে(তৃতীয় নয়ন?) তাকাই না, পরীক্ষার খাতায় টুকলি করি না, রেডলাইট লাফাই না, দোকানদারের পয়সা মেরে দিই না ইত্যাদি এবং প্রভৃতি। সে এক ক্যাটাভরাস কাণ্ড। যে দেখে সেই কয়, এ ছেলে বাঁচলে হয়।

সেই আদ্যিকালের গোরুপোড়া দিনে কোচিং সেন্টারে বান্ধবীর দিকে না তাকাতে সে আমার প্রেমে পড়ে গেছিল। মানে সে ‘এক্সকিউজ মি!’ বলে রুমে ঢুকেছে আর আমি মন দিয়ে নোট টুকছি। সেই ক্যাড়াটা তখন হয়েছিল আর কি। আর সে কিনা সুন্দরী মহিলা পিতৃজন্মে এমন ছেলে দেখে নি যে তার দিকে তাকায় না। আর কি ক্যাচ কট কট। তারপর ভাগীরথী দিয়ে কত জল বয়ে গিয়ে এখন এসে দাঁড়িয়েছি অলকনন্দায়। মানে অলকনন্দা অ্যাপার্টমেন্ট- আমার বর্তমান বাসস্থান। কিন্তু তা বলে কি খিটকেলী ক্যাড়া আমাকে ছেড়ে যেতে পারে?

এই তো গত পরশুর কথা। ইণ্ডিয়ান অয়েল পেট্রোল পাম্প থেকে বেরিয়ে এসএমএস পেলাম যে আপনার এত টাকা এই পেট্রল পাম্পে কাটা হয়েছে। তার দশ মিনিট পরেই পেলাম যে আপনার তত টাকা সেই পেট্রল পাম্প থেকেই ফেরত এসেছে। এইসব ক্ষেত্রে, আমজনতা যারপরনাই উল্লসিত হয়ে পার্টি ফার্টির ব্যবস্থা করবে, আমিও করতাম। কিন্তু তখনই আমায় পেয়ে বসেছে ক্যাড়ামশাই। তাই আর কি সেদিন রাত্রে বেমালুম ভুলে গিয়ে পরের দিন গিয়ে হাজির হলাম পেট্রল পাম্পে। অ্যাটেণ্ড্যান্টগুলো তো চর্মচক্ষে বিশ্বাসই করতে পারছে না যে এরকম মদন মানুষ বর্তমান এবং তারা ভাগ্যবান যে এমন কাউকে দেখছে। খুব খাতির টাতির করল বটে কিন্তু ফ্রি পেট্রল দিল না! আরে বাবা সরকারী চাকুরে তো, ফ্রিতে বিষ পেলেও খেয়ে ফেলি। কিন্তু সেটা হল আজকেই

সততা দেখাতে গেলে আপনাকে কোন কিছু একটা ভুলে যেতে হবে এবং যার সঙ্গে ভুলে যাচ্ছেন তারও যেন মনে না থাকে যে আপনি ভুলে যাচ্ছেন। না না গোদা বাংলায় বলিঃ If you forget something with someone then let him/ her also forget that you have forgotten! কিছু উদ্ধার করা গেল না, না? জিলিপি পাকিয়ে লাভ নেই ঘটনায় আসুন।

হয়েছে কি, গত শনিবার এক কফিশপে পার্শ্ববর্তিনীকে নিয়ে গিয়ে দু কাপ কফি আর এক প্লেট পনির স্যান্ডউইচ পিটিয়ে (অবশ্যই চিকেন ছিল না বলে! না হলে কে আর হবিষ্যি খেতে যায়!) আলবেয়ার থেকে মুখার্জী সব কামু-র গুষ্টির তুষ্টিপুজো করে বেমালুম ভুলে চলে এসেছিলাম ঘরের ছেলে ঘরে। কফিশপের ছেলেটি পরিচিত ছিল। তার উপর আগের দিন কাপের বদলে হ্যাণ্ডেলহীন গ্লাসে কফি পরিবেশন করে পার্শ্ববর্তিনীর কাছে কড়া আর আমার কাছে মিঠে করে বকু খেয়েছে। তাই সেও বোধহয় জোর করে ভুলে গেছিল যে দাম দেওয়া হয় নি বা দিতে হবে। সে তো নম্বর বাড়াবার চক্করে গদগদ।

তা যাই হোক, আজ গিয়ে কথাটা পাড়লাম, যে দেখ ভাই দেখ, আমি পয়সা দিতে ভুলে গেছিনু। আর সেই দিন থেকে ঘুম নেই কারও চোখে। তা সে ছেলেটির ডিউটি ছিল না আজ। কিন্তু যার ছিল, সে এতটাই ক্ষীর হয়ে গেছিল যে, আজকের খাওয়া কফিটাও ফ্রিতে দিয়ে দিল। মানে আগেই খেয়ে নিয়েছিলাম, দামটা নিল না। আর আমিও ভাবতে শুরু করলাম পৃথিবীতে সবুজ ভাব যেন এই অকাল বর্ষণের ফলে বেড়ে গেছে। বেড়েই গেছে।

আরেকটা গল্প বলি আসুন। হয়েছে কি, আমি এমনিতে ক অক্ষর গোমাংস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারী চাকুরী করার ফলে একটা অদ্ভুত সুন্দর জলের মতো গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। মানে একটু সময় আর যা কিছু দিলেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যা কিছুও জলবৎ তরলং হয়ে যায়। তা পেট্রলে ইথানল মিশ্রণই বলুন আর সাধারণ প্রশাসনিক রুটিন কারবারই বলুন। যা দেবেন সবেতেই সারেগামাপা বাজিয়ে দেব।

তা আর পরীক্ষার মুখ্য পর্যবেক্ষক বা উত্তরপত্র পরীক্ষকই বা কি এমন ইয়ে? হয়েছে কি দৃষ্টিহীনদের জাতিয় ইনস্টিটিউট থেকে আর্জি এল যে তাদের রিসার্চ অফিসার, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রশাসনিক আধিকারিক ইত্যাদি প্রথম শ্রেণীর পদের নিয়োগ পরীক্ষায় পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিতে হবে এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের খাতাও পরীক্ষা করতে হবে। এমিতেই আমার বিজ্ঞ বিজ্ঞ হাবভাবে তাদের ধারণাই ছিল যে আমি অনেক কিছু জানি! তার উপর আবার দু মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরেছি। শুধু তারা কেন? আমার সংযুক্ত সচিবেরও ধারণা হয়ে গেছে যে আমার দুটি পাখা একটি শিং এবং একটি সুকেশী ল্যাজ গজিয়েছে।

তাই কাল আমার দায়িত্ব পড়েছিল ইউনিকর্ণের ডিমটি প্রসব করতে। এমনিতে তো কিছু না- পদবলে হুম হাম সহযোগে হাঁকডাক করা আর লিখে রাখা নির্দেশগুলি হিন্দি ও ইংরাজিতে স্পষ্ট করে বলে কেউকেটা হাব ভাব নিয়ে ঘুরে বেরানো। তা শেক্ষপীরই তো বলে গেছেন সমস্ত দুনিয়া মঞ্চ আর আমরা সবাই ভায়রাভাই! তা সে কাজ তো করেই ফেললাম।

কিন্তু গোলমাল বাঁধল খাতা চেক করার সময়! বুক ধুকপুক ধুকপুক করছিল। এই বুঝি শিয়ালের আসল রঙ বেরিয়ে পড়ল। পরীক্ষার্থীরা সব এমবিএ এবং ন্যুনতম পাঁচবছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। কিন্তু যেই অবজেক্টিভ টাইপে চোখ গেল তখনই আত্মবিশ্বাসটা বাঁধাকপির পোশাক ছেড়ে রোদ্দুরে সপাট দাঁড়ালো। গোলাপ, ডেইজি, ফুলের কুঁড়ি এবং টিউলিপের মধ্যে টিউলিপই হল ভীন গ্রহের জীব। কারুর মৃত্যুর পর বইয়ের রিভিউ প্রকাশিত হলে তাকে মরণোত্তর প্রকাশন বলে। যত দেখছি ততই জ্ঞান বৃদ্ধি হচ্ছে।
কোন আইনের অধীনে প্রতিবন্ধীদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা চল্লিশ শতাংশই লিখতে ভুল করেছে অথচ তার ঠিক দুটি প্রশ্ন নীচেই প্রশ্ন আছে, “পার্সন্স উইদ ডিস্যাবিলিটি আইন, ১৯৯৫” অনুসারে দৃষ্টিহীনদের জন্য সংরক্ষণ কত শতাংশ।

বিবরণধর্মী প্রশ্নে গিয়ে তো আরও খারাপ অবস্থা। সাধারণ অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্যাপিটাল গুডস ব্যবহারের অযোগ্য হলে তা বাতিল করার পন্থা বিস্তারিত বলতে গিয়ে সীতা কার পিতা তার গল্প করা হয়েছে। ব্যবহারের অযোগ্য হলে তা কি করে যোগ্য করে তুলতে হবে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শেষ মেষ যদি সত্যিই তা ব্যবহার না করা যায় তাহলে সাধারণ অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী না কি তাকে বাতিল করতে হবে। সত্যি বলতে কি বিবরণধর্মী প্রশ্নে কুড়িতে চারের বেশী কাউকে দিতে পারলাম না!

প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টর প্রায় কেঁদে ফেলেন আর কি- “সৌরাংশুজি সব কো ফেল করা দিজিয়ে! নহি তো ইনি …সে হামে কাম করওয়ানা পরেগা!” কিন্তু সরকারী নির্দেশ! যোগ্যতামান নীচে করে অন্তত চারজনকে ইন্টারভিউয়ের যোগ্য ঘোষণা করিয়ে তবেই ছুটি পেলাম।

স্টুডিয়োর ঘড়িতে ছোট কাঁটা তখন সাত ছুঁই ছুঁই। কিন্তু মনের মধ্যে এতদিন ধরে পুষে রাখা এমবিএ করতে না পারার দুঃখটা যে সন্ধ্যার সূর্যের মতই দিগন্তে বিলীন হয়ে গেছে।
“লেখা পড়া করে যে/ অনাহারে মরে সে/ জানার কোন ‘সেস’ নাই জানার চেষ্টা বৃথা তাই/ যায় যদি যাক প্রাণ হীরকের রাজা ভগওয়ান!”

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ মোদী সাহাব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক দিবসে গুরুপূর্ণিমা পালন করবেন, আপনারা পারলে স্কুলে সরাসরি সম্প্রচার করবেন- মানব কল্যাণ দফতরের এই আপাত নিরীহ অনুরোধটাকে বহু স্কুলেই দেখছি মোজেসের প্রথম নির্দেশের মতো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার জন্য এবং আপামর শিক্ষার্থীকূলকে মান্য করানোর জন্য হামলে পড়েছে! সত্যিই বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়!!

(১০৮)


বহুদিন চুপচাপ থাকার পর ফিসফাসের পোকাটা একটু নড়ে উঠল। আসলে আলসেমি করতে কার ভাল লাগে বলুন? তা বলে আমি কি আর আলসেমি করছিলাম? নরেন্দ্র ভাইয়ের ‘লেস গবর্মেন্ট, মোর গভর্নেন্স’-এর চক্করে নাকে দড়ি দিয়ে হিল্লি দিল্লি করছিলাম। তবে ঘাঘু মাল, একটু পরেই দড়ি আলগা করার ফিকির শেখা হয়ে যায়। সরকারী চাকুরেদের অ্যাডাপ্টেবিলিটি ঐতিহাসিক।

যাই হোক, দিন চারেক আগে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ, ৯১.১ এফ এমের কাঁটায় শুনতে পেলাম আলোচনা চলছে বাচ্চাদের খেলার জায়গার অভাব নিয়ে। অবশ্য দিল্লিতে এমনিতে সবুজের অভাব নেই। জঙ্গলের বুক চিরে বানানো শহরে গাছপালা আর বাঁদরদের যত্রতত্র অধিষ্ঠান। কিন্তু কথা হল প্রকৃত খেলার মাঠ আছে কি?

কোলকাতায় যেমন ময়দানকে শহরের ফুসফুস বলা হয়, তেমনই দিল্লীতে এতটা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঠিক কোন খেলার জায়গা নেই বললেই চলে। যদিও দুটি বহু দেশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হওয়ার সুবাদে একটা মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম, একটা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, একটা সুইমিং পুল, একটা একটা ফুটবল আর হকি স্টেডিয়াম আর খান তিনেক ইন্ডোর স্টেডিয়াম দিল্লির বুকে রয়েছে। আর অনতিদূরেই রয়েছে আন্তর্জাতিক রেসিং ট্র্যাক। কিন্তু সত্যি বলতে কি শিশু কিশোরদের খেলাধুলা করার জায়গা যে অপ্রতুল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই নিয়ে আমার অভাব অভিযোগ বহুদিনের। তাই এই সম্পর্কে যখন বার্তালাপ চালু হল তখন কান তো গণেশ ঠাকুরের মতো লম্বা করতেই হল। গিনি বলে যে আরজে খেলার ছলে আলোচনা করছিলেন, তিনি এই নিয়ে দেখলাম বেশ প্যাশনেট।

তা মূল বক্তব্য হল, যে সব খেলার মাঠ বা পার্ক ছিল সেগুলো হঠাৎ করে সৌন্দর্যায়নের প্যাঁচে পড়ে গেছে। গাছ পালা লাগিয়ে বাড়ির বাগান করার শক জনসাধারণের ব্যবহারিক স্থানে উঠে এসেছে। কুড়ি মিটার জায়গা পেলেই তার মাঝখানে বসার বেঞ্চি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর হয়েছে ঢোকা মাত্রই একটি জাব্দা নীল কালো সাইন বোর্ডের আমদানী। যে সাইনবোর্ডটি গোটা গোটা অক্ষরে স্পষ্টের থেকেও জোরদার ভাষায় জানাচ্ছে যে, ক্রিকেট খেলা এবং কুকুর নিয়ে বেরানো বারণ। সত্যিই তো, ক্রিকেট খেলা তো কুত্তা ঘুমানার সমগোত্রীয়ই। তার জন্য সরকারের উচিত ভিন্ন জায়গা করে দেওয়া যাতে সাধারণ যারা বয়স্ক ব্যক্তিরা আছেন তাদের ঘোঁট পাকাবার জায়গার অভাব না হয়।

একটু ভিতরে ঢুকতেই জানা গেল যে এগুলো সব এলাকার আরডব্লিউএ-দের ফরমান। কিভাবে ডিডিএ বা জিডিএ পার্কের অধিকার আরডব্লিউএ-র হাতে চলে গেল, এবং কি ভাবেই বা স্পোর্টস গ্রাউণ্ডগুলো আধিকারিকের নকশায় রাতারাতি বদলে গিয়ে প্রমোদকাননে পরিণত হল, সে সব কথা আর কপচিয়ে কি করব। বুদ্ধিমান পাঠক/ পাঠিকারা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন যে এসব ম্যাজিক করতে পি সি সরকারের শরণাপন্ন হতে হয় না। প্রমাণ সাইজের ভুঁড়ি আড়ালেই কালো কালো থলিগুলি লুকিয়ে থাকে যারা এই সব ব্ল্যাক ম্যাজিক করে ফেলতে পারে।

আমার পুত্রটি যখন আরও একটু ছোট ছিল, তখন আমাদের এলাকার একটা খেলার মাঠ আর একটা পার্ক এভাবেই কেমন যেন বরপণের সঙ্গে ছোটদের হাত থেকে চলে গেছিল। যেমন ছোট ভাই বোনেদের দিদিদের হয়। হঠাৎ একদিন দেখে যে যে দিদি একান্ত আপন ছিল সে ঘোমটা গয়না চড়িয়ে পরের ঘর করতে চলে গেছে।

এতটা গলার, পেশীর বা ব্যাক পকেটের জোর কোন কালেই ছিল না যাতে এর প্রতিবাদ সামনে দাঁড়িয়ে করে ফেলতে পারি। আসলে নিজভূমে পরবাসের মতই দেখতাম, যে জায়গাটাকে সেই ২০০৫-এ নিজের বলে মনে করে আপন করে নিয়েছিলাম, তারই রকম সকম চাল চলন পালটে গেল। এত সবুজ এত সবুজ যে সবুজ পোশাকেও তা আঁটে না। আঁটবে কি করে? বাচ্চা বুড়োদের খেলাটা বন্ধ করাই তো মূল লক্ষ্য ছিল! তাহলেই তো নিজের বাড়ির কাঁচ ফুলের টব আর ডালের বাটি সুরক্ষিত থাকে।

সন্ধ্যায় একটু প্যাঁচ পয়জার করার জন্য শুধুমাত্র একতা কাপুরের আশ্রয় নিতে হয় না। কুটকাচালী, কিটি আড্ডা আর পিএনপিসি দেদার চলতে পারে মশার রাজত্বে হানা দিয়ে কালচে সবুজের বুকে! সত্যিই তো, খেলাধুলো করে কটাই বা শচীন আর বিরাট কোহলি বেরিয়েছে। পি টি ঊষা তো দূর অস্ত। ছেলেমেয়েরা পড়াশুনো করুক, না হলে মানুষ হবে কি করে? আসলে মানুষ তো নিজের বুদ্ধির জোরেই জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তির আবির্ভাব তো উন্নতির লক্ষণ। তাই ভিডিও গেমস টিভি গেমস পেরিয়ে এসে মোবাইল গেমস।

কচি কচি বোকাবাক্সগুলোতে কচি কচি শৈশব কৈশোর বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা বড়রা বড়াই করছি এই বলে যে, “আমার ছেলের সময় কাটাবার জন্য অযথা সময় নষ্ট করে না” “আমার মেয়ে তো কম্পুটার এক্সপার্ট!” “আরে টুটুল তো আমার মোবাইলটা ব্যবহার করতে আমার থেকে অনেক ভাল জানে!” বাংলায় লিখলাম বটে, কিন্তু এই সমস্যা বিশ্বজনীন। বিশেষত দিল্লির মতো কসমোপলিটান শহরে যেখানে বৈদ্যুতিক বা ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তিবিদ্যা চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। সেখানে যুগের সঙ্গে চলতে গিয়ে ছোটাছুটি খেলাধুলো তো বিসর্জন দিতেই হবে। আমাদের তো রিমোট আছে, অনলাইন শপিং আছে। ইনস্ট্যান্ট মিক্স আছে। কে আর কষ্ট করে কসরত করে গতর খাটায়?

সমস্যাটা দেখবেন অন্যত্র! এমনিতেই এখন আণবিক পারমাণবিক পরিবার আর পরিবার নিয়ন্ত্রণের পাল্লায় পড়ে সমবয়সীদের সঙ্গে বেড়ে ওঠার গল্প কমে গেছে। তার উপর প্রযুক্তির প্রকোপ। দুই সমবয়সীকে সামনাসামনি বসিয়ে দিন না! দেখুন, “কেমন আছ”, “কোথায় আছ” “কি করছ”-র গণ্ডি পেরিয়ে তারা কথা খুঁজে পায় না। শেষমেশ গ্যাজেট গুরুর চরণে নিজেদের বাকি সময় সমর্পন করে বাঁচোয়া।

তারা এখন সোশাল মিডিয়া- ফেসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপে স্বচ্ছন্দ। প্রযুক্তির বিকাশ। কিন্তু এর শিকড়টা লুকিয়ে আছে অন্যত্র। আমাদের ফাস্ট লাইফস্টাইলের চক্করে পরে বছর তিরিশের মধ্যেই সকালে উঠে হাঁটতে শুরু করা আর জিম জয়েন করা এখন ফ্যাশন ফ্যাড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাচ্চারাও হরেদরে জিম জয়েন করছে। ভাবতে পারেন, শিশুরা ঘাসে নিঃশ্বাসে মিশে না গিয়ে শরীরের যত্ন নেবার জন্য জিম জয়েন করছে? এর ফল স্বরূপ হয় সোফা কাউচে বা রোবোটিও গ্রীক ঈশ্বরে পরিণত হবে। আর লাইফস্টাইল সম্পর্কিত সবরকম রোগ বাঁধিয়ে বসবে। প্রকৃতির বুকে টিকে থাকার জন্য তারা তো তৈরীই হচ্ছে না। তাদের তৈরীই করা হচ্ছে রেসের মাঠের ঘোড়া হিসাবে।

সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা, উষ্ণতা, নির্মল আনন্দ, কলরব, এসব কথাগুলো ধীরে ধীরে এলওএল, আরওএফএল, টিসি, আরআইপি এই সব ক্ষুদ্রনামের চাপে ফসিল হয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব কি আমরাও এড়াতে পারছি। আরডব্লিউএ-র মাথায় যে সকল শুভবুদ্ধিহীন বয়স্ক ব্যক্তিরা বসে আছি, তারা তো আমাদেরই সিস্টেমের ফসল। চল্লিশ পেরিয়ে চালসে, পঞ্চাশ পেরিয়ে পানসে, ষাট পেরিয়ে গেঁটে বাতের ধাক্কায় বাহাত্তুরে ধরতে আমাদেরই তো বেশী সময় লাগছে না। প্রতিবাদ করব? সময় নেই! একসঙ্গে আলোচনা করব? সময় নেই। সামাজিকতা করব? সময় নেই! বাচ্চাদের নিয়ে নিজেরা খেলতে যাব? সময় নেই। অগ্রগতির চাকা তো আমাদের বুকের ওপর কুরুক্ষেত্রের কর্ণের চাকার মতো ধীরে ধীরে জাঁকিয়ে বসছে, সে খেয়াল আছে?

ন্যুনতম শুরুটা তো আমাদেরকেই করতে হবে! কাউন্সিলরের সঙ্গে দেখা করে, স্থানীয় এনজিওগুলির সঙ্গে আলোচনা করে। সর্বোপরি আধিকারিকের কাছে বিষয়টি নিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকেই। মনে করে দেখুন তো কোন পৃথিবীতে আমরা এসেছিলাম আর কি রেখে যাব? মুকদ্দর কা সিকন্দর তো সেই হয় যে হাসতে হাসতে এই পৃথিবী থেকে যেতে পারে। উন্নতির কালো ধোঁয়ায় তো মুখ ঢেকে যাচ্ছে। আসুন না। আমরাই আগামী প্রজন্মকে সবুজ চেনাই।

সকালের সোঁদা গন্ধওলা ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটার আনন্দ চেনাই। ঘামের মধ্যে দিয়ে স্ফুর্তির পুর্তি উপভোগ করাই। দায়িত্ব তো থেকেই যায় আমাদের উত্তরপুরুষদের জন্য। আমেন।

(১০৭)


কি বলি বলুন তো? এমনিতে আমি বিশেষ ধম্ম কম্মের ধার দিয়ে যাই না… মানে আমি মনে করি যে ধর্ম ভীষণ ব্যক্তিগত বিষয়, কারুর কোথাও নাক গলাবার অধিকার নেই। কিন্তু কোন কিছুরই কি অতি ভালো? অগতির গতি অনাথের নাথ সবি তো থিক কিন্তু যদি প্রতি পদক্ষেপে মন্দির আর সেই মন্দিরের বন্দনার গল্প তৈরী হয় তাহলে কি আর কাজ করা সম্ভব হয়? এই যে আমি তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরমে এসে গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ক একটি রিপোর্ট তৈরী করছি আরও বেশ কিছু সমপদভুক্ত অধিকারীর সঙ্গে সেখানে ভগবানের উপস্থিতি মাঝে সাঁঝে হলে মন্দ না। তবে বেশী খেলে বিরিয়ানী কেন ডালভাতও পেটে সয় না। ভগবান তো মনের জিনিস মনজিনিস।

তা কি হয় কাকা? নাইতে নেমে চুল ভেজাব না, নাচতে নেমে বাঁকা উঠোন এসব বললে ভবি ভোলে নাকি? এসেছ মন্দিরের রাজ্য তামিলনাড়ুতে, যেখানে প্রতিটি গ্রামে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়য়, একটা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, একটা জনবন্টন ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে একটা করে মন্দির উপস্থিত। তার তার মধ্যে তো কিছু কিছু জায়গায় ঢুকতেই হবে, না হলে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউণ্ডের ব্যক্তিদের দলনেতার কাছে দাবী অনেক। সমতা ক্ষমতা এবং মমতা দুমদাম করে জায়গা বদল করে নেয় আর তখন হাতে পড়ে থাকে পেনসিল।

তবু দু একটা জায়গার কথা তো বলতেই হয়। এই যেমন কালকেই গেছিলাম চিদাম্বরমে। মানে আমাদের বিগত অর্থমন্ত্রীর দেশ আর কি! চিদাম্বরমের নটরাজ মন্দিরের অবশ্য ব্যাপারই আলাদা। কথিত আছে যে, এই নটরাজ মন্দির থেকেই ভারতনাট্যমের যাত্রা শুরু। মন্দিরের গোপুরমের চৌকাঠ পেরবার সঙ্গে সঙ্গেই যেন সম্পূর্ণ গল্প বদলে গেল।

তখন সন্ধ্যা হব হব করেছে কি হয় নি! সিন্দূরই আকাশের ছোঁয়া বেয়ে যখন চিদাম্বরম শহরটাতে প্রবেশ করছি তখন সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে, তখন শরীর বেয়ে ক্লান্তির ধারা। আশা আকাঙ্ক্ষার বিন্দুমাত্র বাকি ছিল না, পথচলতি মন্দিরে মন্দিরে হতাশার বোঝা বয়ে বেড়ানো ছাড়া তো কিছুই পাই নি।

গোপুরমটি বেশ সুন্দর এবং সমস্ত দক্ষিণই মন্দিরের মতই দশাসই। কিন্তু চমকটা ছিল দু কদম দূরেই। মন্দিরে প্রবেশের দরজায় যথারীতি বিধিবদ্ধসতর্কীকরণ, ক্যামেরা এবং মোবাইল প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কিন্তু অন্যান্য অসহিষ্ণুদের মতো বিদেহসীদের প্রতি কোন নিষিদ্ধিবার্তা নেই। আশ্চর্য! এমনিতে দক্ষিণভারতীয় মন্দিরগুলিতে বিদ্বেষভাবের জন্য আমার অসূয়ার অন্ত থাকে না। প্রত্যেক মন্দিরেই সাধারণ দর্শনার্থী, বিশেষ দর্শনার্থী এবং বিশেষ বিশেষ দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা। আরে ভগবানের কাছে ভক্তের আবার শ্রেণীবিভাগ হয় না কি রে পাগলা? তাও আবার অর্থের বিনিময়ে কিনে নেওয়া ভক্তের ভালবাসা! তার উপর বিদেশী দেখলেই নিষেধাজ্ঞা- যেন বিদেশীদের মধ্যে হিন্দু আর স্বদেশীদের মধ্যে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হয় না।

যাই হোক নটরাজে ফিরে আসি। আরও দু কদম এবার মন্দিরের দরজা দিয়ে ঢুকতেই যেন এক ধাক্কায় সময়টা পিছিয়ে গেল একেবারে দুশো তিনশো বছর। সন্ধ্যার আলোটাতেও কেমন যেন নস্টালজিয়ার ছোঁয়া। মন্দিরের গায়ে গায়ে কষ্ঠিপাথরের কারুকার্য আর ভরতনাট্যমের মুদ্রা। আহা ঘণ্টার আওয়াজ তো নয় যেন যুগের ঘড়ি ঢং ঢং করে সময়কে বুকের মধ্যে আগলে রেখে দিয়েছে।

এদিক ওদিক বিষ্ণু পার্বতীর মন্দির ছুঁয়ে সবার অলক্ষে ঢুকে গেলাম গর্ভগৃহে। নাহ হে নটরাজ আমি সত্যিই হেরে গেলাম! মন সরিয়ে ঢুকে রাখতে গিয়েও কেমন যেন রোমাঞ্চ অনুভব করলাম। এই কি সেই গদাধরের বক দর্শন?

চুপচাপ আরতির সময় হেঁটে হেঁটে বেরিয়ে এলাম বাম দিকের পুষ্করিণীর পাড়ে। দূরে আকাশে নীল কমলা মেঘ সূর্যের মাখামাখির মধ্যে দিয়ে চারদিকের চারটে গোপুরম মাথা উঁচু করে রয়েছে আর দিঘির শ্যাওলা ধরা জলে তার টলমলে ছায়া। আবীর লেপে দিয়েছেন তিনি আকাশ ভরে। পুকুরের ওপারে বোধহয় শ্যুটিং চলছে। প্রদীপ আর পদ্ম ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাঁ দিকের মন্দিরের গা বেয়ে ভেসে আসছে ঘণ্টার শব্দ আর আরতির গন্ধ। কেউ কোত্থাও নেই। মোবাইলও অবস্থা অনুধাবন করে বাসের খোপে আশ্রয় নিয়েছে। অতীত বর্তমান আর অনাদৃত ভবিষ্যৎ মিলে মিশে একাকার হয়ে বসে আছে। বসে আছি আমিও অনন্তের অপেক্ষায়।

আরও একটু পিছিয়ে যাই, আরও একটা দিন। অনেক কসরত করে তবেই অরোভিলের মাতৃমন্দিরে ঢুকতে পারলাম। শব্দহীন বর্ণহীন আড়ম্বরহীন প্রবেশ। ভক্তের বেশ ছেড়ে মানব বেশে প্রবেশ। প্রার্থনা গৃহে স্ফটিক গোলকের মধ্যে দিয়ে আমার ফেলে আসা দিনগুলি ফিরে ফিরে আসছে। নিচের তলার কলকল শান্ত জলের মধ্যে দিয়ে বিলীন হচ্ছে মহাশূন্যে।

হারিয়েছি যত তা সত্যিই কি হারিয়ে গেছে? সামান্য মোবাইল থেকে শুরু করে, চটি ছাতা ওয়াটার বোতল এমন কি মানুষও। ছেলেবেলার যারা সব ছিল তারা কি আর কোথাও নেই! নাকি সময়ের অন্তরালে তারা আমার আশেপাশেই অবস্থান করছে। অরোভিলের কেন্দ্রের বিশাল বটগাছের বিশালত্বের মধ্যেও অনুভূতি হয়, মানব সম্ভাবনার কথা। ভিতর পানে একটু ঝাঁপাও দেখি মন! ডুবে দে ডুবে দ্যাখ দিকি। কি সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে রয়েছে সেখানে।
আমার রুমমেট ঝাজী আমায় বললেন সকলের মধ্যেই তিনি বাস করেন। তাকে খুঁজে পেতে নিজের নিজের পথ ধরতে হয়, তার জন্য ভিতরে তাকালেই চলে, খুড়োর কলের দরকার পরে না।

মনে পড়ে গেল সেই ছিয়ানব্বইতে প্রথমবার অরোভিলে আসার সময় আমার ভাইটাও সঙ্গে ছিল। এখনো আছে বোধহয় আনাচে কানাচে! চোখের জল যে মিথ্যা বলে না…!