(২২)


আয় বলদ আমায় গুঁতো…
সুখে থাকতে ভুতে কিলোয়…
এবং ইত্যাদি।এগুলোকে বাংলায় প্রবচন বলে- কেনো এবং কি ভাবে এগুলোর উতপত্তি সে প্রশ্নের একটাই উত্তর- “জীবনদর্শন”

মনে করুন সামনে একটা বলদ বসে আছে- আপনি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন- হঠাত কেরদানি দেখাতে গিয়ে বলদের সামনে চোখ নাচাতে থাকলেন আরো কিছু কিছু করতে থাকলেন যেগুলো বলদের মোটে পছন্দ নয়। তো বলদ কি করবে? বাধ্য হয়েই আপনাকে গুঁতোবে।

তা মানুষ হয়েও তো মাঝে মধ্যে আমরাও বলদামো করে ফেলি। কালকেই যেমন-

আবার সেই বাইক, সেই ছেলে আর সেই মাথার ভিতরকার পোকা। উন্মেষের অনুষ্ঠান ঝিনচ্যাক হয়েছে- মনের আনন্দে কয়েক জন মিলে মোগলাই খাবার দাবার সাঁটিয়েছি। মনটাও খোলতাই হয়ে আছে- রাত তখন ১১টা। ছেলেকে পিছনে বসিয়ে পূর্ব দিল্লীর একটা মার্কেট প্লেসের মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফিরছি- এমন সময় সীটের পিছনে রাখে শিরস্ত্রাণটি খটাস করে তার বন্ধন থেকে খুলে মাটির উপর গড়াগড়ি দিতে লাগলো- ঠিক যে ভাবে বিগড়ে যাওয়া সন্তান ল্যাবেঞ্চুস বা বেলুন ( এখন তো এসব বিশেষ পাওয়া যায় না তাই সুবিধার্থে মনে করে নিন অটোমেটিক গাড়ি বা পিজ্জা!) পাবার আশায় মাটির কাছাকাছি পৌঁছে যায় সেইরকম আর কি। সরু রাস্তা- তাই বাইকটাকে ঘুরিয়ে হেলমেটটির কাছে যেতে যাব অমনি উলটো দিক থেকে একটি স্পার্ক এসে দিলো হেলমেটে এক শট- মনে পড়ে গেল ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ আর বেশী দূরে নেই।

আমি আসন্ন হেল্মেট হারনোর বেদনার অনুভুতি নিয়ে গেল গেল রব তুলে হাঁই মাই করে উঠলাম আর উত্তেজনাবশত গৃহপালিত মানববন্ধু বলে গাড়িটিকে সম্বোধন করে বসলাম। ব্যাস আর যায় কোথা। ক্যাঁচ- গাড়ি থামলো! ফট ফট ফট ফট- গাড়ির চারটি দরজা খুললো- চারটি অপ্রকৃতস্থ মুশকো জোয়ান নেমে এগিয়ে এল আমার দিকে- আমি বুঝলাম শিয়রে সমন। আগে থেকেইসহবাগের ছক্কার পরের বিলি বাউডেন হয়ে উঠলাম।

সবথেকে ভীষণাকায় যেটি, যেই আমায় চার অক্ষর ছুঁইয়ে ছ অক্ষরে গেছে- আমি নিত্যানন্দ হয়ে বলে ফেললাম “সরি” সঙ্গে আকর্ণবিস্তৃত হাসি- উত্তমকুমার-ও লজ্জা পাবে! আমার চেহারা এবং আমার বাহনের চেহারা দেখে বোধহয় ওই জাঠতনয়দিগের একটু দয়া হলো- আর হাসিতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন দেখে থমকে গেল। আমি আরও বললাম ” পাগড়ি হারাবার ব্যথায় বকে ফেলেছি। কানে নেবেন না দয়া করে- আপনাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে!” বলে আবার একটা পাঁচশো ওয়াটের হাসি।

কাজ হল- তারাও “কোই নেহী।” বলে ফিরে গেল তাদের শকটে। আমিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম- ছেলের সামনে বেইজ্জত হওয়া থেকে।
মনে মনে বীরপুরুষ আওড়াতে আওড়াতে ভাবলাম- ওটা কবিতার বইতেই ভালো- বাস্তব জীবনে কীল খেতে একদম ভালো লাগে না, বিশেষত ভুতের।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s