(২৬)


কাল ব্রাজিলের শেষকৃত্য সেরে ফিরছি- দশটা বেজে গেছে- সঙ্গে পুত্রটি লেজুড়ের মতো জুড়ে আছে। দ্য লাষ্ট মেট্রো-র জন্য অপেক্ষায়। মিনিট দশেক পড় হেলতে দুলতে তিনি এলেন। উঠে গিয়ে দাঁড়ালাম হাতন ধরে ছেলেকে একটা পোল দিয়ে দিলাম দাঁড়াবার জন্য- হতভাগা পোলডান্স করতে লাগল। এই সময়ই ঘটনাটা ঘটল-
একটা সর্দার (চিন্তা করবেন না বারোটা তখনও বাজে নি) হঠাত উঠে দাঁড়িয়ে উলটো দিকে বসে থাকা এক মহিলাকে শূন্যস্থান পূরণ করল। বুঝলাম না ঠিক ছেলেকে বললাম স্টেজ থেকে নেমে এসে দর্শকের ভূমিকা নে!
সে গিয়ে বসল আর আমি তার সামনে বাউন্সারের মতো দাঁড়ালাম। গিয়েই বুঝলাম কান্ডটি- একটি জাঠ দেবানন্দ কেষ্ট মুখার্জি হয়ে চিরঞ্জীবির পাশে বসে যদ্দুরসম্ভব তাঁর পড়ের ছবিতে অভিনয় করার অফার দিচ্ছিলেন। চিরঞ্জীবি তো রেগে কাঁই- যত রাগে তত লাফায় ততই দেবানন্দ পিন মারেন! টুপি মাথায় একবার এদিক ওদিক দেখেই জ্ঞান বর্ষনের চেষ্টা। চিরঞ্জীবি নিজের ক্ষমতায় সুপারষ্টার শুনবে কেন সমানে ফড় ফড় করছে। বেগতিচ দেখে আমি ছেলেকে বললাম ওদের মাঝখানে বসতে! ফিল্ম-এ একটা হিরোর দরকার তো পড়তেই পারে।
দেবানন্দের তাও দেখি শখ যায় না! ফোন করে কাউকে অভিযোগ করল। চিরঞ্জীবিকে একটা চাঁটা মারার চেষ্টাও করল। আমার তখন বিশেষ খেয়ে দেয়ে কাজ ছিল না (হবিষ্যি খেয়ে ট্রেনে উঠেছি।)- গিয়ে পড়লাম বনের মোষ তাড়াতে। অনেক কষ্টে দুই যুযুধান(জাপানী ধান নয় মনে হয়) পক্ষকে শান্ত করলাম। দেবানন্দের তখন নবম স্বর্গে তুরীয় মার্গ চলছে। তবু তার মধ্যে অনেক কষ্টে হিরোর দিকে নজর পড়ল। হিরো কাল আবার খুল্লতাত-র হলুদ রঙের পোষাক পড়েছিল। নেহাত দিল্লী বলে বেড়োতে পেড়েছে। তাকে দেখেই দেব বাবু ভাবলেন এই তাঁর ফিউচার। ব্যাস নিয়ে পড়লেন। কাকা কে কি এবং কেন? ইত্যাদি। তারপর উচ্চপাঁচ নেবার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন! একদম কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতিক।
একদম কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতিক।

বাধ্য হয়েই ছেলেকে হাত মেলাতে হল।হঠাত কি হল চিরঞ্জীবিকে আক্রমণ করলেন এই বলে যে সে নাকি বাচ্চার পাশে বসার যোগ্য নয়! আবার যায় যায় অবস্থা! বাবা বাছা করে সামলালাম। খুবই বিশ্রী পরিস্থিতি- দেবানন্দ ভাবলেন “আভি তো ম্যায় জবান হুঁ”। যেমন ভাবা তেমন কাজ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন-বসো!

আমি ইতিমধ্যে একটু বিব্রত ছেলেকে মাতালের মুখে এগিয়ে দেবার জন্য! কালক্ষেপ না করে বসে পড়লাম! উঠে দাঁড়িয়েও শান্তি নেই- দুর থেকেই “স্মার্ট বাচ্চা, পেয়ারা বাচ্চা” বলে অভিবাদন!

হঠাত আমায় জিজ্ঞেস করে বসে “ভাঞ্জা হ্যায়?” মানে উলটে “বা……” বলে গাল দেওয়া আর কি। অবস্থা হাতের বাইরে এবং আমার পৌরুষ অবধি পৌঁছে গেছে দেখে কালক্ষেপ না করে জিজ্ঞাসা করলাম “কাঁহা উতরোগে?”

বলল- “অন্ত তক যাউঙ্গা- নয়ডা সেক্টর ৩৭” হাতে চাঁদ পেলাম পটাস করে বললাম- “ইয়ে তো যায়গা নেহি?” অজ্ঞাতদের জন্য জানাই- দ্বারকা থেকে একটা ট্রেন নয়ডা এবং পরেরটা আনন্দ বিহার যায়। তাই বললাম- “ইয়ে তো আনন্দ বিহার যায়গা” দেব সাহাব টলতে টলতেই জিজ্ঞাসা করলেন “ইঁহাই উতার যাউ?”

আমি দেখলাম সুবর্ণ সুযোগ যদিও সুবিধা মতো যায়গা- যেখান থেকে লাইন বদল হয় সেটা এখন ৬টা স্টেশন দূরে- তবুও শুভকাজে দেরী না করাই উচিত- টুকুত করে ঘাড় নাড়লাম! আর দেব বাবু! হুড়ুমুড়িয়ে “ম্যাডাম জরা সাইড প্লিস” বলে নেমে গেল! জনগন বড়ই উল্লসিত বোধ করছিল!

সেটা প্রকশিত যখন হল ততক্ষনে মেট্রোর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে! দেব বাবুর ট্রেন বেড়িয়ে গেছে বুঝে অক্ষম আক্রোশে আমার পিছনের কাঁচের দেওয়ালে মারলেন এক ঘুসি। জানলার বরাত টরাত দেবার সময় বোধহয় ভাই ভাতিজা দেখা হয় না! তাই ভাংল না! আর আমরাও সমবেত সরে হাম্বা রবে ঘরের দিকে চলতে লাগলাম। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলাম “ভয় পেয়েছিলি?” বীর পুরুষ নিশ্চিন্তে ঘাড় নেড়ে মচাক করে শব্দ করে যা বলল তার পাঞ্জাবী করলে দাঁড়াবে “ইত্তা তো হোন্দাই রহেন্দা”।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s