(৩২)


মা ষষ্ঠীর অসীম কৃপায় আমার বাড়িতে একজন নতুন অতিথি এয়েচেন। মানে মানুষ নয় যন্ত্রশকট এবং ছোটখাটো বলে fairer sex ধরছি-ওই যে একটা বিজ্ঞাপন ছিল না? একটা Dunlopillow-র মতো গাড়িকে দেখে ৪জন ঘরকা না ঘাটকা মহিলা ( যাদের Oil& Oley-র বিজ্ঞাপনে দেখি আর কি…) Heman, Heman বলে মুখ দিয়ে নানা রকম শব্দ করতে শুরু করেন- যা আমরা সেই ‘কাম সারসে’-র সঙ্গে associate করে থাকি আর কি।
তো আমারটি সে তুলনায় বেশ ছোট্ট খাট্টো- ইয়ে মানে আমি গাড়ির কথা বলছি- অন্য দিকে একদম মন যেন না যায় ( দুষ্টু!!)। আর লাল টুকটুকে রঙ- তো তাকে যখন প্রসূতিগৃহ থেকে আনতে গেলাম তখন সবাই বেশ চকোলেট ফেট খাইয়ে পটকা ফটকা ফাটিয়ে অভিবাদন জানালো আর মনে মনে বলল, “এবার লাও, ঠ্যালা সামলাও- আর হাফপ্যান্ট পড়ে ঘো্রো”।
এই হাফ প্যান্ট পড়াটার একটা অন্য গল্প আছে-ছোটোবেলায় আমাদের পাড়ায় দাদা স্থানীয় ব্যক্তিদের দেখতাম বেশ বারমুডা বা হাফ প্যান্ট পড়ে ন্যাদা ন্যাদা চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে- কাকতালীয় ভাবে সকলেরই সদ্য মেয়ে হয়েছে। তাই হাফ প্যান্ট পড়ার কারণ হিসাবে মেয়ের পিছনের খরচকেই দেখা হচ্ছিল। তা এখন তো যুগ পাল্টেছে- ছেলের শখ আহ্লাদের পিছনে খরচ বেশী- মেয়েগুলো অনেক দায়িত্ববান হয় (ব্যাকরণটা ঠিক হলো তো?)( আর এটা মহিলা পাঠকের থেকে সহানুভুতি পাবার জন্যই লিখলাম আর কি)।
যাই হোক আমার পুত্র সঙ্গে গেছেন তার বোনকে নিয়ে আসার জন্য, তিনি যারপরনাই আহ্লাদিত- বিবাহ মন্ডপে মাতব্বর বড় দাদা- যার দ্বারা কিসসু হয় না, তেমন মুখ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এক শুভানুধ্যায়ী বন্ধু এসে হাজির হলেন- সঙ্গে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাবার জন্য- তা তাকে বললাম না শুরুর কাজটা আমিই করি। যেমন বলা তেমন কাজ- স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে সেলসম্যানটি বেড়িয়ে এসে বলল “আসুন”।
আমি গর্বিত বাপ, গিয়ে বসলাম- মাথা উঁচু পেট ঢুকিয়ে টানটান করে। হতচ্ছাড়া সেলসম্যান স্টিয়ারিংটাকে উলটে রেখেছে আর নতুন ধাঁচের গাড়ি বলে বুঝতে পারি নি- ব্যাকরণ মেনে ক্লাচ টিপে গিয়ার মেরে দিয়েছি এক্লিলেরেটরে চাপ- আর যায় কোথা- তড়াক করে ছুঁচোবাজির মতো গাড়ি গেল ঘুরে আর ছুটলো দেওয়ালের দিকে-কোন রকমে স্নায়ু হাতে করে ব্রেক মেরে ঠান্ডা করলাম। নেমে গিয়ে দেখলাম, আহা টাইমিংটা একদম স্টিভ মার্টিনের মতো-দেওয়ালকে চুমু খেতে যে জায়গাটুকু বাকি, অনায়াসে সেখানে নিজের নখ ফাইলিং করিয়ে নেওয়া যায়। যাই হোক আমার বন্ধু আমাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলার আগেই বুঝে গেলাম যে এ মেয়ের মন বড়ই উড়ু উড়ু- পিক আপটা বড়ই বেশী।
তা যাই হোক বাড়ি আসার একটু আগে থেকে আবার মেয়ের কান ধরলাম- দেখলাম একটু আধটু কথা শোনে। সন্ধ্যা বেলায় হলো এক কেস। ছেলের আবদারে নিয়ে বেরোলাম একে অন্ধকার তার উপর রাতে কখনো চালাই নি তার উপর বৃষ্টি পড়েছে- ব্যাস গাড়ির কাঁচে যত রাজ্যের কুয়াশা এসে জড়ো হল- তখনো কল কব্জার সঙ্গে অতটা পরিচিত হই নি, ব্লোয়ার খুঁজে পাওয়া গেল না।হাত দিয়েই কিছু সাফ করে এগোলাম। হঠাত দেখি একরাশ গরু মোষ ষাঁড় পথ জুড়ে হিজরাদের মতো বসে আছে। আমি তো তাদের কাটিয়ে কুটিয়ে বেড়োতে গিয়ে এক্কেরে ঘর্মাক্ত কলেবর হয়ে পড়লাম। তবে আগে থেকে হিজরাদের অভিজ্ঞতা ছিল ( গতবার আমাকে গোবিন্দা আর আমার বউদেবীকে মমতা কুলকার্ণী বলে পট্টি পড়াতে এসেছিল- আমিও কম যাই না- পার্স থেকে টাকা বার করে রেখে দিয়ে ৬০০ টাকা নিয়ে গিয়ে হাঁউ মাউ করে ম্যানেজ করে দি।) তাই কোনো রকমে পেরিয়ে গিয়ে তারপর দেখি উল্টোদিকের গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে আমার মেয়েকে চোখ মারছে আর আমার চোখ যাচ্ছে ঝলসিয়ে! সে একদম উলু উলু অবস্থা। যাকগে- ভগমানের দয়ায় নার্ভটা ঠিক ঠাক থাকে বলে কোনোরকমে বাড়ি অব্ধি এসে পৌঁছলাম।

তাই সেই ইস্তক বেশ দৌড়োদৌড়ি করে যাচ্ছি। মেয়ের বাপ হওয়া তো মুখের কথা নয়। আজ সকালেই ধরুন। এমনিতে বশে এসেই গেছে- কিন্তু কি হলো- একটা স্কুল বাস দাঁড়িয়ে ছিল পিছনের পা টা একটু তুলে একটা হাম্পের উপর- আমার মেয়ে করলো কি অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে ছুট লাগালো তাকে চুমু খেতে- সেও দেখ সে রকম রসের নাগর! কুড়ুত করে পিছনের চাকাটাকে নীচের দিকে হড়কে দিল- কিছু একটা হতেই যাচ্ছিল যাতে কি না সেন্সর বোর্ডকে ছুরি কাঁচি নিয়ে আসতে হয়! কিন্তু হাজার হলেও বাপ কি না! দ্বায়িত্ব তো থেকেই যায়। শেষ মুহুর্তে কান ধরে ঘুরিয়ে দিয়ে শুধু বাঁ গালে চুমু নিয়েই ক্ষান্ত হলো। আমিও মোটামুটি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম- তবে কিনা প্রচন্ড শব্দ করে চুমু তো- ভাবলাম বাস বাবাজি বাঁ চোখটা পর্যন্ত শুষে নিল কি না। বাড়ি অবধি পৌঁছে দেখলাম একটা সুন্দর টোল পড়েছে! কি সোন্দর দেকতে নাগচে আমার মেয়েটাকে! দেখি যদি পরে কোনোদিন একটু প্লাস্টিক সার্জারি টার্জারি করিয়ে নি! হাজার হোক মেয়ে বলে কথা- কলঙ্ক নিয়ে কি বাঁচা যায়? কি বলুন?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s