(৩৪)


আমার এক মামা থাকেন ম্যাঞ্চেষ্টারে, এক মামা থাকেন বেহালায় আর এক মামা আগে টরেন্টোতে থাকতেন কিন্তু এখন থাকেন সল্টলেকে… দুঃখিত আমি কিন্তু আমার ঠিকুজীকুষ্ঠি খুলে বসি নি, এটাও বলতে বসি নি আমি একদম মামাভক্ত বিন তুঘলক। কিন্তু মামারা আমার খুব ভক্ত হন, মানে দেখলেই কেন জানি না অটোগ্রাফ নিতে ছুটে আসেন। আমি অবশ্য আজকাল খুব অটো চালাই- মানে বাংলার অটো নয় ইংরিজির AUTO- সে দু চাকাই হোক বা চার চাকাই হোক। চাবি ঘুরিয়ে ক্লাচ টিপে এক্সেলেরেট করলেই হই হই করে বিখ্যাত হয়ে যাই। অন্তত এ কদিন হচ্ছে।

এই যেমন ধরুন গত বৃহস্পতি বার- আমার বাবার শুক্রবারে কোনো কাজ ঠিক করে হয় না-আমার হয়তো বৃহস্পতি বার হবে। মানে সেদিন চারচাকা চালিয়ে অফিসে গেছি। পরের দিন ছেলের জন্মদিন, লক্সমি নগরের মুখে একটি বিখ্যাত কেকের দোকানের সামনে দেখি দুটি গাড়ি দাঁড়িয়া আছে ঠিক ততটুকুই ফাঁক রেখে যতটুকুতে আমার গাড়িটে সুন্দর ভাবে খাপে খাপ বুদ্ধুর বাপ হয়ে যায়- সম্মানিত বোধ করলাম। আমি মনে করি কেউ কিছু অফার করলে (ঘুষ ছাড়া) সেটা না নেওয়াটা পাপ, অপরের মনে দুঃখু দেওয়া হয়। ভদ্রলোক হয়ে তো সেটা পারি না। এক্ষেত্রেও বিমুখ করলাম না।

‘পাঁচ মিনিটের ব্যাপার তো’ ভেবে গাড়িটি সুড়ুত করে সেখানে হড়কে দিয়ে দোকানে ঢুকলাম স্ট্রবেরী কেকের অর্ডার দিতে। এটা বোধহয় সেই বিলি এলিয়টের মতো কেস, কোনো পুরুষমানুষের যে স্ট্রবেরী ফ্লেভার পছন্দ, সেটা নিজের ছেলেকে না দেখলে বিশ্বাস হতো না।

তা অর্ডার দিয়ে খালি দরজার দিকে ঘুরেছি, এই ভেবে যে তাকালেই গাড়িটাকে দেখতে পাবো। ওব্বাবা, দেখি নেই দৌড়ে বেড়িয়ে দেখি মামাগণ তাদের ক্রেন নিয়ে আমার অটোগ্রাফের জন্য অপেক্ষা করে থেকে থেকে কিছু না পেয়ে চারচাকাকে দুচাকা করিয়ে নিয়ে পগাড় পার হবার প্ল্যান করছে। ছুটতে ছুটতে গিয়ে ধরলাম- বেড়িয়ে গেলে পড়ের দিনে ছেলের জন্মদিন বেকার হয়ে যাবে যে।

দেখি একটা ভদ্রসন্তান মামা সেজে বসে আছে- তাকে গিয়ে বললাম ‘গাড়ি নামাও ভাই’ কিন্তু সে তো একনিষ্ঠ মামা, বলে ‘উঠে গেলে নামে না- শকরপুর (ঘটনাস্থল থেকে কিমি ৩এক দূরে) থানায় এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যান’ এক মামাতেই মামদোবাজী!

তাকে কপাত করে সেন্টু মেরে দিলাম যে ভাই তুমি ফাইন নাও কিন্তু গাড়ী দাও। বলে, “না, সেটা তো আমার কাজ নয়, আমার কাজ তোলা- নামাবে অন্যলোকে”। বাপরে সবাই যদি এমন মন দিয়ে নিজের কাজ করতো…কিন্তু আমার তো নিজে সেন্টু খেলে চলবে না। তাই ফটাত করে কেকের রসিদ বার করে দেখালাম, এই দ্যাখ আমি এক ফোঁটা মিথ্যা বলছি না। তখন সে বুলি কপচাতে শুরু করলে, ‘কাউকে রেখে যাওয়া উচিত ছিল’। মনে মনে বললাম, হ্যাঁ তুই আগে এলে তোকেই দাঁড় করিয়ে রেখে যেতাম। কিন্তু খালা কাটারও সময় নেই যে। ততোধিক অমায়িক হেসে বললাম যে, ‘ছোটে বাচ্চে কা জনমদিন হ্যায়। কুছ তো খ্যার করো।’ বলে কপাত করে আমার প্রাণভোমরা আইকার্ডটা বার করলাম এই বলে যে, ‘সিনিয়র সে বাত করাও।’ পাঠক পাঠিকাগন সরকারি-বেসরকারি সমস্ত জায়গায় এই চারটি শব্দ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এখানেই কাজ হলো। সে কপাত করে একটা সরকারি খাতা বার করে এই ওই তাই লিখে টাকা কটা নিয়ে গাড়িটা ছেড়ে দিয়ে- ‘How to park a car in proper place’ ম্যানুয়াল ঝাড়া দেড় মিনিট অবধি তবে মুক্তি দিল। আর আমিও ভাবলাম দিওয়ালির সওগাত নেওয়া শুরু হয়ে গেলো লক্ষীপূজোর দিনই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s