(৪৪)


শেক্ষপীর বলে গেছেন “All the world’s a stage, And all the men and women merely players” অর্থাৎ, “সারা পৃথিবীর মঞ্চশালায়, তুমি শালা লাইটম্যান আর সবাই তোমার ভায়রাভাই”। ধুৎ কি যে বলি তার মাথা মুন্ডু কিসসু নেই…

মোদ্দা কথা হল আমরা জীবনের অভিনয় কত সহজে কত সুন্দরভাবে করতে পারি তার উপরে নির্ভর করে আমাদের উর্বর থাকা না থাকা… ছেলেবেলা থেকেই আমরা রোলপ্লে করে আসছিও। ছোট নাটক, বড় নাটক সারা জীবনটাই নাটক… কখনও পুত্র কখনও ভাই কখনও প্রেমিক কখনও বা পিতার ভূমিকায়… সফল বিফল জায়ফল পানিফল অভিনয় করে আসছি…

কয়েকদিন আগে মধ্য দিল্লীর এক বিজাতীয় বার্গারখানার বাইরে একটি পেট্রল পাম্পের গায়ে বাইক সাঁটিয়ে কপাৎ করে কটা আলুভাজা কিনে ফিরে এসে হেলমেট পড়ছি, পেট্রল পাম্পের এক এটেন্ড্যান্ট এসে গম্ভীর সে বলল, “ইয়ে বাইক রাখনে কি জাগা নেহি হ্যায়, হটাইয়ে… নেহি তো পুলিশ কো দে দুঙ্গা”। পুলুশ শুনলেই আবার আমার একটা স্বরচিত কবতে মনে পড়ে যায়ঃ
ওগো আমার পুলিশ
আমায় আলতো করে তুলিস
শ্যামলা এঁটে গামলাটাতে গোবর জল গুলিস
এক কুড়ি দশ নামতাগুলো এমনি এমনি ভুলিস
স্যাঁতস্যাঁতে দিন বাদলা হলে সাবধানেতে চলিস
কাদার ডোবায় ডোবার আগে খড়ম জোড়া খুলিস

ইত্যাদি ইত্যাদি এবং ইত্যাদি… তা থাক। মোদ্দা কথা হল কবতেটা মনে পড়তেই আমার চারপাশটা আশ্চর্য রকমের শান্ত হয়ে যায়, মন্দিরে ঘনটা বাজতে থাকে, আমার ডান হাতটা বরাভয় মূর্তিতে আপনা আপনিই উঠে যায় এবং মুখে সব পেয়েছির দেশের মতো একটা স্মিত হাসি আধখাওয়া বিড়ির (এমা ছি আমি বিড়ি টিড়ি খাই না!) মতো ঝুলতে থাকে।

এবারও সে রকম কিছু হল, এবং আমি বিড়ি মুখে… থুড়ি হাসি মুখে বললাম, “পতা হ্যায়, দো মিনিট কে লিয়ে গয়ে থে… কাম হো গয়া…”

কিন্তু সে শুনবে কেন? অপাংক্তেয় জীব , এত বড় আস্পদ্দা বাইক খাড়া করে চলে গেছি… সে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার সহকর্মীর মাছের চোখের নজর আমার হাতের ক্যামেরার বাক্সটি এড়িয়ে যায় নি এবং তার অনবদ্য ইমাজিনেসন দিয়ে মানসচক্ষে আমায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসাবে ধরে ফেলে। (ইসস একটা রোলপ্লে যদি ঠিক ঠাক করতে পারি) তৎক্ষণাৎ তার সহকর্মীকে সে জ্ঞানদান করে বিনি পয়সায়, “আরে হামনে ইনকো টিভি মে দেখে হ্যায়” আমার দিকে তাকিয়ে সমর্থন চায়, আমি মুচকি মুচকি না ঘরকা না ঘাটকা হাসতে থাকি অর্থাৎ “অশ্বত্থামা হত ইতি গজ”।

সে যা বোঝার বুঝে নেয়, এবং অনুরোধ করে এক ফোটো আগর খিঁচ দে তো… আমি তো তখন একবাটি মাংস আর দুটি রুটি… মানে শ্রী রামকৃষ্ণের কল্পতরু মূর্তি… রীতিমতো পোজ মারিয়ে ছবি তুলে দিলাম…

প্রথম এটেন্ড্যান্ট এতক্ষণে নিশ্চিত হয়েছে যে সেও আমায় দেখেছে, কিন্তু ঠিক কোথায় মনে করতে পারছে না… সেটা আমায় জিজ্ঞাসাও করল, কিন্তু তখন আমি তো মৌনী বাবা… সেই বিড়ি জ্বালাইলে হাসি মুখে নিয়ে তার দিকে তাকাতে তাকাতে বাইক চালু করলাম… সে শশব্যস্ত হয়ে পড়ল, “ আভি জায়েঙ্গে কেয়া? আরে রাখিয়ে না রাখিয়ে না বাইক… হাম হ্যায় না দেখেঙ্গে তো… কোই টেনশন নেহি…” কিন্তু তার বন্ধু তাকে বোঝালো, “সাবকা কাম হোগয়া… কাল ফোটু আয়েগা না সাব?” আমি তখন মোনালিসা…

বেরিয়ে পরলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, ডিকিতে তখন গরম গরম আলুভাজা গজ গজ করছে।

পুঃ রামকৃষ্ণদেবকে কোনোরকম ভাবেই অপমান করি নি… ওটা চালু রসিকতা। তবে বলা যায় না গান্ধী আর গেরুয়ার দেশে কখন কার নরম মনে বর্শা বিঁধিয়ে বর্ষা নামাই। তাই ডিসক্লেমারের অবতারণা।

Advertisements

One thought on “(৪৪)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s