(১২)


শহরের প্রতিটি কোণ আজকাল সিনেমা হল- দুরদর্শনের কল্যাণে। সেলুনে জনগন হাল্কা হতে যায় হয়তো কিন্তু ভারি আবহাওয়া থাকলে কি হয়?কদিন আগে একটা দুরন্ত experience হল- ইঞ্জিরিতে যাকে বলে অভিজ্ঞতা।
নাপিতের পকেট ভারী আর আমার মাথা হাল্কা করতে গেছিলাম- গিয়ে দেখি একটা হিন্দি সিনেমা মার্কা হিন্দি সিনেমা চলছে- নায়ক নায়িকা ভিলেন ভ্যাম্প কাউকে চিনি না! কিন্তু তাতে কি? দর্শকদের উতসাহের অন্ত নেই- চুল কাটবে কি ফিলিমেই ঢুকে পড়ে পারলে।

আমি একটু চোখ বোলালাম- বোঝা গেল ত্রিকোণ প্রেম- পতি মশাই-এর accident হয়েছে তাই চাকা লাগানো চেয়ারে বসে আছেন। এদিকে পত্নীদেবী ও বন্ধুবরের মধ্যে ইন্টু মিন্টু সিন্টু আগে থেকেই ছিল- মানে বিয়ের আগে থেকে, যা হয় আরকি বাবা- মা মাসি পিসি পেয়ালা পিরিচ মায় পোষা কুকুরটার মন রাখতে পত্নীদেবী পতি মশাইকে বিয়ে করেছেন। বন্ধুবর আঁটি চুষবেন বলে স্থির করেছিলেন কিন্তু বিধি বাম! পত্নিদেবীর বিয়েতে গিয়ে কন্যা দান করতে বাকি রেখেছেন।

খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে কাল হল তার বন্ধুকে বাঁচিয়ে- বাঁচালি বাঁচালি কিন্তু পত্নীদেবীর সামনে এসে নেকুর মতো দাঁড়াও কেনো বাপু? বন্ধুবর পত্নী দেবীকে বললেন- “মেরে লিয়ে হি হুয়া হ্যায় ইয়ে- মায় তুম দোনো কি জিন্দেগীসে চলা যাউঙ্গা।’ কে শোনে কার কথা-পত্নী দেবী হাঁউ মাউ করে বলে উঠলেন- ‘দূর হো যাও মেরি নজরো সে-( এটা হুইলের এড ছিল বোধহয়।) যেন তুমি না থাকলে আমার বরের accident হতো না…।

পতি মশাই আবার এক কাঠি বারা- বলে ” ম্যায় অপাহিচ হুঁ ইন দোনো কে পেয়ার কে বিচ মে নেহি আউঙ্গা- ( যেন ড্যাং ড্যাং করে চলতে পারলে বুক ঠুকে হাড্ডি হয়ে বসে থাকতো।

বন্ধু চুপ চাপ চলে গেল- একটু confused ছিল! আগেই তো বলেছিল চলে যাবে- তাও শুধু মুধু ধ্যাতানি খেল।

পত্নী বিয়ের জোড় পড়তে গেল।( মরণ!)

পতি আবার কোথা থেকে ইঁদুরের বিষ জোগাড় করল -( এবার সত্যি সত্যিই মরণ!!)
মালটা বিষ খেয়ে হুইল চেয়ারে লাট খেয়ে পড়ে আছে আর পত্নী এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে- ক্যায়সি লাগ রহি হু ম্যায়!’ ( নেকু আমার)

তারপর বিশাল melodrama- ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছে- দেবী মা-র সামনে পড়ে কাকুতি মিনতি- মেরি পতিকো বাঁচালো- মেরি দোস্তকো বাঁচালো- মাকাল বন্ধুটাও এসে হাজির ঠিক সময়ে কোত্থেকে! তখন ডাক্তার বলে বসে একটা রাত ঘুমোতে দেবে না! বোঝো তাহলে নাকি বেঁচে যাবে! Man proposes God disposes
তার পর যা হবার তাই হল। পত্নী দেবী বিয়ের জোড় পড়ে নাচতে লাগলো- সেই বাসন্তি ইন কুত্তো কি সামনে মাত নাচনা…………।

তারপর আর সম্ভব হয় নি- নাপতেকে বললাম- বস, কাজে মন দাও আর ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কেঁদো না। সেও দেখি এতো emotional হয়ে পড়েছিল মন দিয়ে কথাটা শুনে tv বন্ধ করে দিল। আর আমিও যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব জেলখানা থেকে উদ্ধার পেলাম!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s