(১৪)

১৯ তারিখ এই কলমচির জন্মদিন ছিল- রাত বারোটা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল অভিবাদন/ অভিনন্দনের পালা।ছোটবেলা থেকেই একটা বেয়াড়া প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে এই যে, “Happy Birthday” “Happy Anniversary” এই বার্তাগুলো আর “Happy Diwali” বা “Happy New Year” এইসবের সঙ্গে পার্থক্যটা কি?

পাঠককূলকে আর বেশী মাথা চুলকাবার অবকাশ না দিয়ে বলেই দি যে সেটা শুধু মাত্র প্রতি অভিবাদন-এ। প্রথমগুলির উত্তরে কক্ষনও আপনি “Same to You” বলতে পারবেন না, অথচ দ্বিতীয়গুলির উত্তরে অনায়াসে “Thanx” ইত্যাদি বলে দেওয়া যায়।
জন্মদিনগুলো আবার টেরা ব্যাঁকা সওয়াল জবাব চেয়ে বসে। ছোট বেলায় তো ঠিক আছে, একটু বয়স হলে প্রশ্ন “কত বছর?” “কটা বাতি হল?” সবাই তখন CBI-এর বড় বাবু। মেয়েদের আরও সমস্যা! একে তো শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে একজন মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন (জনশ্রুতি ছিল সেটা নাকি অসম্ভব, মেয়েদের বয়স তো ৩৫ হয়ই না কদাপি!!) তবুও কেউ যদি উপরোক্ত প্রশ্নাদি কোনো মহিলাকে করে বসেন তাহলেই তো চিত্তির। মোমবাতি লুকোবার জায়গা থাকে না।
আরো কিছু অসুবিধা আছে- অভিবাদন জানালাম তো Party দিতে হবে, কি আবদার, জন্মালাম আমি, বড় করল মা বাপ আর ত্রিভঙ্গমুরারিরা কোথা থেকে এসে হাজির- গেলাও- বলে। যেন আমার জন্মানোতে তাদেরও বিশাল বড় যোগদান রয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরো একটি বাজে ব্যাপারের অবতারনা করি- কেউ ধরুন একটা কিছু কিনল গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে। তাকেও Party প্রদান করতে হবে! কোথায় তার পকেট খালি হবার জন্য সুমিত্রের মতো তাকেই মাস খানেক খোরাকি প্রদান করবে তা নয়, বালখিল্যের মতো আবদার “Party দাও”।
উপহার নিয়ে আর কি বলব? পোড়ার দেশে জন্মেছি উপহার হল মানুষের Status Symbol। দিল্লী টিল্লীতে তো আবার রীতিমতো কাগজে কলমে হিসাব রাখা হয়। মা গো! অনেকে আবার হিসাব করে, প্লেট প্রতি এত খরচ হল আর gift পেয়েছি এত টাকার।
বুড়ো বয়সের জন্মদিনের আবার বেশ মজা! রাজনীতিক বা বিখ্যাত ব্যাক্তি (রাজনীতিকরা কি বিখ্যাত না কুখ্যাত? কে জানে?) নাহলে উপহারের বালাই নেই! উপরন্তু খ্যাঁটন জোগাতে জান কাবার।
এত বাক্যি নষ্ট করার পিছনে কারণ হলো নিজেকে একটু বিব্রতই লাগে যখন সবাই মিলে এত ভালবাসা দেয়। হোক না সাধারণ জন্ম- একটা দিন নিজেকে একটু অসাধারণ ভাবতে কার না ভাল লাগে বলুন দিকি?
তবে একটি ঘটনা দিয়ে আজকের কাহিনী শেষ করি- কাল আমার বাহনের চাবিটি হারিয়েছিল- চাবির গোছায় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকায় মন খারাপ ছিল- উপরন্তু, বন্ধুর গাড়িতে বাড়ির কাছ অব্ধি পৌছে ১ কিমি খানেক হাঁটাটা নিশ্চয় খুব সুখের হয় নি! আজ অফিসে এসে বাইকের উপর দেখি কেউ ফোন নাম্বার লিখে রেখে গেছে যে আমার চাবি তার কাছে- ফেরত পেয়ে আবার মনে হল- মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ!

আর প্রথমে যে প্রসঙ্গ টেনেছিলাম যে কেউ wish করলে আপনি “same to you” বলতে পারবেন না- সেটা ভুল প্রমাণিত করে কলকাতাবাসী এক বন্ধু এসএমএস করে শুভেচ্ছা জানিয়ে। আমি কিন্তু তাকে “same to you” বলে দিয়েছি। তারও একইদিনে জন্ম হয়েছিল। এখন আত্মশ্লাঘা অনুভব করছি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s