(১৯)


IPL বা Indian Premiere League, নিয়ে এখন আদিখ্যেতা/ উত্তেজনা (যার যেটা পছন্দ, মনে ভরে নিন)এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে- বাঙ্গালীর প্রিয় দাদাবাবু এই উপরে ওঠেন তো এই নামেন। তবে নাগরদোলাটা ওনার অভ্যেস হয়েই গেছে বোধ হয়। বেশ কিছুদিন ধরে কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তি, গোদা বাংলায় যাদের বলে পিউরিটান- তারা কাঁই মাই করছিলেন যে এটা সার্কাস, ক্রিকেট নয় ইত্যাদি- তারাও এখন মনে হয় নাগরদোলার সওয়ার হয়েছেন। মানে মনে মনে ক্রিকেটটাকে সার্কাস মনে করেই বাঁদরনাচন উপভোগ করছেন- অন্তত দূরদর্শনে তাদের প্রগাঢ় গুরুত্বপূর্ন আলোচনা শুনে তাই মনে হয় যে- সার্কাসের রিং মাষ্টার হতে কারুর-ই আপত্তি নেই। আমাদের মাননীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়-ও একদিন দুড়ুম করে বলে বসলেন যে এটা শুধু মাত্রা ব্যাটধারীদের খেলা ইত্যাদি। মতামত থাকা ভালো তাহলে এসিডিটি কম হয়, কিন্তু যেই মাত্র তাঁকে কমনওয়েলথ গেমস নিয়ে প্রশ্ন টশ্ন করা হয়- গতে বাঁধা উত্তরে ফিরে যান- খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সবাই দারুণ কাজ করছেন, আমি অবগত নই, ইত্যাদি।
যাকগে গৌরচন্দ্রিকায় কাজ নেই, ২৯শে মার্চ প্রথম IPL-এর ম্যাচ দেখতে গেলাম, ফিরোজ শাহ কোটলার বুকে। প্রথম এবং শেষবার কোটলায় খেলা দেখতে গেছিলাম ২০০১-এ। কমপ্লিমেন্টারি পাস নিয়ে ধুলোর ঘাসে গার্ডেন চেয়ার নিয়ে বসে। লাঞ্চে আমার সানগ্লাসটা পুরোপুরি সাদা হয়ে গেছিল আর বাড়ি ফিরে সন্ধ্যে বেলায় দিন পাত্তি শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুতে হয়েছিল- তারপর জমাদার ডেকে বাথরুম পরিষ্কার করাতে হয়! এত ধুলো জমা হয়ে গিয়েছিল। তা সে তো ব্রিটিশ জমানার কথা- এখন তো বন্দোবস্ত অতি উত্তম হয়েছে, সুযোগ সুবিধা প্রভুত। সুন্দরী রমনীরা আশে পাশে ঘোরাঘুরি করেন- তাদের শাহরুখকে দেখতে বেশী আগ্রহ- আর তাই করতে গিয়ে যদি শেহবাগের মারা ছক্কা মাথায় পড়ে তাহলেও কুছ পরোটা নেহী। খেলার মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে ক্যামেরার দিকে হাত নাড়া, ওভারের মধ্যেই সামনে দিয়ে চলাফেরা করা- সবই চলতে থাকে। এদেরকে মাঠমুখো করার জন্যই তো এত পয়সা খরচ করে তথাকথিত সার্কাস হচ্ছে।
বিশাল কর্মকান্ড- নিরাপত্তার ব্যবস্থাও প্রচুর। নিরাপত্তা কর্মীরা সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধার দিকে প্রভুত নজর দেন- এবন নিজ নিজ উত্তমর্ণ অধিকারীদের তোষামোদ করতে গিয়ে কত যে কাজ করছেন তা দেখাবার জন্য উদবেগ হয়ে পড়েন। তা এমন-ই এক কন্দর্পকান্তি নিরাপত্তা রক্ষী, যাঁকে সঞ্জীব কুমারের মত দেখতে এবং যাঁর সঞ্জীব কাপুরের মতো গোঁফ, তিনি ওয়ার্নার-এর সেঞ্চুরীর ঠিক আগে আগেই উত্তেজিত হয়ে নিজ কর্মে অতি উতসাহে রত হয়ে পড়লেন- কোথায় কোথায় সিট তখনো খালি আছে সেগুলি খুঁজে বার করে সতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তদাপি দন্ডায়মান অধিকারীদের পরিবার, যাঁরা খেলা দেখার থেকেও সার্কাসের শরীক হতে বেশী এসেছেন তাঁদের বসাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে পড়লেন
এক দু বার বলার চেষ্টা করলাম, যে একটা ওভার শেষ হলে তারপর নাহয় কাজটা করা যাক। কিন্তু গরীবের কথা জনগন বিশেষ শোনে না- বিশেষত চারিদিকে যখন চাঁদের হাট। তাই সঞ্জীব বাবুও পাত্তা না দিয়ে নিজ কাজে লিপ্ত থাকলেন। ওয়ার্নার ৯৯ ল্যাঙ্গেভেল্ট বল করতে আসছেন আর সঞ্জীব বাবু আমার সামনে দাঁড়িয়ে জুবিন মেহতা(না, জয় বা জুহী মেহতার কেউ নন ইনি)হাত পা নাড়াচ্ছেন- মাথার উচ্চিংরেটা নড়ে চড়ে উঠলো-
বত্রিশ পাটি বার করে (যে ভাবে সুপ্রিয়া দেবী, বা অধুনা করিণা কাপুর গানের লিপ দেন আর কি!) বলে ফেললাম- স্যরজী, আপ বহুত সুন্দর হো, কিতনা বড়িয়া কাম করতে হো- চলতে ভি কিতনা মস্ত হো! মগর গলত জাগা পে আ গয়া, ইয়ে র্যা ম্প নেহী ক্রিকেট ময়দান হ্যায়। ওভার খতম হোনে তক ইন্তেজার করতে তো অউর ভি সুন্দর লাগতে।
আশপাশ থেকে ছেলে ছোকরা আওয়াজ দিতে থাকল- লে লিয়া, লে লিয়া।
ব্যাস, গম পেকে বেগুনী, কান লাল- ফিচিং করে লাজুক হাসি দিয়ে সঞ্জীব বাবু পালালেন। ম্যাচ চলাকালীন আর দর্শন দিলেন না। দিলে ওনাকে বলে দিতাম ইন্ডিয়া ফ্যাসন উইকটা মুম্বইতে হচ্ছে, দিল্লীতে নয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s