(২০)


Height of innocence: a pregnant woman buying two tickets.
Height of inquisitiveness: peeping through the key hole of a glass door
Height of optimism: A bald man keeping a comb in his back pocket
Height of Coffee Drinking: ……………………….(দীর্ঘশ্বাস)
আজ সকালে পূর্ব দিল্লীর একটি অভিজাত এলাকার কফিশপে গিয়েছিলাম জরুরী মিটিং-এর জন্য (দুর্জনেরা আবার মিটিংটাকে অন্য কিছু ভাববেন না- ফালতু কাজের সাথে সাথে লেখককে একটু আধটু কাজ কর্ম-ও করতে হয়)। কফিশপ- ক্যাফে কফি ডে। তা ঢুকেই দেখি যে সেথায় এসি চলছে না এক বাঙালি মহিলা তাঁর বন্ধুর সঙ্গে বসে থেকে ক্রমাগত উপস্থিত কফিসেবকের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন(বাঙলাতেই কথা বলছিলেন, যেই বুঝলেন আমরা বুঝতে পারছি, কেন কে জানে ঘাবড়ে গিয়ে হিন্দিতে এবং ইংরাজিতে বলতে শুরু করলেন)। বাইরে ফ্যাট ফ্যাটে রোদ্দুর তাই আবার অন্য কোথাও গিয়ে বসার ইচ্ছা বিশেষ ছিল না! দিল্লী জোগাড়-এর শহর, তাই তাপ্পি দিয়ে কাজ চালানোই স্থির করা হল। বাইরে এ সি চলছে না তো ভিতরের একটা কেবিন-এ দেখা গেল দেওয়াল পাখা আছে সেখানেই বসলাম! চারজনে বসে ঠিক ঠাক কোণ মেপে দেওয়াল পাখাটিকে সেট করতেই ঘাম ছুটে গেল- দড়ি টানলেই ফকাত করে ভুল জায়গায় বন্ধ হচ্ছে।

সেই কাকাতুয়ার কথা মনে পড়ে গেল- যে খুব গালাগাল দিত বলে গুরুদেবের কাছে পাঠানো হল শিক্ষার্থে- ফিরে এল যখন এক পায়ে লাল আর আরেক পায়ে নীল ফিতে- লাল ফিতে টানলে বলে ‘হরে রাম’ নীল টানলে ‘হরে কৃষ্ণ’। মালিক মনের সুখে টানতে শুরু করেছে- কাকাতুয়ার অস্তিত্ব বিপন্ন- ডানা ঝাপটিয়ে বলে উঠল- ‘বা*** আর জোরে টানলে তো পড়ে যাব বে!’

যাই হোক, তারপর অর্ডার দেওয়া হলো-চিকেন স্যান্ডুইচ। কিছুক্ষন পরেই দেখি কাউন্টারের ওপার থেকে ধোঁয়া বেড়োচ্ছে। আশঙ্কা নিয়ে উঁকি মারতেই দেখি স্যান্ডুইচমেকারটি তেতে পুড়ে কালো হয়ে গেছে(স্যান্ডুইচমেকার বলে কি আর মানুষ নয়? গরম তো ওদেরও লাগে, না কি?) আর অবিকল সিলভেস্টার স্ট্যালোনের ক্লিফহ্যাঙ্গার চিনেমার মতো দুটি স্যান্ডুইচ স্যান্ডুইচমেকার-এর উপর প্রান্ত থেক ঝুলছে! ইয়ে ফেভিকলকা মজবুত জোড় হ্যায় টুটেগা নেহি। আমাদের হা পিত্তেশ করার কোনো সুযোগ না দিয়ে কফিসেবক ইয়াব্বর একটা চাকু নিয়ে কসাইএর মতো জবাই করে দিলে সেটাকে- তারপর চেঁচেপুচে সাফ করে দিল- ক্রাইমের পরে চিহ্ন রেখে যাওয়া দুর্বলতা। পানীয়ের অর্ডারের সময় সবাই সোজা সাপ্টা জিনিস চাইল- ক্যাপুচিনো (নাহ আল পাচিনো-র কেউ নন) অথবা (লেমন টি)- আমি একে দড়ি টেনে খাল্লাক অর্ডার দিলাম ফ্রোজেন ব্ল্যাক কফি (একটা টোবলা গাল নাম ছিল- জীভ ছরকুটে যাবার ভয়ে আর বললাম না এখানে)। তা সবার পানীয় এসে গেলেও আমারটা আর আসে না। এমনিতেও বেয়াল্লিশের উষ্ণতায় (দোহাই! আমি আরেকটু কচি) এক জায়গায় বসে থাকা দায়। থাকতে না পেরে কিচেনে ঢুকে গেলাম! দেখি প্রচন্ড ঠান্ডায় কফিশেকারটার ঢাকনা গেছে আটকিয়ে- কফিসেবক ছেলেটি কিছুতে খুলতে পারছে না(কিচেনের এসিটি চলছিল, অবশ্যই)।

আমার তখন বেজায় তেষ্টা পেয়েছে- বললাম গরম পানি লে আও! সে অমনি কফি ডিস্পেন্সার খুলে দিল আর কল কল করে গরম জল পড়তে লাগল! ডিস্পেন্সারটা কিছুক্ষণ তার নীচে ধরে যেই ঝাঁকিয়েছি- ফুরুত করে ঢাকনা খুলে ছেলেটির সেন্সর্ড জায়গা দিল ভিজিয়ে। বিষম টিষম খেয়ে কোনরকমে অদ্ভুত দেখতে পানীয়টি নিয়ে এল-খেয়ে গলা ভিজলেও মন ভিজলো না। তাই পরের বার কোনো সু্যোগ না নিয়ে ছেলেটিকে বললাম ম্যায় হি বনাতা হুঁ কোল্ড কফি। ছেলেটি এমনিতেই একটু ঘাবড়ে টাবড়ে গেছিল- তাই আর কিছু বলল না! বাধ্য ছেলের মতো জরুরী জিনিষগুলি এগিয়ে টেগিয়ে দিল আর আমিও চাকুরিতে যদি কোনোদিন একঘেয়েমি এসে যায় তাহলে alternate careerএর রাস্তাটা বেশ পাকা পোক্ত করে এলাম।

ওঃ বলা হয় নি এ সিটা চলছে না দেখে একটু কেরামতি দেখাতে গেছিলাম…… সুবিধা করতে পারি নি বিশেষ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s