(২৫)


একটা ফুটবলের মতো মস্তিস্ক ওলা লোক পা তুলে জড়সড় হয়ে বসে আছে আরেকটা সোমেন গুন্ডার মতো দেখতে ষন্ডামার্কা লোক পায়ের কাছে সাষ্টাঙ্গ হয়ে আছে ভর দুপুরে-এমন দৃশ্য দেখলে কার না আনোনা বিরিয়ানী হজম হয়ে যায়?

একটা লোক পাঁচ মাস ধরে আওয়াজ দিচ্ছে বিরিয়ানী রাঁধবে বলে আর রেসিপির বর্ণনা দিতে গিয়ে দই গিয়েছে ভুলে- সেটা কার কপাল খারাপ- বিরিয়ানীর না কি হাঁড়ির?

একজন দাদামনি স্থানীয় ব্যক্তি কারুর বাড়িতে এসে বলছেন যে ছাতাওলা ছাতা বেচার সময় বলে দিয়েছে যে “দেখবেন যেন ছাতা না ভেজে”।

একজন পাঁচমাস ধরে চিড়িয়াখানার জন্তু দেখার মতো করে লাফাচ্ছে বাড়িতে একটা মুশকো মাল এসে বিরিয়ানী রাঁধবে অথচ সকাল বেলায় চাল আনতেই গেছে ভুলে। টেনসনে বাথরুমে ঢুকে হেইসান গান গেয়েছে জল আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেছে- এক বাড়ি ভর্তি মহিলার সামনে করুণ অনুরোধ শোনা যাচ্ছে যে “পাম্প চালাও বেড়োতে পারছি না”! কোথায় গিয়ে আটকেছিল কে জানে?

একজন কমবয়েসি মহিলা এসে হঠাত করে খাটের পায়া ধরে বসে পড়ল এমন ভাবে যেন এভারেষ্ট জয় করে এসেছে- হাঁপিয়ে একশো।

হঠাত কলকল করে একঘর মামনি টাইপের মহিলা ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে সারস খুঁজতে শুরু করল- যেন মানেকা গান্ধীর ভাবশিষ্য কারুর বাড়িতে বেআইনী সংরক্ষিত পাখী রাখা হয়েছে খবর পেয়েছে!

একটা ডেঁপো মেয়ে যে মাঝে মাঝে কাটা টিউবের চোক হয়ে যায়- মানে ফিস ফাসের মধ্যেও মানে খুঁজতে যায় আর কি সে ঝাড়া আধঘন্টা সারসকে দেখে- বাবা সারস টি শার্ট পড়ে? আবার দুহাতে(ডানা হবে বোধহয়!) খুন্তি নিয়ে কড়াইএর সঙ্গে কুস্তি করে?

একটা সাত কান্ড রামায়ণ পড়া ভাজা মাছটুকু উলটে খেতেই খালি জানা ছেলে বিছানায় বসে ত্রিভঙ্গমুরারী মুর্তিতে লাল রঙের খেলনা বন্দুক হাতে নিয়ে গুলি ছুঁড়ে যায়- কথা বলতে গেলে স্লেটের সাহায্য নিতে হয় ( সেই যে মাঝে সাঝে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আপনার হাতে ওষুধের প্রেস্ক্রিপসন ধরিয়ে দেয় না? সেই রকম)। আর টুপুত করে দাদামনির পাশে বসে পড়ে- এই বলে “মেসোমনি গুজবে কান দেবেন না!”

মেসোমনি থুড়ি দাদামনি হঠাত নিজেকে সারসের উচ্চতার সমান ভাবতে আরম্ভ করেন-এবং সেটা যে শারিরীক উচ্চতা, মানসিক নয় সেটা ভুলে যান- তারপর চেয়ারে বসে লাগা চুনরী মে দাগ গাইতে শুরু করেন অথচ ছাতাওলার উপদেশ মেনে দাগ থেকে বাঁচবার জন্য ছাতা খোলেন না।
এক ‘অতি বড় বৃদ্ধ ব্যক্তি সিদ্ধিতে নিপুন’ নিজেকে লালনের চেলা বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে হারমোনিয়াম কাঁপিয়ে ঝাঁ ঝাঁ জামাইকা ফেয়ারওয়েল গাইতে শুরু করেন।
আর গৃহকর্তা হাঁকডাক করে হুকুম করতে থাকেন ‘রান্না হলো?’ বলে। অথচ নিজে কুটোটি নাড়েন না- বললেই বলেন হারমোনিয়াম বাজাচ্ছি যে। দুটো লাতিনো বাচ্চা দুড়ুম দাড়ুম করে ফুটবল পেটাতে শুরু করে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে।
গৃহকর্তার চাকা খুলে গেলে সিগারেটের সমাধিক্ষেত্র হিসাবে প্রদান করেন। আর সহস্র সিগারেট জাটিঙ্গা পাখীর মতো সেই সমাধিতে নিমগ্ন হতে থাকে। পাশ থেকে হাতির ‘অই’টার মতো চুরুটের সাইজের ল্যাংচাগুলোকে সারস ছোঁ মেরে উড়িয়ে নিয়ে যায়!
আগুন মাঝে মাঝে নিজের মর্জি মাফিক ব্যবহার করতে থাকে! পেঁয়াজ নিজের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদ করে প্রথমে পুড়ে যায় তার পরে দেড় ঘন্টা ধরে তিন রকম আগুনে ভাজা ভাজা হয়!
দইহীন মাংস একবার হাঁড়িতে একবার কড়াইতে একবার প্রেসার কুকারে খেপ খেলতে থাকে- দর্শকদের প্রভূত টিটকিরির মাঝে!
বিরিয়ানী রান্নার সঙ্গে সঙ্গেই ফুরুত করে উড়ে যায় ছবি হবার সময় পায় নাসঙ্গে নিয়ে যায় চাটনী আর রেজালাকে, সারস বিরিয়ানীর ‘ব’ বোঝে না বলে দর্শকদের পূর্ববর্তী আওয়াজ শুধু মাত্র কবজি আর জিভের ‘স্লারপ’ শব্দে রূপান্তরিত হয়।
মাঝে যা হবার তাই হয়-প্রতিটি বাঙালীর গলায় মা সরস্বতী ভর করার চেষ্টা করে- গৃহ কর্তা কাঠের পুতুলের মতো ‘অমন তাকিও না’ অভিনয়ের চেষ্টা করেন! কার্টুন বইএর ক্যারেক্টার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তবলা বাজাবার চেষ্টা করেন। পানউলি পান নিয়ে দরাদরি করেন। পদিপিসে এবং সোমেন গুন্ডা নিজেদের অভিনয় ক্ষমতা প্রদর্শন করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। ভিজেমনি চোখ বন্ধ করেই ডুবে যেতে থাকেন-আর গাছ বাড়ির পরিমার্জিত সংস্করন ‘এ তো একদম সেই রকমই’ বলে লাফাতে থাকেন।
জনগন অতিষ্ঠ হয়ে এই জমায়েতের নাম রাখেন ‘গেট টুগেদার”।

জনা কয়েক অতিরিক্ত কৌতুহলী ফোনের মাধ্যমে গন্ধ শুঁকতে গিয়ে নাকে আঘাত-অ পান বটে তবে সেটুকু নগন্য ব্যাপার।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s