(২৯)


“বাঘে ছুঁলে এক ঘা=
আর পুলিশ ছুঁলে আঠেরো ঘা।”
ছোটো বেলায় পড়েছিলাম খরগোস তার শিকারীকে দেখলে চোখ বুজে ফেলে এই ভেবে যে তাকে কেউ আর দেখছে না। আমার সেই হয়েছে মনে হচ্ছে- মনে হয় ভাবতে শুরু করেছি আমি তো সিংগি তাই বাঘ-অ ছুঁতে পারবে না, পুলিশও না। বেশ কিছু দিন ধরে কিছু কান্ড কারবার করছি যেটা লজ্জায় বলতে পারছি না। কাল রাতে বোধহয় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলাম- আজ সকালে উঠে ভাবলাম ‘নাচতে যখন নেমেইছি তখন ঘোমটা আর দিই কেন?’

তাই লিখতে বসলাম- বেশ কিছুদিন আগে, বেশ চাপে পড়ে এক নার্সিং হোম যাচ্ছিলাম- মাঝ পথে টুকুস করে সিগনাল জাম্প করতেই একটা কচি মামা দেখলাম আমাকে টাটা করছে- পাত্তা দি নি! ধুসস বলে নার্সিং হোমে ঢুকতে যাব দেখি মামা বাইকে করে পিছু পিছু এসে টাটা করছে! খেপে গিয়ে বললাম, “ট্যাম নেহি হ্যায় যো করনা হ্যায় করলে!” সে তুই তোকারি করতে আরম্ভ করল- মটকা গরম হয়ে গেল! বাইক স্ট্যান্ড করে এসে এক ধাক্কা দিলাম মালটাকে- ব্যাস যায় কোথা- একেবারে আই পি সি কেস। কোনো রকমে পাকস্থলি থেকে খুঁড়ে আনা অভিনয় করে মামাকে ‘সোনা মনা’ বলে গালে হাত দিয়ে আদর করে মাত্র একশো টাকা ফাইন দিয়ে সে যাত্রা বাঁচলাম।

তারও আগে একদিন সক্কাল সক্কাল দক্ষিন দিল্লী থেকে ফেরার পথে এক অখ্যাত রেডলাইটের বারণ মানি নি- তবে সঙ্গত কারণ ছিল- প্রকৃতির ডাক- আর আমি শহর নোংরা করাকে ঘৃণা করি- দেখি অমোঘ নিয়তির মতো এক জাঠ মামা লাল কার্ড নিয়ে এগিয়ে আসছে। এসেই আগডুম বাগডুম- এই বার কর সেই বার কর। প্রথমে একটু কায়দা করতে গেলাম দিল্লীর বিচারে- তা সে দেখি বলে “তু প্রেসিডেন্ট হোনে সে ভি নেহী ছোড়ুঙ্গা।” তারপর আসল কারণটা বলে বললাম যে তাড়াতাড়ি কর বাপ- তাতেও গরম নিয়ে যাচ্ছে- ব্যাস আমার মাথা টং হয়ে গেল! পরিস্কার বললাম “দেব না যা! কি করবি? অনেকক্ষন থেকে ভাল ভাবে বলে যাচ্ছি শোনার নাম নেই! সামনে সে হট!” বলে পাঁই পাঁই করে বাইক দিয়েছি ছুটিয়ে! আগের সিগন্যালে গিয়ে দেখি একটা ভালো মামা দাঁড়িয়ে আমিও তার কাছে গিয়ে বললাম যে এই ঘটেছে তোমার যদি আমাকে ফাইন করার হয় তা হলে তাড়াতাড়ি কর কারন আমার মন মানলেও শরীর বারণ নাও মানতে পারে। সে অবস্থার গুরুত্বটা বুঝে আমায় জিজ্ঞাসা করল, “কাগজপাত্তি নিয়েছে কিছু আপনার থেকে?” আমি দুদিকে ঘট ঘট করে মুন্ডু নাড়লাম। সে বলে কিনা ” তো ফির যাইয়ে, সামহল কর যাইএগা!” দু সেকেন্ডের জন্য ঘাবড়ে গেছিলাম কিন্তু শরীর বলল- দিল্লীতে স্ট্যাচুর অভাব নেই বেশীক্ষন থাকলে খবর হয়ে যেতে পার-
তাই রওয়ানা দিলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

দু দিন আগের ঘটনা, এবার বিশেষ কিছু করি নি! ঠিক ঠাক গাড়ি চালিয়েছি রেড লাইট মেনে রাস্তার নিয়ম কানুন মেনে! তবুও দেখি আনন্দ বিহারের কাছে এক মামা এসে আমায়হাত দেখিয়ে দাঁড় করাচ্ছে। দাঁড়ালাম মেজাজটা বেশ ফুরফুরে ছিল জিগাইলাম “কি কেস? আমি কি নিয়ম ভেঙেছি?” সে ভালো মানুষের পো, আমায় বলল “আপ জরা বাইককে পিছে দেখিয়ে”- নেমে দেখি নাম্বার প্লেটের দুটি নাম্বার গায়েব- কদিন আগে আমার সরকারি শীলমোহর গায়েব হয়েছিল। বুঝতে অসুবিধা হলো না কাদের কম্ম। আমার শুভনুধ্যায়ী কচিকাঁচার দল নিতান্তই গবেষণার খাতিরে দুটি নাম্বার তুলে নিয়ে গেছে। হাজার টাকার ধাক্কা হতে গিয়েও হলো না, ভালো মানুষের পো হবার জন্য- তবুও কড়কড়ে একশো টাকার পাত্তি নেবার সময় মামা উপদেশ দিয়ে গেলেন “পঁচিশ টাকা তো মাত্র- লাগিয়ে নিন না”। তা দুদিনেও কোথাও পাই নি আজ এক্ষুনি বেড়োব গাড়িটাকে পুনর্স্থাপন করতে ( মামা বলেছেন নাম্বার ছাড়া বাইকের কোনো existence-ই নেই”)। আপনারা ততক্ষণে আমার শব ব্যবচ্ছেদ করুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s