(৩১)


ছোটবেলায় যখন বড়পার্কে দৌড়তে টৌড়তে যেতাম তখন মাথায় বাক্সওলা এমবাসাডর দেখতাম, বুঝতাম না- পরে বুঝলাম যে ওগুলো Driving School-এর গাড়ি। ড্রাইভিং স্কুল বলতে কি বোঝাতো বুঝতাম না, ভাবতাম পুরো স্কুলটাই গাড়িটার মধ্যে পুরে চলে বোধহয়। যদিও পুরো স্কুল একটা গাড়ির মধ্যে কি করে ঢুকবে মাথায় ঢুকতো না খালি দেখতাম ৪-৫ জন ফাঁসির আসামী উতকন্ঠা ভরে বসে আছে গাড়ির মধ্যে আর একটা জল্লাদ ড্রাইভারের পাশে বসে সমানে বকে চলেছে। যাইহোক ব্যাপার স্যাপার পরিষ্কার হলো বটে কিন্তু গাড়ি চালানো শেখা হলো না। অবশ্য আমি বরাবরই লেট লতিফ। অবশ্য নিয়মিত সকালে উঠতাম এবং স্কুলটুলেও দেরীতে পৌঁছই নি অথবা প্রেমিকাকে ২-৩ বারের বেশী অপেক্ষা করিয়ে রেখেছি এমনও নয়।

মানে যাত্রীশকট চালানো শেখার ব্যাপারে আর কি… ক্লাস নাইনে পড়তে পড়তে সাইকেল কিনে সাইকেল চালানো শিখি- চালাতে দু দিনে শিখে গেলাম কিন্তু u-turnআর নিতে পারি না কিছুতেই। কতবার হয়েছে তিন ফুটের মধ্যে অর্ধেক ঘুরে যাবার পরে বাকিটা আর ঘুরতেই পারলাম না- সোজা গিয়ে ফুটপাথে গোত্তা। আমাকে যিনি শেখাতে নিয়ে যেতেন তিনি দিন পনেরো চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিলেন। আমিও আর মাস খানেক চেষ্টা করে একদিন “দুত্তেরি কি ছাতা” বলে সাইকেল নিয়ে ৮ কিমি দূরে স্কুলে চলে গেলাম।

স্কুটারের গল্পও তথৈবচ- এই ২০০২-এ এসে স্কুটার কিনলাম- চালানোয় পটু ছিলাম না বলে এক বন্ধুকে নিয়ে গেলাম। সে লাজপত নগর অবধি গে্‌ স্কুটার কেনার পর চালিয়ে ফেরত এল, বাড়িতে মাংস ভাত খেলো, আমায় বিদায় সম্ভাষন জানালো। আমিও বললাম এবার আমি চালাই- যেমন ভাবা তেমন কাজ ফার্ষ্ট গিয়ারে মেরে ফড়াক করে ক্লাচ দিলাম ছেড়ে- আর যাই কোথা, আমার বাহন- সে নিজেকে হেলিকপ্টারের কম কি ভাবতে পারে? দেখি টেক অফ করল! আমার সীট বেল্ট বাঁধা ছিল না- সঙ্গত কারণেই ভূমি সজ্জা নিলাম। তসরিফ আর নেওয়ার মতো অবস্থায় থাকল না। যাকগে তার এক মাসের মধ্যেই বুক ঠুকে একদিন অফিস চলে গেলাম স্কুটার নিয়ে। তারপর বহু এক্সিডেন্ট পেরিয়ে স্কুটার বিদায় নিয়ে এখন একটা তরিবত বাইক জুটেছে।
গাড়ি চালাবার জন্য ভর্তি হলাম স্কুলে- এই বুড়ো বয়সে। ইন্সট্রাক্টর জ্ঞান দিয়ে মাথার আর কানের পোকার জায়গার অদল বদল করে দেয়! প্রথম দিন বেশ confused থাকার পর ঠিক করলাম সব কথাতে সেই বাধ্য স্বামীর মতো ‘হুঁ’ করে যাব কিন্তু নিজের মতো করেই করব। “শুনো সবকা করো মনকা”। তা এখনো পর্যন্ত বেশ চলছে আজ আবার গাড়ি রিভার্স টিভার্স-ও করিয়ে ফেলেছি। ব্যাপার স্যাপার-ই আলাদা।

নতুন গাড়ি চালাতে শিখছি বলে জ্ঞানপাপীদের জ্ঞানের অন্ত নেই- সবাই নিজের নিজের বিদ্যার ডালি উপুর করে যাচ্ছে অকাতরে। তবে এরই মধ্যে আমার এক বিহারী সহকর্মী, যার সঙ্গে আমি দুপুর বিকেল চা টা খেয়ে খেউর করি তার উপদেশ শুনে বেশ বমকে গেছি!

সে (প্রসঙ্গতঃ সেও সিনহা) বলেছে যে “হর চিজকে লিয়ে মোটিভেশন জরুরত হোতি হ্যায়। ম্যায় নে দেখা কে লেড়কিয়া গাড়ি চলাতি হ্যায় তো আপনে আপ কো বোলা কে হাম ভি কর সকতে হ্যায়। এয়সা হি আগার সিভিল সার্ভিস এগজাম সে পহলে দেখ লেতা কে ইতনে সারে লেডী অফসর হ্যায় তো হাম ভি পাস কর লেতা”। শুনে আমার চোখ দুটো নারকেলের মতো হয়ে গেছিল- ভাবছিলাম- সন্তান ধারন এবং প্রসব সম্বন্ধে ছেলেটির মতামত নাহয় কি হতে পারে। দু বেলার সুগন্ধী লাল লাল মোদো রঙের চা আমার বড়ই পছন্দের। সেটা হাতছাড়া হবার ভয়ে প্রশ্নটা করে ওঠা হয় নি!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s