(৩৫)


এটাকে আগের গল্পটার উপনদী বা শাখা নদী বলেই ভেবে নিন। এবারও মামা ও অটোগ্রাফের গল্প তবে পার্থক্য একটাই- এবার শুরু থেকেই দুচাকা…
আচ্ছা, মানুষ কত কাজই তো এমনি এমনিই করে। হরলিক্স খাওয়া থেকে শুরু করে, পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করা পর্যন্ত। কারণ জিজ্ঞাসা করলে কিন্তু বলতে পারবে না- তিনবার ভ্রু কুঁচকে চারবার মাথা চুলকে পাঁচবার চোখ গোল গোল করে একবার কাধ ঝাঁকিয়ে বলবে, “জানি না তো।”
আমিও তেমনি আমার বাইক নিয়ে একটি নিতান্তই এলেবেলে পড়ছে ছেলে মার্কা রেডলাইট জাম্প করে দিল্লী ছেড়ে ইউ পি ঢুকব ঢুকব করছি। অমনি মামাদ্বয় মাথায় হেলমেট পায়ে বুট পড়ে সাদা ধবধবে বাইকে চেপে আমার বাইকটার পাশে এসে দু হাত তুলে ট্রাপিজের খেলা খেলতে শুরু করল।

আমি বুঝলাম- বড় মাপের ফ্যান- অটোগ্রাফ না নিয়ে ছাড়বে না। তাই বিনা বাক্য ব্যয়-এ বললাম, ‘সাইডে চলো যা করার করো তাড়াতাড়ি!’ কিন্তু তারা এতো সহজে তাদের পরম আরাধ্য আইডলকে পেয়ে যাবে ভাবতে পারে নি! কপাত করে নিল আমার বাইকের চাবিটা কেড়ে। আমি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে এক হাঁক দিলাম, ‘কেয়া ভাই, বত্তমিজি কিঁউ কর রহে হো?’ সে সঙ্গে সঙ্গে অটোগ্রাফ খাতা বার করে বলে বসল, ‘খালি অটোগ্রাফ নেবো না, প্রেস কনফারেন্স করতে হবে কোর্টে গিয়ে।’
আমি শিয়রে সমন (শমন নয় কিন্তু) দেখে বাবা বাছা করলাম- তাও দেখি তরপিয়ে যায়। তাকে বললাম, ‘ভাই ম্যায় তো সাইড মে যা হি রাহা থা।’ সে বলে সাইডে তো গাজিয়াবাদ শুরু, ফালতু ফালতু কামাইটা মারবেন কেন মশাই?
ঠিক কথা, কিন্তু কোর্টে কে যাবে রে আমার কি খেয়ে দেয়ে আর মোষ তাড়িয়ে কাজ নেই কোনো? অগত্যা হারাধনের একটি ছেলে আইকার্ড বার করে কর্মস্থলের পরিচয় দিলাম। কাজ হলো ম্যাজিকের মতো- কাগজ পত্র পটা পট ঠিক ঠাক হয়ে গেল, কপাকপ চালান লেখা হয়ে গেল, তারপর সম্ভ্রমের সঙ্গে বলল, ‘সিনহা সাব, আপ পহলে বোল দেতে কি আপ ইঁহা সে হো তব হাম আপকো পাকড় তে নেহী।’
মোলো যা, সব হয়ে গেছে এখন বলছে, টাকা তো গেলই কিন্তু হাওয়া খাবার তো সুযোগ ছাড়া যায় কি? হাজার হোক আশুতোষ, পবিত্র সরকারের দেশের লোক। বেশ তার পিঠে হাত রেখে জ্ঞান দিয়ে দিলাম বেমালুম, ‘দেখো ভাই কাম তো তুমনে সহী কিয়া, (আহা) গলতি তো মেরি হ্যায়(মরণ)। তুম ডিউটি নিভা রহে হো(তার জায়গায় সময় মতো রেড লাইটটা যদি নিবাতিস…), এক কাম করো পান্সো কি খুললে দে দো।’ ভাংবো তবু মচকাবো না।
সে তখন আমার একনিষ্ঠ ফ্যান- যত্ন করে অটোগ্রাফ নিয়ে ততোধিক যত্ন করে মুচমুচে নোটগুলো বার করে চারশো টাকা ফেরত দিয়ে বলল, থোড়া ধ্যান চালাইয়েগা- দিওয়ালি আ রহা হ্যায় না।
আমি মনে মনে বললাম, সার সত্যটা এতক্ষণে বললে বাওয়া? যাই হোক কাল থেকে প্রতিটি পথনিয়ম মেনে চলছি। ফাঁকা রেড লাইটে বেবাক দাঁড়িয়ে পিছনে যমদূতের মতো বাস ড্রাইভারের কাঁচা কাঁচা নরমাংস উচ্ছিষ্ট খাচ্ছি কিন্তু কুছ পরোয়া নেই। অটোগ্রাফ দিতে গেলে আমার আয়ু কমে যাবে সেই ভয়ে রাস্তায় বুকপকেটের দিকে হাতটাও যাচ্ছে না- পাছে আবার ভক্তকুল ঝাঁপিয়ে পড়ে? সত্যি একেই বলে খ্যাতির বিড়ম্বনা…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s