(৩৬)


কাল আবার সেই ঊনিশে নভেম্বর ছিল- নিজেকে ইন্দিরা গান্ধী বা সলিল চৌধুরীর সমতুল্য ভাবার দিন। কত লোকে সকাল বিকেল ফোনে অর্কুটের স্ক্র্যাপে শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিল যে ইয়ত্ত্বা নেই। ভালোই লাগে বুঝলেন? একটা দিনের জন্য যদি বিখ্যাত হয়ে পড়ি সেই এক দিনকা সুলতানের মতো…

তবে মামাদের মতো কেউ আমায় ভালোবাসে না, বাসতে পারে না। কাল সকালেই যেমন। অফিসের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বেড়িয়ে পথের প্রথম রেড লাইটে দুচাকা আর দু পায়ের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছি- প্রথমেই বলে রাখি কাল আমার ‘গোপাল বড় সুবোধ ছেলে’ হবার দিন ছিল। তাই যতক্ষণ না আলো সবুজ হচ্ছে নড়ি নি, মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম। লাল থেকে সবুজ হবার মধ্যে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থা আছে সেটা হলো উল্টো দিকের সবুজ আর লালের মাঝের হলুদ সেটিকে দুচাকার কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখে ‘সা রে গা মা’ তাল ঠুকে ঠিক ‘পা’-এ বেড়োনোটা একটা আর্ট সেটি রপ্ত না হলেই গেছেন।

কাল সুন্দর ভাবে বহু অনুশীলিত কাজটি পালন করে যেই বেড় দিয়েছি, দশ হাত দূরে দেখি মামা- ভাঞ্জা দাঁড়িয়ে। আমার দুকানের ইয়ার ফোনে তখন বাজছে “দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের পারে”। একেবারে পদ্মলোচন কেস। মানে আসে পাসের কথা বিশেষ শুনতে পাব না আর কি। (ওহো সেটা তো কানা ছিল এটা তো কালা… যাই হোক বিদ্যাসাগরের কথা অনুসরণ করলে ভুল নেই কিন্তু)

তারা আমায় দেখেই বাহুমূলে হাওয়া দিতে উদগ্রীব হয়ে উঠলো আমিও আন্দাজে আন্দাজে ঠোঁটপঠনের জন্য প্রস্তুত (মাঝে মাঝে বাংলা ভাষাটা আমার নিজের কাছেই অচেনা হয়ে যায়)।
-হাঁ ভাই কেয়া হুয়া? সিগনাল তো তোড়া নেহী- গ্রীনপেই তো মুড়া
-হাঁ সার গ্রীন পে মুড়া মাগর এক সেকেন্ড পহলে
-ভ্যাট কেয়া বাত কর রহে হো- মুঝে পতা নেহী চলা অউর তুম বিশ মিটার দূর সে দেখ লিয়া?
-(কারো মুখে কথা নেই…) (লজ্জা লজ্জা হাসি)
– অউর ভিখারিও কি তরহা বিহেভ কর রহে হো।
-(মরি মরি এ কি লজ্জা)
– মাত ভুলনা তুম পুলিশবালা হো… চলতা হুঁ

বলে আবার দিনগত পাপক্ষয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম

পরের ঘটনাটা রাত্রি বেলা কারকারডুমায় একটা মলে, মার্কেটে যাব বাইক পার্ক করতে হবে। আসলে চাকা কমলেই সুয়োরাণী দুয়োরাণী হয়ে যায়। বাইক পার্কিং-এর যায়গাগুলো অন্ধকার ধূসর অঞ্চলে কুঁড়ে ঘরের মধ্যে করিয়ে দেয়। সেই ভাবেই একটা আলোকোজ্জ্বল পার্কিং পেরিয়ে যেই বাঁদিকে ঘুরেছি তখনই বুঝেছি মরেছি। জাট মামা নো এনট্রি ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে ছিপ ফেলে মাছ ধরা প্র্যাকটিস করছে। কালকের দিনে উইকেট পড়ার কোনো সুযোগ দেওয়া যায় না- অবলিলায় বলে উঠলাম, “আজকে দিন এয়সা মত করো প্লিস!” ইফতিকারের মতো মুখ করে ভাবলেশহীন ভাবে বলে উঠল, “কিঁউ আজকে দিন ক্যা আপকা জনমদিন হ্যায়?” “এগজ্যাক্টলি, প্যান কার্ড দিখাউঁ?” যেমন বলা তেমন কাজ- আর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মামা আমার দিকে তার দশাসই হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠল “হ্যাপি বার্থ ডে”। রাতের বেলাতেও গেয়ে উঠতে ইচ্ছা করল “আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে”

ভালোয় মন্দয় দিনটা বেশ কাটলো, কিন্তু সেই এস এম এসটা এল না যেটার জন্য সারাদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম গত বছরগুলোয় যার উত্তরে আমি ‘সেম টু ইউ’ বলে আত্মস্লাঘা অনুভব করেছিলাম। রাত বারোটায় ভাবলাম যাকগে আমার মতো তারও হয়তো মোবাইল ভেঙে গেছে- ভাঙা জিনিষ কি আর জোড়া লাগানো যায়? উত্তরটা খুঁজছি- পাঠক পাঠিকারা যদি একটু সাহায্য করে দেন…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s