(৪০)


আজকাল যেখানে সেখানে বাওয়াল দিচ্ছি… আরে এ বাওয়াল সে বাওয়াল নয়। এটা বাওয়াল, সেটা bowel যাতে তিনটে consonant আর দুটো vowel. যাকগে তাত্ত্বিক কচকচিতে গিয়ে লাভ নেই দুটি ঘটনা কুটুস করে বলে ফেলি।

দিন দুয়েক আগে মেট্রো করে অফিস আসছি, এমন সময় মাথায় দুম করে দুবার কি যেন ঠুকল… ঘুরে দেখি একটি হরিয়ানাবাসী (এদের মুখ খুললেই আর মোষের গন্ধে চেনা যায় আর কি) নিত্যানন্দ হয়ে নিজের ব্যাগ খানি মাথার উপর তুলে দাঁড়িয়ে আছে যেন এক্ষুনি মাথায় ছাদ ভেঙে পড়বে। বলা যায় না ভুগর্ভ বলে কথা। তবুও বললাম, “ভাই ব্যাগ ঠিক জাগা পে রাকখো” তা সে কেন শুনবে? পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেছে, মামদোবাজী নাকি? তেরিয়া হয়ে বলল, “কাঁহা রাকখু?” যেন আমি টিটি। আমি কালোদ্রেক না করে বললাম, “কহি ভি রাকখো পর মেরে সর পে লাগনা নেহী চাহিয়ে”। গুরুম করে বলে, “ভাই তুম মুঝে জানতে নেহী…” আমিও মিষ্টি হেসে বললাম, “কিঁউ তুম হেমা মালিনী হো কেয়া? অউর জাননা ভি নেহী চাহতে, হেমা মালিনীপে মেরে কোই ইন্টারেষ্ট বাকি নেহী রাহা” সে বেচারী কুড়ি টাকা দিয়ে টিকিট কেটে চড়েছে পাসওলা যাত্রীদের ছেড়ে দেবে কেন? বলে, “নেহী হাটাউঙ্গা, বোল দিয়া ব্যাস” ষোলোমন খানের মামাতো ভাই যেন…

আমার কি হলো জানি না কিন্তু মুচকি হাসতে হাসতে বললাম, “ভাই, কুছ ভি কর লো, সর পে লাগনা নেহী চাহিয়ে। বর না…” “বর না কেয়া কর লোগে?” “ও তব দেখনা তুম জরাসা লাগাকে তো দেখো সর পে… ইয়ে ম্যায় হাসকেই বোল রাহা হুঁ”। কেন বললাম কোনো ধারণা নেই… কিন্তু বাকী সব লোক ফ্যাক ফ্যাক করে হাসতে লাগল আর সে বেচারী পরের ষ্টেশনে রাগ মাগ করে রেগে গেল গুঁতো গুঁতি করে। হ্যাঁ, অবশ্য নজর রেখেছিল যাতে আমার মাথায় ব্যাগ না লাগে, যদি কিছু করে বসি… কি করব অবশ্য সেটা আমিও জানতাম না।

পরের ঘটনাটা আরো সঙ্গীন মানে বেয়োনেট মানে বন্দুক মানে ভুঁইফোঁড় নেতা মানে আরো যে কত কিছু কে জানে। যাই হোক ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে কাল রাতে গাড়ি নিয়ে ফিরছি… বাড়ির কাছে এক ভুঁইফোঁড় নেতার বাড়ি, তারা বর্ণাশ্রম পালন করে। অর্থাৎ গোয়ালার ছেলে গোয়ালা, কানার ছেলে কানা, নেতার ছেলে নেতা। যাই হোক তার বাড়ির সামনে দেখি একটি টয়োটা কোয়ালিস রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে। এগিয়ে যেতে গিয়ে খুব ভদ্রভাবে বললাম (বিশ্বাস করুন, মা কালীর দিব্যি) “ভাই বিচ রাস্তে মে গাড়ি কিঁউ রাকখে হো?” “ড্রাইভ করছিল একটি একুশ বাইশ বছরের ছেলে, তেঁটিয়া হয়ে বিশ্রি ভাবে বলল, “আ বে যা, নিকল লে”

আত্মসম্মান বলে একখান জিনিষ আছে না? খায় না মাথায় মাখে জানি না, কিন্তু মাঝে মাঝে হাওয়া খায় আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, বন্দুক বেয়োনেট ইত্যাদিওলা রক্ষী দেখেছি তবুও বলে উঠলাম, (হ্যাঁ ভদ্র ভাবেই, মা কালীর দিব্যি) “ভাই থোড়া তমিজ সে বাত করো না” কোথাও বোধহয় কোটা ধরে রাখা ছিল… গাড়ির ভিতর থেকে চোখা চোখা বাক্যবাণ শুনলাম। তারপর দেখি তেনারা নেমে টেমে এগিয়ে আসছেন। সাধারণ ক্ষেত্রে দু পায়ের মাঝখানে ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়াই মঙ্গল ছিল। কিন্তু আমি তো ডোবারম্যান, ডোবায় মানুষ, ল্যাজ নেই। তাই বেড়িয়ে এসে ভদ্র ভাবেই (মা কালীর দিব্যি) বললাম, “কেয়া বোল রহে হো, বড়া হুঁ তুমসে, থোড়া তো তমিজ সে পেশ আও”। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার গর্বে গর্বিত ফুটো মানসিকতার মানব প্রজন্ম।

হঠাৎ দেখি ড্রাইভারের পাশ থেকে একটি ছেলে এগিয়ে আসছে গালাগালি দিতে দিতে, একে তো আমি চিনি, এ যে ভুঁই ফোঁড়ের বিষ ফোঁড়া বড় ছেলেটা। সুরুত করে তার পাশে গলে গিয়ে তার গালে আদর করে হাত রেখে বললাম, “অভিষেক ইয়ে কেয়া হো রহা হ্যায়, তুম মুঝে জানতে হো, এয়সে বত্তমিজি?” পিছনে তখন আরেকটা মারুতি জেন এসে গেছে।

তাতে ভুঁইফোঁড়ের কোনো ভুঁইদাস ছিল বোধহয়, “সে চার অক্ষর দিয়ে শুরু করে ছ অক্ষরে যাবার সময় হুমকি দিল, “বন্দুক সে উড়া দুঙ্গা” যেন আমি পি্যুষ চাওলার গুগলি। কিন্তু আমার টিমে তখন শচীন থুড়ি অভিষেক আছে… সে বীরবিক্রমে এগিয়ে গিয়ে লোকটাকে মারল ঠাঁটিয়ে এক থাপ্পড়, “শালে, এর বাচ্চা, তার বাচ্চা, পিকে ধুন্দ হোকে যাদা হোঁসিয়ারি দিখা রহা হ্যায়? জানতে হো কৌন হ্যায়? ভাইয়া হ্যায়। বত্তমিজি কর রহে হো, সব অন্দর সে নিকাল দুঙ্গা এবং এবং ইত্যাদি” যেন সে এতক্ষণ ধরে আমার কত সম্মান রক্ষা করছিল।

আমি ত মুচকি হাসতে হাসতে গাড়িতে চড়লাম। অভিষেক এগিয়ে এসে নিজে বলল, “সরি ভাইয়া” আমি তো তখন বরাভয় অবতার।

অনেক বাওয়াল দিলাম এবার একটু অন্যরকম bow. এত গান শুনি এতবার করে শুনি তবু কেন ওই গানটা শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়? আর ভীমসেন যোশীর গলায় হালকা লয়কারী, “তব শুভ নামে জাগে। তব শুভ আশিষ মাগে…” মরুভূমিতেও বান ডেকে দেয়। যেন আমার মায়ের ডাক… ভাল থাকবেন সকলে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s