(৪৩)


মানুষ বেকার হলে কি করে? চাকুরীর চেষ্টা… হ্যাঁ মানে, মানুষ যখন চাকুরীরত অবস্থায় বেকার হয়? সেটা আবার কি ধরণের সোনার পাথরবাটি? আমি কি মুকুল নাকি লালমোহন গাঙ্গুলি? না না, অতটা ঘেঁটে যাবেন না। মানে যে দিন ধরুন আপনার কিছু করার নেই, বেকার বসে আছেন সেদিন কি করবেন? চিলেকোঠা থেকে শখ আহ্লাদ যা কিছু আছে ধুলোটুলো ঝেড়ে ঝুড়ে নামান, মানে হবি টবি আর কি? বহু অব্যবহারে জংধরা ইচ্ছেগুলো একটু রোদ্দুরে দিন আর পারলে একটা সিনেমা দেখে আসুন। অবশ্য একটা দেখতে গিয়ে দেড়খানা দেখলে তো সোনায় সোহাগা, হাতির পাঁচ পা, সাপের ফ্রেঞ্চকাট আর বাঘের দুধ খাওয়া।

এই যেমন ধরুন গত শুক্রবার। এমনিতে তো জানেনই যে আমি কত ভালো ছেলে, কখনই নাইট শো দেখি নি, আজে বাজে সিনেমার সামনে দিয়ে চলে গেছি ভেতরে ঢোকার ইচ্ছা প্রকাশ করি নি (ইচ্ছা হয়েছে কি হয় নি সেটা নিয়ে কিছু বলছি না… পাবলিক ইমেজ বলে একটা ব্যাপার আছে তো)। কিন্তু পাইরেটস অফ দ্য ক্যারাবিয়ানের চতুর্থ অধ্যায়টি আসায় নিজেকে আর রাখতে পারি নি। ফার্ষ্ট ডে ফার্ষ্ট শো তো কোনো দিন দেখি নি, তাই ফার্ষ্ট ডে লাস্ট শোই সই।। যেমন ভাবা তেমন কাজ, বাড়ির কাছা কাছি একটি মাল্টিপ্লেক্সে বাইক নিয়ে চড়াও হলাম। তখন বাজে ৯.৩০, টিকিট কেটে দেখি শো শুরু হতে তখনো এক ঘন্টা আছে… কিন্তু করবটা কি? আশে পাশে কাবাব তাবাব গড়াগড়ি যাচ্ছে বটে কিন্তু পেটে তো ডাল রুটি গজ গজ করছে।

অতিরিক্ত বাক্য ব্যয় না করে টক করে হলে ঢুকে পড়লাম, সেখানেও এদিক ওদিক ঘোরা ফেরা করি, মুক্ত ঘরে গিয়ে হাল্কা হই, কিন্তু তারপর? আমার টিকিটে দেখলাম লেখা অডি ৩। তা অডি ৩এর কাছে গিয়ে হঠাৎ মনে হল আরে সামনেই তো অডি ৪ দেখি তো কি হচ্ছে… ওমা দেখি কেউ কোত্থাও নেই, পর্দায় দ্য প্রিস্ট হচ্ছে আর খুব বেশী হলে জনা ৪ দর্শক বসে দিনগত পাপক্ষয় করছে। আমি সুযোগ বুঝে কপাত করে বসে গেলাম, বাড়িতে চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সিনেমা দেখে দেখে অভ্যস্ত তাই মাঝাখানের একটু আগে থেকে দেখতে বসে বিশেষ কিছু মিস করলাম না। বোগাস একশন বেকার ডায়লগ, কিন্তু তা সত্বেও বেশ একটা মুখসুদ্ধির কাজ করে গেল…

শেষও হল ঠিক ১০.২০ নাগাদ বেরিয়ে দেখি অডি ৩এর সামনে ঘিরে টিরে দিয়েছে। আমি বেড়িয়ে বেশ গম্ভীর মুখে পদচারণা করতে করতে টিকিট চেকারকে আমার আসল টিকিটটি দেখাতেই সে বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে বেশ বিজ্ঞের মতো জিজ্ঞাসা করলাম, “সাফ সাফাই হো গয়ে ক্যায়া? তো ফির লোগোকো ঘুসনে দো?” সেও সম্বিত ফিরে পেয়ে বলল ‘হাঁ জি’।

তারপর আর কি প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে জ্যাক স্প্যারোর অতুলনীয় অভিযানে অভিযোজন করতে করতে কাটিয়ে, আশে পাশের ছেলে ছোকরাদের আমার প্রিভিউ লব্ধ জ্ঞান থেকে ফাউন্টেন অফ ইউথ সম্পর্কে জ্ঞান ট্যান দিয়ে ট্যান হয়ে বেরিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবলাম, ক্লাইম্যাক্সটাকে এরকম মিয়ানো বিস্কুট কেনো করল? কিন্তু হিসাবের খাতায় লাভের গুড় খেতে পেয়ে বেশ মজাই লাগল।

পুঃ উপর ওলা যেমন একহাতে দেন অন্য হাতে নেনও… নজর রাখেন কেউ কম বা বেশী যাতে না পায়। পরের দিনই, কিছুটা বৃষ্টি, কিছুটা সর্দারদ্বয় ও তাদের স্কুটারদ্বয়ের এবং সর্বোপরি নিজের দোষে লাল সংকেত দেখতে না পেয়ে মাশুল গুনতে গিয়ে মনে হল… হিসাব বরাবর…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s