(৭)


কৌশিকের ছবিটা দেখে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল- কদিন আগে এক পাগলার ঘুষি খেয়েছি! বাজারে গিয়ে দেখি ঠিক কৌশিকের dp-র মতো একটা পোজ দিয়ে একটা পাগল ট্রাফিক পুলিশের বিটের উপর উঠে হেঁইও রবে নির্ঘন্ট রচনা করছে! আমি এমনিতে গবাদি পশু বিশেষ পছন্দ করি না- তার উপর যদি বনের মোষ হয় তো কথাই নেই। মালটাকে নামাবার জন্য কাছে গিয়ে দেখি, সামনের পুলিশ চৌকি থেকে একটা মধ্যপ্রদেশ স্ফীত হাবিলদার লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে আসছে। তাকে বললাম বিটটার নীচে মেরে একটু ভয় দেখাও! গবেটটা খটাত করে পাগলের পায়েই মেরে বসল- আর যায় কোথা! ঘপাত করে এক লাফ মেরে পাগ্ল ছুটেছে বদলা নিতে সবাই পালিয়েছে আমার তো দেশ সেবা করতেই হবে দাঁড়িয়ে আছি- মাল এসেই আমাকে আঙ্গুলে দেখিয়ে বলে- মারেগা মুঝে? গুদুম করে এক ঘুষি, আমি ঘুরে গিয়ে মাথার পিছনে খেলাম- তার পর আবার ভ্যাবলাকান্ত-র মতো তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম! প্রতিরোধ না পেয়ে এবের হাবিলদারের দিকে ধেয়ে গেল সে- ডান্ডা মারেগা? ফটাফট থাপ্পড় ছারটে- পাঁচটা- বহু লোক আছে পুলিশের উপর হেব্বি রাগ! তাদের মনোরঞ্জন করলেন- হাবিলদার-অ কম যায় না! কেঁপে কুঁপে ডান্ডা দিয়ে ভয়ের চোটে পাগলের কপালেই মেরে বসল- কপাল গেল ফেটে- পাগল তখন উদ্দাম- ফোড় দিয়া- বলে লাফ দিয়ে চলন্ত মোটরবাইকের ছাকা ধরে শুয়ে পড়ে- গাড়ির সামনের বনেটে শুয়ে হাত দিয়ে কাঁচ পরিষ্কার করতে থাকে! একেবারে উলু উলু কান্ড- আমি তখন বিবেক বাবু হয়ে পাগলটার কাছে গিয়ে বললাম- এই, ইধার আকে ব্যায়ঠো- একটা ল্যাম্পপোষ্টের নীচে ধাপিতে বসিয়ে জিগাইলাম- কোত্থেকে এসেছ? বলে কাশ্মীর সে, শান্তিকে খোঁজ মে- পানি পিলাও- ঠান্ডা পানি। আমি পানি আনতে গিয়ে দেখি সে আবার উঠে পড়েছে- অবস্থা সুবিধার নয় বুঝে প্রমাদ গোনলাম- দেখি আরেক হাবিলদার- একে দেখে একটু ঘটে আছে বলে মনে হয়- আসছে! তাকে বললাম- থানে মে লে যাও! বলে হাম নেহি লে যা সক্তে- আপ লে আইয়ে! পাগলকে বললাম আন্দার চলো- বলে পানি মিলেগা? আমি বললাম হাঁ।
SHO অভ্যর্থনা করল- আপ যাইয়ে- ইঁহাসে হামারা জিম্মেদারি- তারপর তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের বলে জ্যাদা হোসিয়ারি দিখাই তো দেনা দো ডান্ডা (মালটা স্যান্ডো গেঞ্জীই পড়ে ছিল)- আমি ভাব্লাম সেরেছে বললাম তার দরকার নেই আপ আগ্রা Asylamমে ফোন লাগাইয়ে। হাবিলদারকে বললাম জল নিয়ে এস- পাগলটাকে বললাম- মুহ খোলো- বাধ্য ছেলের মতো মুখ খুললো- জল ঢেলে দিলাম- বলে ঠান্ডা নেহি হ্যায়- আমি বললাম পিনা হ্যায় কি নেহী! চুপ করে খেয়ে নিল।

চলে আসার সময় দেখলাম তাকিয়ে আছে- মনটা একটু ভারী হয়ে গেল! পরের দিন থানায় গিয়ে দেখলাম নেই- SHO বলল- নিয়ে গেছে! ভাব্লাম কে জানে শানিতির খোঁজ পেল কি না?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s