(৪৫)


খান আব্দুল গফফর খান বা সীমান্ত গান্ধীর নাক দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে আর কি করবেন গুগুল সার্চ করুন গিয়ে। টিয়াপাখিকেও হার মানায়, হেইসান নাক… প্রচলিত আছে (এটা শুধু আমি-ই জানি) যে উনি নাকি জিভ দিয়ে নিয়মিত থুতনি এবং নাক ছোঁয়া অনুশীলন করতেন এবং অন্যান্য পাঠানদের মতো বিশাল দাড়ি গোঁফ রাখতেন না, কারণ সিম্পলি গোঁফ দেখা যেত না…। এসব ব্যাপার স্যাপার নিয়ে একটা গবেষণাপত্র বেরোতে পারে… অবশ্য এর পরের বিষয়টি একটু ‘এ’ মার্কা হয়ে যেত তাই সেটা নিয়ে আর আলোচনা করলাম না।


এই হয় মুশকিল, কিছু বলার আগে চতুর্দশী ধানাই পানাই… সত্যি বাঙালী হয়েছি আর কি করতে। মোদ্দা কথা হল, আমার লাল টুকটুকে মেয়েটির নাকে একটা ঠোনা পড়েছে। মানে তার বিশেষ কোনো দোষ নেই… আমি যদি নজরুল গীতি শুনি যে ‘উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল…’ তাহলে সে আর নিজেকে আটকায় কি বলে?

কিন্তু যার পশ্চাৎ দেশ ঘর্ষণ করেছে (পাঠক পাঠিকাগণ এটি ফ্যামিলি চ্যানেল, তাই দয়া করে ‘ধ’ পড়বেন না।), সেটি একটি বিংশ বতসরোর্ধ্ব মারুতি ৮০০… তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে, বুড়ো ভাম… কচি মেয়ের ঠোনা আর সহ্য করে কি বলে? কড়াৎ করে বাম্পার খুলে কানপাশার মতো ঝুলতে শুরু করেছিল… গাড়ির সঙ্গীত মঞ্জরীতে তখনে বাজছে, “দোষ কারো নয় গো মা…”। তা মা নয়, বাবাই বেরোলেন, ভদ্র সভ্য দেখে আমি তো গৌর নিতাইয়ের মতো বগলে হাওয়া লাগিয়ে বলে দিলাম, ‘মাই ফল্ট, স্যর’।

লোকটা না হেবি মাই ডিয়ার, সে আমার সামনে এসে বলতে শুরু করলো, ’আব বতাইয়ে ম্যায় কেয়া করু?’ কঠিন প্রশ্ন… আমি অগত্যা বললাম, “বিচ রাস্তে মে ঠিক নহি হোগা, কোনে মে চলিয়ে…” (কি সাহস মাইরি) কোণে দাঁড় করিয়ে আমি চাবি দিয়ে তাঁর গাড়ির কানপাশা লাগিয়ে দিলাম (ইনোভেশন জিন্দাবাদ)। তিনি দেখতে গিয়ে খুলে ফেললেন (১৯৪২-র মাল কি না? একসেসরিজ বলতে বোঝে পাঞ্জাবীর বোতাম আর আংটি। কানের দুল ফুল তো আয়ত্ত্বের বাইরে) আমি আবার লাগিয়ে দিলাম ( কি ধৈর্য্য, কি মিষ্টি, কি ভালো, আহা!)।

এবার আর কি দুজনেই স্থাণুবৎ, যেন মেয়ে দেখতে গেছি… শেষে আমিই নীরবতা ভাঙলাম। অবশ্য গার্জেন এসে গেছিলেন সাদা পোশাক পরে, সাদা বাইক চড়ে… তেনাকে জিগাইলো কি ব্যাপার, তিনি দেখালেন যে তাঁর শ্লীলতাহানী হয়েছে। আমাকে জিগাইলো, আমি বললাম, আমিই সেই ……CARই। এতটা সত্য বচন বোধয় গার্জেন মহোদয় আশা করেন নি, তিনি বললেন, ‘দুজনেই এডাল্ট, মিট মাট করে নাও… লোকচক্ষুর আড়ালে।’

এইবারে আসল কথা… আমি ইনিয়ে বিনিয়ে বললাম, ‘চললাম, ভালো থাকবেন আর গাড়িকে ভালো গ্যারাজে ঢোকাবেন।‘ (আক্ষরিক অর্থই ধরুন, ডেঁপোমি করতে হবে না!) তিনি বললেন ‘আর গ্যারাজ, ম্যায় তো লুট গয়া বরবাদ হো গয়া।‘ দামড়া লোকটার এরকম ন্যাকামো দেখে সহ্য হল নি। কাঁধ ঝাঁকিয়ে চলে আসছি, তিনি এবার আমার অতা পতা টতা লতা পাতা জিগাইলেন… আমি সিনহা শুনে বিগলিত হয়ে বললেন, “মাই সেলফ ইষ্টকুটুম সাক্সেনা (প্রথম নামটা শুনতে পাই নি, আগ্রহও দেখাই নি বিশেষ)। আই অ্যাম সাম কেষ্ট বিষ্টু ইন রেলওয়ে বোর্ড। ইটস অনলি বিকস ইউ আর সিনহা তাই ছেড়ে দিচ্ছি, নাহলে…” আমি বেশ আশ্চর্যচকিত, প্রসেনজিত, শিলাজিত হয়ে মাথা নেড়ে বাধ্য ছেলের মতো থ্যাঙ্কু বলে গাড়ির দিকে ঘুরতেই আবার ডাক পরল… ‘আলওয়েজ হেল্প আ কায়স্থ… হোয়েনএভার হি ইজ ইন নিড”

শুনেই আমার নিঁদ উড়ে গেল, কোনো রকমে মাথা নাড়িয়ে গাড়িতে এসে এসি চালিয়ে সঙ্গীত মঞ্জরীতে মন নিবেশ করিলাম, “ভেঙে মোর ঘরের চাবি, পথের দাবী ইত্যাদি ইত্যাদি…।“

বেচারি সাক্সেনার দুর্দশা তখনো ফুরোয় নি… সামনের রেড লাইটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা সর্দার বাইক নিয়ে গাড়ির পিছনে ঠুকে দিল… আমি তখন দৃশ্যতই দর্শক… মজা লুটছি… পরে একটা জিনিস চিন্তা করলাম… সর্দারদের মধ্যে কি কায়স্থ আছে? নাকি তখন বারোটা বেজেছিল? অন্ততঃ সাক্সেনা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার আর বিশেষ চেষ্টা করল না দেখলাম… পাঠক পাঠিকারা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটু সাহায্য করলে কায়স্থ কূলের উপকার টুপকার হয় আর কি!

2 thoughts on “(৪৫)

  1. galpo naki sotti??
    eto gari niye goragori …..
    se laal tuktuke konna k Soru babu etobaar jabordosti chumu khaiyeche…….j se becharir chaka r badol e haat-pa thakle soja Adalot e chute giye bolto “Dharmabotar Baap Bodlaan”
    konne r Ignition e ekhon j Iss-ki-Bhison er hahakaar,,,,,

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s