(৪৮)


সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে আলোচনা চলছিল… একটা মানুষ দুটো বিয়ে করলে বা বিয়ে না করে দুজনে একসঙ্গে থাকলে কি হয়? এক অপাংক্তেয় বলল, “কিসসু না, শুধু বাচ্চাকাচ্চাগুলোর সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে পব্লেম হতে পারে”। বাকি MIyas and Biwis are রাজি তো কেয়া করেগা কাজি?

না না, পণ্ডিত পাঠক এবং পন্ডিতিয়া পাঠিকারা আবার এটা ভেবে বসবেন না যে আমি দেশাচার, কুলাচার, আমাচার নিয়ে amateurদের মতো জ্ঞান দেবার ধৃষ্টতা করছি। অবশ্য রসালো আলোচনা যে বাঙালি কেন, কাঙালিরও বৈঠকখানার আড্ডার প্রাণ সে কি আর বিদগ্ধদের বলে দিতে হবে। ওসব কিছু না, খালি দুটো ঘটনা share করে নিতে চাই…

কদিন আগে বাংলা দৈনিকে পড়লাম যে “স্ত্রীর সামনে স্বামীকে সপাটে চড় মারলেন স্ত্রী”। না না লেখার ভুল নয় ঠিকই পড়েছেন… ‘কা তব কান্তা কস্তে বাপ ভাই’ মার্কা ছেলেগুলোর এরকমই হওয়া উচিত। লোক ঠকানোটা খুন করার থেকেও বেশী ক্ষতিকর।

তা সেদিনই বাজারে গিয়ে কুমড়ো কিনতে গিয়ে একটা ঘটনা চাক্ষুষ করলাম। উঁহু, Group Sex বা The Last Emperor টাইপের ঘটনা বাজারেই ঘটে বলে কষ্টকল্পনা করতে যাবেন না। অধৈর্য বড়ই বিষম বস্তু। ঘটনাটা শুনুন।

দাঁড়িয়ে আছি কুমড়োওলার সামনে। হঠাৎ একটি সদ্যপ্রাক্তন গ্রাহক এসে বলল, “শা… তুই পনেরো টাকা নিলি কেন রে? ও দিকে দশ টাকা নিচ্ছে তো!” ভাবলাম বাঙালির স্বভাব, দুটাকা বাঁচিয়েও ‘কেমন দিলাম’ মার্কা হাব ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাই ঠকে গিয়ে উজার করে ভালোবাসা দিতে এসেছে। আরও ভাবলাম, (বেশী ভাবাটাও বাঙালিরই স্বভাব। বাঙালি স্বভাবতই ভাবুক জাতি।) সদ্য প্রাক্তন বিক্রেতা এবার তার পণ্যের গুনবত্ত্বা নিয়ে সারবত্ত্বা সম্পন্ন বক্তৃতা দেবেন টেবেন।

কিন্তু স্মার্ট ছেলেটি সে সব কিছুই করল না। অম্লানবদনে উত্তর দিল, “আমার তো দুটো বিয়ে কি না, দুটো সংসার চালাতে হয়, তাই…”

জীবনযুদ্ধে জর্জরিত বা অপাপবিদ্ধ যেই হন না কেন আপনারাই বলুন, এর পর আর কোনো কথা চলে?
আমিও আর কিছু ভাবি নি… এবং যে সকল পুরুষ, সম্ভাবনার কথা ভেবে পুলকিত হচ্ছেন তাদের বলে রাখি, মহিলারা কিন্তু কোনো অংশে কমতি নন অতএব… এবং মহিলারা যাঁরা হাতের কাছে উদাহরণ না পেয়ে দ্রৌপদীর স্মরণাপন্ন হচ্ছেন তাদেরও বলে রাখি, দ্রৌপদীর কিন্তু স্বেচ্ছা বা স্বেচ্ছাচারের জায়গা ছিল না… একদল কামুক এবং একজন উদাসীন প্রেমিকের প্রেমে পরে সমাজাচারই তাঁকে উদাহরণের দলে এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ত্ব বানিয়ে ছেড়েছিল। সারা জীবন একজনকেই ভালবেসেছিলেন তিনি। ভীমের অফুরাণ ভালোবাসা সত্ত্বেও সেই উদাসীন প্রেমিককে কখনই ফেলে দিতে পারেন নি। শা… অর্জুন কি আঁখ! চললাম, ভালো থাকবেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s