(৪৯)


শাহরুখ খানের ‘ম্যায় হুঁ না’ দেখেছেন? যেখানে সেই মাঝে মাঝেই শাহরুখ বাবু মাথার পিছনে কাল্পনিক কাগুর অপকর্ম পরিষ্কার করে বরাভয় মূর্তি দেখাচ্ছেন? না, না, সিনেমার সমালোচনা করতে বসছি না। ফিস ফাসের পাতায় খালি আত্মসমালোচনা করা যায়, জনগণের ভুল ধরতে গুরুদেবের বারণ আছে। ওতে নাকি অভ্যাস খারাপ হবে এবং ফিস ফাস বদলে কানাকানি, হানাহানি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।


যাই হোক, আসল কথা হল মানুষের self confidence এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, যে কেউ হাত তুলে বলে ‘ম্যায় হুঁ না’ তারপর ল্যাজ গুটিয়ে পগার পাড়… আসলে যে শহরে থাকি তার একটা বিশেষ চরিত্র আছে… কাদায় পড়লেই ‘আমি অমুকের ছেলে তমুকের ছেলে’ হুংকার ছেড়ে অমুকের অজান্তেই তমুকের মাথায় ছড়ি ঘুরিয়ে বেরানোটাই এখানে craze. মাঝে মাঝে মনে হয় আগেকার দিনের কুলীন ব্রাহ্মণদের মত শহরের অমুক এবং তমুকরা কি সব জায়গাতেই ‘ছাপ ছেড়ে’(নাকি ‘পাপ অথবা বাপ ছেড়ে’?) রেখে যায়? কাউকে বিশেষ বলতে দেখি না, ‘আমি আমার পরিচয়েই পরিচিত হতে চাই। জন্ম নয় কর্মই হোক আমার পরিচয়।’


খুব সিরিয়াস কথন হয়ে যাচ্ছে? না না সেই ভয়ও পাবেন না আজকের দিনে যখন সবাই উঠে দাঁড়িয়ে বাপের দেওয়া নাম ভুলে গিয়ে ‘আমিই সে(পড়ুন আন্না)’ বলে বুক বাজাচ্ছে তখন নিজের পরিচয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা তো করতেই হয়। মাঝে মাঝেই ভাবতে হয় জীবনের কোন কোন মুহুর্তগুলো আমার পিতৃদেবকে দিয়েছি, যেখানে তিনি গর্ব করে ভাবতে পেরেছেন (বলতে পারার থেকে ভাবতে পারাটা বোধহয় অনেক বড় পারা) যে ‘হ্যাঁ এই আমার ছেলে’।


যাই হোক আসল কথায় আসি, আজকের প্রজন্ম অনেক বেশী স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর। পাঠক পাঠিকাদের একটি বিশেষ ‘ছোট’ লোক (ইংরাজি small MANএর অনুবাদ) সম্পর্কে অনেক কিছুই অবহিত করিয়েছি। কিন্তু এদের প্রজন্মটাই এখন দাঁড়াতে শিখেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়ে (Name Droppingটাও কিন্তু তারই একটা part)।


এই যেমন ধরুন না, স্বাধীনতা দিবসে mandatory পতাকা উত্তোলন এবং লাড্ডু বিতরণের পরের mandatory সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় ছোটদের mandatory হিন্দি গান চালিয়ে দেশাত্মবোধক নাচ চলাকালীন একটি ৩ বছরের স্বাবলম্বী, আবগারী weatherএর আবেগে পা ফাঁক করে মঞ্চের মধ্যেই হালকা হল। প্যান্টের ভেজা জায়গাটা হাত দিয়ে ঝাড়তে ঝাড়তে সমবেত হাসি উল্লাস এবং তার পিতৃদেবের কিংকর্তব্যবিমূঢ় দাঁত বার করে থাকার মধ্যেই নিজের সামান্য ফাঁক করে রাখা পায়ে দাঁড়ানো স্বাবলম্বী শাহরুখী কায়দায় বরভয় মূর্তি দেখিয়ে বলে উঠল, ‘কোই বাত নেহি পাপা, হোতা হ্যায়… হোতা হ্যায়’।


সত্যিই তো ‘বড়ে বড়ে শহরো মে এয়সি ছোটে ছোটে বাতে হোতে হি হ্যায়’। বিশ্বাস হচ্ছে না? গত তিরিশ বছরের বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, রাষ্ট্র নায়করাই বার বার নারায়ণ স্যান্যাল মহাশয়ের ভাষায় বলে গেছেন, “ইন্তা তো হোন্দাই রহেন্দা হ্যায়”।

5 thoughts on “(৪৯)

  1. দারুণ লিখছো বস। হাফ সেঞ্চুরির আশায় রইলাম। কিন্তু ফন্টটা বড় করলে কেন শেষ পোস্টে? লাইনগুলো একে অন্যের গায়ে উঠে যাচ্ছে জ্ঞানেশ্বরী স্টাইলে।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s