(৫০)


প্রথম দৃশ্যঃ
স্থানঃ স্যামসাং সার্ভিস সেন্টার
কালঃ কাল কিসনে দেখা…
পাত্রঃ মন্দ নয় সে পাত্র ভাল

আমার টাচপ্যাডটি সাম্প্রতিক কলকাতা ভ্রমণে বিগড়েছিল (ডেঁপোমি কোরো নি… যথেষ্ট বুদ্ধি হয়েছে… টাচ প্যাড মোবাইলেই হয় মাত্র)। দিল্লী এসেই তাই কালক্ষেপ না করেই সার্ভিস সেন্টার দর্শনে গেলাম। গিয়েই বুঝলাম ছাপযুক্ত কর্ম পরিবেশ কাকে বলে। দশ বাই দশের ঘরে ১০০টি বিক্ষুব্ধ এক যোগে কথা বলছে, আর পাশের দশ বাই দশে বাকি একশ বসে জাবর কাটছে ড্যাবড্যাবিয়ে এল সি ডির (মোবাইল নয় টিভি। আজকের উন্নত প্রযুক্তির যুগে সবই মিলে মিশে জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে… মোবাইলে টিভি দেখে আর টিভিটাকে মোবাইল করে) দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠিত প্রতীক্ষায়… ‘মেরা নম্বর কব আয়েগা’।

আমিও তো এই জাবরকাটা সমাজেরই হিস্যা তাই ক্ষণকাল কেটে দেখলাম অত্যন্ত বিস্বাদ একটি বস্তু। প্রতীক্ষার কি শেষ আছে? তাই উচ্চতার অপপ্রয়োগ করে গলা বাড়িয়ে বললাম যে নম্বর লিখিয়ে গেলাম, কিন্তু অফিস ফেরতাই রুগীকে ভর্তি করব। আজকের গিনিপিগের ন্যায় ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার যুগে ছয় বর্গ ইঞ্চির জায়গারও অনেক মূল্য আছে, সেটা কেউ না জানুক দশ বাই দশের বন্দি জীবন যাদের রুজি তারা ভালই বোঝে। অতএব, ব্লু আওয়ারে গিয়ে শান্তিতে পেশেন্টকে হস্তান্তর করলাম এবং নিদান পেলাম দুদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন নিখরচায় কারণ মেডিকেল কার্ড এখন জীবন্ত।

শেষ দৃশ্যঃ
স্থানঃ স্যামসাং সার্ভিস সেন্টার
কালঃ কেয়া পতা কাল হো না হো
পাত্রঃ জল যে পাত্র বা পাত্রীতে রাখিবেন তারই রূপ সে ধারণ করে

যথারীতি দুদিনের জায়গায় চারদিন পরে এক বুক আশা নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম মানব জঙ্গলে… উপর থেকে বাণী শুনলাম, “পথিক তুমি surely পথ হারাইয়াছ”। তবু আশায় বাঁচে চাষা… তাই বগলে ফোঁড়া গজিয়ে বাহুদ্বয়কে মোরগের মতো করে ঠিক জায়গায় গিয়ে হাজির হলাম… আজ আমার মোবাইল ভূমিষ্ঠ হবে (delivery গো কত্তা)। তা গিয়েই দেখলাম এক কলিকালের অলি উড়ে উড়ে ফুলে ফুলে দুলে দুলে কাজ করছেন কিন্তু কারুর একজনের ডাকে মন দিয়ে সাড়া দিতে পারছেন না… সত্যিই যৌবন বড়ই চঞ্চলা, মন স্থির করা যায় না। আর আমার বাজার এখন খুব প্রাঞ্জল নয় (দুঃখ করার কি আছে… দুঃখ সুখ তো চক্রবত পরিবর্তন্তে… সাইকেলের টায়ারের নীচের চুইং গামের মত) অথবা আমি ঠিক চোখের লেভেলে আসছিলাম না। তাই আধাঘণ্টার নিরন্তর প্রতীক্ষার পরেও ললনার মন গলল না।

শেষ মেশে উপায়ান্তর না দেখে বুক ঠুকে দিলাম ফোন লাগিয়ে সার্ভিস সেন্টারের নম্বরেঃ
-হ্যালো?
– ম্যাডাম আমার টাচস্ক্রীণটা ঠিক হবার ছিল…
– ও মা এখনও হয় নি…
– না ম্যাডাম খুব অসুবিধা হচ্ছে… কাউকেই ছুঁতে পারছি না (পড়ুন যোগাযোগ করতে)।
-আপনি আধঘণ্টা পরে ফোন করুন না। আমি দেখি যদি কিছু করতে পারি।
– না মানে সার্ভিস সেন্টারে এলে সেবা পাব না?
– পেতে পারেন কিন্তু লাইনে দাঁড়াতে হবে যে।
– আহা আমার জন্য একটু ভাঙতে পারবেন না?
– তাহলে আধঘণ্টা পরে করুন আমি দেখি কি করতে পারি।
– আরে ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। আপনি এক কাজ করুন একটু মুখ তুলে তাকান না। আমি আপনার সামনেই হাজির হব, নারদ মুনির মত ( অন্য দেবতাদের আবার বর টর দেবার ব্যাপার স্যাপার থাকে… নারদ এসব দিক থেকে আবার ঝাড়া হাত পা।)।
– ওমা আপনি আগে বলবেন তো?
– হ্যাঁ মা, বলে বলে মুকে ফেকো পড়ে গেল যে।

তা যাই হোক সেই ভ্রমরা তাঁর ভ্রমর কালো চোখ তুলে তাকালেন, চার চক্ষুর মিলন ঘটল এবং তারপর আমার স্পর্শাঙ্গ শারীরিক সাড় ফিরে পেয়ে সাড়া দিয়ে উঠতে বেশী দেরী করল না।

শেষ পাতে হাজমোলাঃ
পত্র দিয়া নিমন্ত্রণের ত্রুটি অমার্জনীয়… হামলে পড়ে চেন দিয়ে অতিথিকে ধরে আনুন।

2 thoughts on “(৫০)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s