(৬০)

আজই এসে পৌঁছেই ফিস ফাস লিখতে বসে গেলাম। আসলে পাঠক পাঠিকারা জানেন যে ফিসফাসের গা দিয়ে ভায়া এয়ারমেল গন্ধ বেরোয় না… ঘরকা না ঘাটকা… ফিস ফাস হবে টাটকা। ইনস্ট্যান্ট বিনোদন।
বিশেষ কিছু না ঘটনা তিনটে…

ইয়্যাক
উঠে থেকেই খাওয়া। আমার এক সহকর্মী রাজধানী করে চেন্নাই যাবার সময় পরিবেশককে ডেকে বলেছিল, “ইয়ে যো সারে তুম লে আ রহে হো, খুদ খাকে লা রহে হো?” অমোঘ প্রশ্ন। উঠে থেকেই ঠুসে দেয়। তা রাতে ভালমন্দ ফিস ফ্রাই চিকেন চিবিয়ে ইনভ্যারিয়েবলি বড় বাইরে যেতেই হবে সক্কাল বেলায়। ট্রেন জার্নির একটা বড় বাজে বিষয় হল আদমি (সঙ্গে ঔরত এবং পুটকি পাটকাও থাকে) ৭২ আউর খোলি ৪… বহুত না ইনসাফি হ্যায় রে (শেষের ‘রে’টা আবার শাহরুখের মত টেনে বলতে হবে)। তাই সক্কালটা একটু সক্কাল সক্কাল হলেই ভাল। তা আজ রাত থাকতে উঠে পড়ে লাইন লাগাতে গিয়ে দেখি খান তিনেক ইঁট আগে ভাগেই লেগে গেছে। যাই হোক মিনিট ১৫ ভরত নাট্যমের পর একটা ওয়েষ্টার্ণ খালি হতেই ব্যাঘ্রের মত লম্ফ দিয়ে ঢুকতে গিয়েই আমার ১০০ ওয়াটের লম্ফ গেল নিভে। এখন কি রাজধানী কি দুরন্ত… পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোন কথা হবে না। হাতে সব সময় বন্দুক বাগিয়ে পোস্কার করতে এগিয়ে আসবেন পরিবেশপ্রেমী কর্মী। তা তাকে যত বলি যে বেগে বেগ এয়েচে চেপে রাখতে গিয়ে ডান পা বাঁ দিকে আর বাঁ পা ডান দিকে স্ট্রেচড হয়ে যাচ্ছে, সে কিছুতেই আমাকে সংক্রমিত হতে দেবে না। সে পরিপাটি করে বেসিন ফুটম্যাট এবং মেঝে মুছে টয়লেট পেপার দিয়ে রাজসিংহাসন মুড়ে তবেই আমায় জুড়তে দেবে। যাই হোক সেই বড় বেদনার মত বেজেছিল সেই ৩০ সেকেন্ড… দরজা বন্ধ করার আগে বলে দিলাম সামনে সে হাট যা না। তার পর আর কিছু মনে নেই… বা মনে থাকলেও লিখতে নেই।

দুওই
এটাও টয়লেট হিউমার। কাল রাতে একটা টয়লেট খোলা পেয়ে হালকা হব বলে দরজা ধাক্কা দিতেই দেখি একটা লোক তার মধ্যে রয়েছে। খুব সরি টরি বলে বেরিয়ে এলাম। সেও বোকা বোকা মুখ করে বেরিয়ে এল। ভিতরে ঢুকেই দেখলাম মালটা বিড়ি খেতে ঢুকেছিল শুধু তাই কুয়াশায় ভরিয়ে দিয়ে চলে গেল। সরকারী ব্যাখ্যাটা সেই রকমই ছিল কিন্তু হালকা হওয়াটা জরুরী বলেই নাক বন্ধ করে ঢুকে গেলাম, গালাগাল দিয়ে পরিবেশ ভারী করলাম না।

তিইইন
কদিন আগে জিটি নিয়ে লিখেছিলাম সেই যে Get to Get Her…। তা আজ পৌঁছবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্যামের বাঁশী নিদারুণ হারে বাজতে শুরু করল। সবার এক প্রশ্ন কাল না রোববার। ঘটনাটা বুঝতে একটু সময় লাগল। সব কিছু ছক টক(talk) করে বুঝলাম যে খবর সরবরাহকারিনী নেদারল্যান্ডসের সমর্থক। পরশু রাতে ভ্যান পরশুদের একের পর এক হেড মিস করতে দেখে নিজেই লাফিয়ে উঠে হেড দিতে গিয়ে সটাং হেডরেষ্টের দফা রফা করে সিটি স্ক্যান করতে ছুটেছেন তাই আংশিক স্মৃতি বিভ্রম। জিটি মনে আছে কিন্তু দিনটি মনে নেই। কাণ্ড বলে কাণ্ড?

প্রয়োজনীয় পুনশ্চঃ
সাইড আপার ও লোয়ারে একটি ছয়মাসের বাচ্চা (ছয়মাসের বাচ্চাই হয় দামড়া নয়) ও তার বাবা মা ছিল। মা সারাদিন আয়েশ করে ঘুমোলো। বাবাটা বাচ্চাটিকে নিয়ে গোবর মাখার জন্য নিজের ল্যাজ খুঁজে খুঁজে হয়রান। বাচ্চাটাও খচ্চর (পান নট ইন্টেন্ডেড) মা দাঁত কেলালে সে মাড়ি কেলায়। বাবা কোলালে কিছুতেই কেলিয়ে থাকে না হাত পা ছুঁড়ে সমস্ত ট্রেন এক করে। তবে ব্যাপারটা বুঝলাম যে বাঙালী পুরুষও এবার স্বয়ং স্বম্পূর্ণ হতে চলেছে। তার অনুভূতি (অবশ্যই শুধু খিদে এবং ইয়ে ছাড়া) জেগে উঠেছে। তাই বেচারা সারা রাত জেগেই কাটালো। তাই বোধহয় সকাল হতেই মায়ের কাছে ব্যাটাকে দিয়ে পাশের কম্পার্টমেন্টে গিয়ে বিড়ি চুষতে লাগল।

সংসার ধর্ম বড় ধর্ম যদি না পড় ধরা

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s