(৬৮)


(৬৮)
উৎসবে বসনে চৈব দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্র বিপ্লবে
রাজদ্বারে শ্মশানে চ যস্তিষ্ঠতি ত ফিসফাসঅ…

যেখানেই দেখিবেন ছাই
ফিসফাস পাইবেন ভাই…

জীবনের স্বাভাবিক ওঠাপড়া যাতে সহজে গায়ে না লাগে তাই ফিসফাস।

আরে এসব কিছুই নয় আজকের ফিসফাসটা কুট্টি ফিসফাস কি না? তাই পাতা ভরাতে বিজ্ঞাপন লাগাচ্ছিলাম। আজকের ফিসফাসের মূল উপপাদ্য একটি অদ্ভুত বিজ্ঞাপন। কার ছিল খেয়াল নেই, আরেকবার গিয়ে দেখতে হবে। দিল্লী পুলিশের হলে সবথেকে যুতসই হয় যদিও।

এমন কিছু না, গাড়ি নিয়ে আলোর উৎসবে কালোর বুক চিরে যেতে যেতে হঠাৎ একটি বিলবোর্ডে লক্ষ্য করলাম লেখা… “তেরা বাপ যো ভি হ্যায়, ঘর পে হোগা”।

পাঠক পাঠিকারা বোধহয় দিল্লীর বিখ্যাত বাবাদের কথা শুনেছেন যাঁরা ফিসফাসের মতই যত্র তত্র সর্বত্র লোকনাথ বাবা হয়ে বিচার করেন। রেডলাইট ভেঙেছি? বেশ করেছি… জানিস আমার বাবা কে? তোর মেয়েকে টিটকিরি দিয়েছি? বেশ করেছি… জানিস আমার বাবা কে? ইত্যাদি ইত্যাদি আর কি। আর দিল্লীর বাবাগুলোও বলিহারি যাই বাবা। অপত্য স্নেহে একেবারে আঁকুপাঁকু। সর্বত্র বরাভয় মূর্তি। তা তার ছেলে বিগড়োবে নাকি আমি বিগড়োব? (আমারটা তো কোলকাতার…)।

তা যাই হোক, পাতা মোটামুটি ভরেই এসেছে, (যদিও জানি মন ভরে নি বলেই আপনারা এক্ষুণি শ্যামের বাঁশি ধরবেন) তাই টুক করে এই বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে তৈরী আরও দুটি কাল্পনিক বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করে চলে যাই, যা আমার সহযাত্রিনীর সঙ্গে আলোচিত হয়েছিল। প্রথমটি একটু বিষম… এবং আপত্তিকরঃ
“তেরা বাপ যো ভি হ্যায়, মেরে ঘর পে হোগা…” কেন প্লিজ জিজ্ঞাসা করবেন না।

আর দ্বিতীয়টি হল সিম্পলি যা তা। এর থেকে ভয়ঙ্কর প্রত্যুত্তর বোধহয় দিল্লী পুলিশের বাবাও দিতে পারবে না।
“তেরা বাপ যো ভি হ্যায়, ম্যায় উসকা বাপ হুঁ…”। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

(উফ এতেও পাতা ভরলো না) তাহলে একটা বাজে জোকস। ছোট বেলায় শুনেছিলাম এটা। এক ত্রিমূর্তিকে হেলমেট বিহীন অবস্থায় একই বাইকের উপর সওয়ার অবস্থায় এক পুলিশ চালান কাটতে গিয়ে তাদের নাম জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে তারা হল যথাক্রমে রাম, ভরত ও লক্ষণ। তখন সে প্রশ্ন করে, “তোরা কি চার ভাই? আর তোদের বাপ কি দশরথ?” রাম ভক্তিতে গদগদ হয়ে হাত জোড় করে জিজ্ঞাসা করেন, “পভু, আপনি কে?” উত্তর আসে, “চিনলি না আমায় রে পাগলা, আমি রাবণ!!”

ও হ্যাঁ, শেষ পাতে কুড়কুড়ের মতো ছোট্ট করে একখান দিয়ে দিই, বহু যুগ ধরে ‘বাপের সম্মান’ কি বিষম বস্তু তা খুঁজে চলেছি। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় সাইকেল চালাতে গিয়ে বেপাড়ার ডাকসাইটে মস্তান লুচির ফুলকো হাওয়াইএর প্রান্তে চাকা তুলে দিয়েছিলাম বলে আমার ‘বাপের সম্মান’ নিয়ে বেশ টানাটানি পড়ে গিয়েছিল। তা, কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়… লুচির ডান চোখে একটা ফুলকো করে দিয়ে (আমি বাঁ হাতি আর লুচির মুখটা আমার মাথা কপালে বড় বড় গাঁট্টা আর ঘুষি সহযোগে ছোট ছোট তালের বড়া বানাতে গিয়ে আমার হাতের বড়ই সামনে চলে এসেছিল। হাত নিসপিস করছিল আর সামলাতে পারি নি আর কি…) সাইকেল বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরে এসে মাথায় বরফ ঘসার সময় শুনতে পেলাম আমার জননী জগদম্বার অমোঘ বাণী, “বাপের সম্মান ধুলোয়ে মিশিয়ে দিলি…”। ব্রহ্মতালুতে কোকাকোলার মতো কথাটা আরেকটা ফাউ চাঁটি মেরে চলে গেছিল। চিড়বিড়িয়ে উঠে বলে উঠেছিলাম… “আরে লুচি যে এতক্ষণ ধরে বাপের সম্মানটাকে আলু ছেঁচকির মতো করে খেয়ে নিচ্ছিল তার বেলা?” মা আর কিছু বলে নি খালি চোখ দিয়ে আমায় ভাপা সন্দেশ বানিয়ে দিয়ে চলে গিয়ে আমাকেই কনফিউজড করে দিয়েছিল।

সেই থেকেই আর কি ‘বাপের সম্মান’ বস্তুটিকে খুঁজে চলেছি। তা বেশী কিছু নয়, কদিন আগে আমার পরম পূজনীয় পিতৃদেবের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের খবর, খবরের পাতায় দেখে তার কিছুটা আঁচ পেয়েও গেছি। পাঠক পাঠিকারা, উৎসবের মরসুমে কামনা করি যে সবাই যেন তাদের বাপ এবং তাঁর সম্মান ও নাম বাঁচিয়ে আরও আলোকিত করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। আমেন… (এক নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল… এ তো দেড়পাতা হয়ে গেল!)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s