(৭২)

আর খবরদার যদি বাঙালীদের উসচারণ নিয়ে মস্করা করতে শুনেছি… জাত্যাভিমান ভিসুভিয়াসের মতো উদ্গীরণ করতে শুরু করে দেবে বলে রাখলাম। বেশ করি আমরা জিলিপির মত গোল গোল করে কথা বলি, সে কথা চিনির রসে চোবানোও তো থাকে? না হয় না পারলাম শুদ্ধ হিন্দি বা চোস্ত উর্দু উচ্চারণ করতে, তা বলে কি ভাব প্রকাশে বাধা থেকে যায়? নাকি দিল্লীর বাজারে গিয়ে কুঁদরি দেখিয়ে ‘ইসকে বড়া জিসকো বাংলা মে পটল বোলতে হ্যায়, ও হ্যায়?’ বললে পটলের জায়গায় চালকুমড়ো গছিয়ে দেয়? হ্যাঁ বেশ করব চমকে গিয়ে বলব, ‘আরে ম্যায় তো চমক গয়া থা’! বেশ করব ঘোড়াকে ঘোরা কানহা কে কানা সফরকে শফর বলব, সৌরাংশু না হয় হবে শৌরাংশু! গিলে শিকয়ে না হয় হোক গিলা সুখা… কিন্তু হৃদয় দিয়ে হৃদয় মিললে সব গিলে শিকয়ে যাবে হাওয়ায় মিলিয়ে।
আরে আরে আরে! আজকের ফিসফাসটা যেন জঙ্গি ফিসফাস! রেডিওতে বিবিধ ভারতী শোনার সময়ই উড়ে আসা বোমারু বিমান… লেখক যদি খেপে যায় তাহলে পাঠক পাঠিকা তো নাকের জলে চোখের জলে হয়ে বলে উঠতেই পারে, “এত রক্ত কেন রাজা?”
আরে মশাই, দিল্লীর বুকে এত বছর জাবর কেটে পাঞ্জাবীদের ব্যাঁকা চোরা উচ্চারণের পিতৃ পরিচয় উদ্ধার করতে এখনো অপারগ থেকে গেলাম। কিছুই না, গিয়ে ছিলাম একটু জনপথে ব্যক্তিগত কাজে, বাইকটাকে সুবিধা মত জায়গায় সান্টিং করে ভিতরে গিয়ে কাজ কম্ম করে ফিরে এসে হেলমেট পরছি, এক গোবর গণেশ এগিয়ে এসে জিগালো, (এটা কিন্তু সেই জিগালো নয়, এ বাংলা জিজ্ঞাসা করলো-র সংক্ষেপণ) “ভাইসাব, “ক্যায়সে” যানা হ্যায়?”
আমি বললাম, “কাঁহা”
-ক্যায়সে!
-আরে মুঝে কেয়া পতা, যাও আপকো জ্যায়সে যানা হ্যায়।
– হাঁ মগর, ওহি তো পুছ রহে হ্যায়। ক্যায়সে যানা।
-কি আপদ, কাঁহা যানা চাহতে হো? (মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম)
-ক্যা য় সে! (‘সে’ বলার সময় অদ্ভুত ভাবে জিভটাকে নীচের দাঁতের পাটির সামনে গুঁজে দিয়ে- বুইলেন না? খইনি খাবার অভিনয় করেছেন? অ্যাঁ এবার ঠিক ধরেছেন! জিভটাকে নীচের ঠোঁটের পিছনে গুঁজে দিয়ে দু পাশ দিয়ে ফুস করে হাওয়া ছেড়ে বলুন ‘সে’! হইছে এইবার )

আমি ভাল করে শুনতে গিয়ে কোথাও যেন একটা ‘ফ’ শুনে বললাম, “ক্যাফে?” সে আবার বলে “ক্যায়সে”।

বাঙালীর আর কিছু না থাক তারা দুয়ে দুয়ে কক্ষনো পঁচাত্তর করে না (এটাকে আবার বলতে পারেন উচ্চাশা নেই)- উত্তর সব সময় চারই হয়। তাই আমি ‘ক্যাফে’ আর ‘ক্যায়সে’কে মিশিয়ে শুনতে গিয়ে দৈববাণীর মতো বুঝতে পারলাম যে অলপ্পেয়ে বলছে ‘KFC’ অর্থাৎ ‘ক্যাইয়েফসি’! বাপরে! নালে ঝোলে একসা হয়ে কোনরকমে তাকে রাস্তা দেখিয়ে দিলাম আর সেও লুকিং লন্ডন টকিং টোকিও ওয়াক দিয়ে চলে গেল! (অবশ্যই হাঁটতে হাঁটতে!) আর আমি ভাবলাম এর থেকে তো ‘মগরমছ’ ছিল ভাল!

ও হো ‘মগরমছ’ জানেন না?
ও কিছু না, আমার পরিচিত একজন সদ্য বিয়ের পর রায় বেরিলীতে পোস্টিং পেয়ে নববধূকে নিয়ে যান… তা সে হবে সত্তর দশকের শুরুতে এবি তখনো ‘পিটার ম্যায় ইঁহা হুঁ’ বলে হাঁক পারেন নি…
সেখানে গিয়ে একদিন মাগুর মাছ রান্না করেছিলেন বরের জন্য! তা পাশের বাড়ির শ্রীবাস্তব গন্ধ পেয়েই খুঁতখুঁতে হয়ে ইয়া লম্বা নাক বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “কেয়া বানায়া উনকে লিয়ে?’ উত্তরে প্রথম প্রথম হিন্দি বলতে শেখা নববধূ- যিনি জেনেই নিয়েছিলেন যে হিন্দি আর বাংলা মাসতুতো মামাতো ভাই, বাংলার সময় মুখ গোল করে আর হিন্দির সময় নীচের ঠোঁটটাকে ডানদিকে বা বামদিকে একটু বেঁকিয়ে, (যেমন ভাবে হেমন্তকুমার শেষ বয়সে চড়ায় উঠতেন! আশা করি প্রয়োজনহীন পুনশ্চের দরকার পরবে না!) একই কথা বলা যায়- ঠোঁটটা একটু বেঁকিয়ে বলেন, “মাগুরমাছ”! ফল হয়েছিল ওই যে উপরোক্ত ‘’-এর মধ্যে রাখা শব্দটা! শ্রীবাস্তব গিন্নি আর কোনদিনই ঘাঁটান নি… বাপরে যারা কুমীর পর্যন্ত খেয়ে ফেলতে পারে তারা সব পারে!

বিঃ দ্রঃ ইংরাজিতে সর্বভুককে বলে OMNIVOROUS! কেন বললাম কে জানে?

2 thoughts on “(৭২)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s