(৭৪)

দেখুন স্যার এবং ম্যাডামেরা (ফিসফাস ভালোই বিক্কিরি হচ্ছে বলে একটু চিত হয়ে শুয়ে ভাবছি নেক্সট পার্টটা যদি ফিসফাস ইন্টারন্যাশানাল হয়????!!!!) ইয়ে মানে এখানে একটা গান লিখে দিয়ে শুরু করলে ভালো হতো। তা সিচুয়েশন অনুযায়ী গান বাছার বিষয়ে তো আমি মাষ্টার আদমি (হাসিনা মান জায়েগি, গোবিন্দা…)। তাই শুরুতেই মনে পড়লঃ

এই করেছ ভালো নিঠুর হে…

তারপরই খেয়াল হল এই খেয়েছে এ তো দুঃখে বলছে। আনন্দে কোন গানটা গাওয়া যেতে পারে সেটা ভাবতে ভাবতে ভবানীপুর চলে যাচ্ছিলাম। সে যা হোক সব কুড়িয়ে বাড়িয়ে গুছিয়ে গাছিয়ে আলমারিতে তুলে রাখলাম মাস্ক ফিল্মের স্ট্যানলি ইবকিসের মতো। খুললেই ছড়িয়ে গড়িয়ে এক সা হবে। আপনারাই জানিয়ে দিন কোন গান আনন্দে চার পা তুলে গাইতে পারি।

ফিলিজ, শ্যামা সঙ্গীত বলবেন না… সে বাসরে একজনের গল্প শুনেছিলাম যে নিজের বাসরে শেষ রাতে “শ্মশানে জাগিছে শ্যামা গেয়ে এমন মাআআআআ বলে ঢেউ তুলেছিল যে যারা ঘুমোচ্ছিল তারা মশা কামড়ালো নাকি ভেবে উঠে একেবারে সটাং দাঁড়িয়ে পড়েছিল।

যাই হোক, পথে ফিরে আসি, দিল্লী বইমেলায় বই নিয়ে বসে বিক্রি করছি। তাও আবার নিজের বই… (বিক্রি না হলে নিজে কিনে নেবার জো নেই। পেট গরম অনিবার্য) প্রথম অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিয়ে তো বসে পড়লাম। তা এক শুভানুধ্যায়ী পরামর্শ দিল যে লজেন্স নিয়ে সাইড বিজনেসে বসতে। ফিসফাস বিক্কিরি না হলে এলাটিং বেলাটিংদের হাতে দিয়ে বলতে পারি যাতে, “চুষুন না চুষুন…”। তা সে গুড়ে ফেস পাউডার (আরে বাবা এই একই কথা কত আর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলে হাসানো যায় বলুন দেখি! লিমিট আছে তো!)।

বই টই সাজিয়ে গুছিয়ে বসলাম কেউকেটাকে (শেষ ‘ট’র আগে কিন্তু ‘ট’ নেই, ‘ক’ আছে) দিয়ে দিল্লীতে বই উদ্বোধন করালাম। তার পর মার কোল আলো করে বাজাজ ল্যাম্পের মতো বসলাম, তা বিক্রিটা কি করে হবে? একটা দুটো পরিচিত লোক না হয় ভালোবেসে বা ভালো হেসে নিয়ে টিয়ে যাবে। তারপর? তারপর তো সেই “এই তো আসছি” বলে পগাড়পার… যেন সরস্বতী পূজোর চাঁদা নিতে এসেছি। তা সে আনন্দে টিপিকাল রাবিন্দ্রিক স্টাইলে গলাটা অশোকতরুর মত করে ঘাড় দুলিয়ে মুখে হ্যাপিডেন্ট ঝুলিয়ে আসুন না আসুন বলে যাচ্ছি (সেই চুষুন না চুষুনের অপভ্রংশ)। তা কেউ কেউ দয়া পরবশ হয়ে বরাভয় হচ্ছেন আর কেউ কেউ বাইপাস ধরে গড়িয়া যাচ্ছেন। কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি নেই।

তা সেই রকম দিদি টাইপের (ডেকেছি যখন) একজনকে দেখলাম দলবল (থ্রি ইজ আ ক্রাউড তো) নিয়ে গ্রন্থাগারের জন্য বই কিনছেন। (বাংলা লাইব্রেরীকে গ্রন্থাগার বলে তো) তা সাহস করে এগিয়ে গিয়ে বললাম, “নতুনদের লেখাও একটু দেখুন… প্রবাসী হয়েও বাংলায় লিখছি…” তা তিনি দেখলাম চশমা কপালে তুলে, (সানগ্লাসটা ইতিমধ্যেই মাথায় উটে গেছিল অবশ্য) জিজ্ঞাসা করলেন (তাচ্ছিল্য ভরে শব্দদ্বয় আর লিখলাম না, ওটা বাহুল্য) “কে প্রবাসী?” আমি বেজায় ঘাবড়ে গিয়ে মনে মনে ডিস্কোনারী হাতড়াচ্ছি… তাও আমতা আমতা করে বললাম, “দিল্লীতে থেকে বাংলা লিখি তো প্রবাসী লেখকই তো হলাম” তা তিনি আবার বললেন, (আবার সেই শব্দদ্বয় ব্যয় করলাম না!!) “পড়ছিই তো… দিল্লীর লেখা পড়ছিই তো!” তা এরকম মুক্তদল উত্তর পেলে মূক হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। কিন্তু কানের নীচের ঘামটা বলে দিল, গায়ে নয় এ একেবারে মরমে পশিছে বোধহয়। সময় লাগবে কম্বলের নীচে পাঠাতে। (তা সেই দিদি যতক্ষণে এই দিল্লীর লেখা পড়বেন ততক্ষণে গাড়ি মেনলাইন ধরে নেবে বলেই বিশ্বাস! বিশ্বাসে তো ট্যাক্স লাগে না!)

কিন্তু রাত বাড়তেই অপ্রত্যাশিত ভালবাসা এবং ব্যবহার মনটাকে একেবারে দিঘীর মতো করে দিল, আহ প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সবই যে সত্য, উপেক্ষা হোক বা প্রতিক্ষা। শুধু দরকার হাসের মতো দুধটুকু শুষে নিয়ে জল ফেলে দেওয়া।

তাই ভাবলাম আগে যে ঘুম ভেঙে ওঠে তাকেই তো অগ্রদূত হতে হয়। নাহলে সেই কোলাহলেই মিশে যাব। সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতি কারুর জন্য দাঁড়ায় না- বড় বড় পাবলিকেশন হাউসগুলোর দোরগোড়ায় তো নয়ই। সময় বুঝে সওয়ার হওয়াই ভাল, না হলে ফুটবোর্ডে হঠাৎ লাফিয়ে উঠে ফসকে যেতে পারে পা! তার থেকে পা মাটিতে রাখাই মঙ্গল অথবা বুধ বা বুদ্ধিমানের কাজ। আর নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবতে কেই না ভালবাসে বলুন। তা সে বুদ্ধির মান বা বিস্তৃতি যেমনই হোক না কেন। মান আর হুঁশ তো তাতেই খুশ!

অনেক গুরুগম্ভীর কথা হলো, এবারে একটা ছোট্ট অবজারভেশন, পথ চলতে গেলে নিত্য নৈমিত্তিক কত কি অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে আর কত কি অদ্ভুত কথা কানে আসে… আর দুয়ে মিলে মিশে জগাখিচুড়ি হয়ে গেলে, সে ভাঙ্গিয়ার ‘ভ’এর জায়গায় ‘জ’ পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তা সেইভাবেই, কোন এক সেভরলে গাড়ির স্লাইডার রুফ সরিয়ে একটি ললনা যখন উর্দ্ধাংশ (পোশাক পরে রে পাগলা) বার করে সুকান্ত সেজে থাকে, তখন পুলিশ টুলিশ আলতো করে তুলতে ভুলে যেতেই পারে! (আরে কি সব্বনাশ! সিট বেল্ট লাগায় নি যে!) কিন্তু তার সঙ্গেই যদি পাশের গাড়ি থেকে কেউ কনুইকে দূরবীন করে ক্যামেরা বাগানো অবস্থায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে অন্য সূত্রে কাউকে ফোনে বলে ওঠে, “আরে ইয়ে তো সুইসাইড করেগা!” আর তার অনতিবিলম্বেই যদি সেই ললনা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে তাহলে তিনে মিলে নেত্র হয় কি না বলুন! আরে আমি তো মানুষ… ও কেন এত… ইয়ে টিয়ে আর কি!

এটাও জমল না? তাইলে বলি ফিসফাস যদি ইন্টার‌্যাক্টিভ হয় তাইলে বেড়ে হয় বলুন? আজ যেমন এক পরিচিত দাদা নারী দিবসকে স্মরণীয় রাখতে বিশেষ অঘটনটি ঘটালেন সেটা যদি নিজের ভাষায় জানাই? তাহলে তো নম্বর দেবেন না কি? তা সে দাদা প্রতিদিন স্নানে গিয়ে লুঙ্গি বালতিতে ভিজিয়ে স্নান করে তোয়ালে দিয়ে মুছে সেটিকে পরে বেরিয়ে আসেন। আজ আর তোয়ালে তোলেন নি, সে সেই দেওয়ালেই রয়ে গেছে। যথারীতি স্নানের পরে হাতড়াতে গিয়ে যা পাওয়া গেছে সেটা আর যাই হোক বহির্বাস বললে লোকে পরিহাস করবে। কিন্তু নারী দিবসের রীতি নীতিই আলাদা, দাদা সাহস করে সায়াটি জড়িয়েই সোজা ট্যাঙস ট্যাঙস করে বেরিয়ে পড়লেন অপারেশন তোয়ালে উদ্ধার অভিযানে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলতেই পারেন, “মহিলারা যদি সারা বছর প্যান্ট পরতে পারেন তো পুরুষরা নারীর পোশাককে সম্মান জানাতে পারবে না কেন? দিশী বলে? বিদিশী হলে তো এখুনি কিল্ট টিল্ট বলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে! নারী দিবস জিন্দাবাদ!” ইত্যাদি আর কি… কিন্তু এ তো গল্প নয়! বাস্তব! তাই অবাস্তব কিছুই হলো না এবং আশ্চর্যের কথা, সায়া পরে খোলা ব্যালকনি দিয়ে তোয়ালে তুলতে যাবার সময় মানুষ কেন টিকটিকিও ফিরে দেখল না! দাদা আর কি করবেন, শেষ হাতিয়ার হিসাবে ফিসফাস ম্যানকে গল্পটি বলে দিলেন! আপনারা এইটাতে ফ্লিজ হাসবেন কিন্তু! ইজ্জতকা তোয়াল… থুড়ি সওয়াল বলে কথা!!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s