(৭৮)


ভারতবাসী (সরি, এবারে আর নিজের জাত তুলকে গালাগাল দিতে পারলাম নে কো), সারা বছর ধরে যথাক্রমে, বরের (কোন কোন ক্ষেত্রে বউয়েরও) পকেট, গুলতাপ্পি (এটা সার্বজনীন), বাণ (যদিও তা বলদের চোখে বিশেষ লাগে টাগে না), ডায়লগ (এই অধিকারের ‘ফাণ্ডা’টাই ‘মেন্টাল’ ব্যাপার), বোমা (উদাহরণঃ ‘কাল থেকে আর আপনাকে আসতে হবে না’ বা ‘রামু, অনেক ভেবে দেখলাম যে আমি তোমাকে নয়, তোমার ভাই কামুকে ভালবাসি’) এবং বেলুন (এটা দোলের সময়ে দুলে দুলে ফাটে বা রাষ্ট্রভাষায় বলতে গেলে, ‘মা কি ছিলি আর কি হোলি…) মারে।

বেলুন এমনিতে বেশ ভাল জিনিশ, ফাটলে রক্তের জায়গায় চকলেট ঝরে, ফোলালে গোয়ালের জায়গায় চোয়াল ব্যথা হয় আর সাজালে ফুলের জায়গায় ভুল মনে পড়ে… কিন্তু চকোলেটের জায়গায় যদি জল ভরা হয় তাইলেই তো কেচ্ছা। ধরুন মার্চের শেষ সপ্তাহে সাজুগুজু করে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, হঠাৎ আপনি টার্গেট হলেন গেরিলা ওয়ারের (বালিশ আর গেরিলা-র মধ্যে পার্থক্য নিশ্চয় বাঙালীকে বোঝাতে হবে না, তার ‘চে’ উপাদেয় বোধহয় বাঙালীর জীবনে আর কিছু নেই) দুম করে কোথা থেকে এসে একটা লাল মতো কিছু ফাটল আপনার নাকের ডগায় আর আপনি বেবুন হয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন আর তিনি ভেবে বসলেন কি এমন দুষ্কর্মটি করেছেন যে একেবারে লজ্জায় রাঙাবর্ণ আপনি।

এমনিতে হোলির দিন আপনি কি হোলি কেন হোলি নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। কিন্তু তার দুদিন আগে ভীতুদের মতো চিলেকোঠার একপ্রান্ত থেকে ছুঁড়ে মারা মলোটভগুলিকে নাক কাটার সঙ্গে তুলনা করতেও গা চিড়বিড়িয়ে উঠবে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলো উপর থেকে মাধ্যাকর্ষণের যুক্তি মেনেই টুপ করে আপেলের মতো বেলুন ফেলে আর আপনি নিউ এজ নিউটনের মতো তা শার্ট শাড়ি পাঞ্জাবী কান নাক শেষে গলাধঃকরণ করেন। বিরক্তিকে চিলেকোঠায় পাঠানো সহজ নয়, তাই মনে মনে চোদ্দ গুষ্ঠির হেঁচকি তুলিয়েই ক্ষান্ত দিতে হয়।

কিন্তু, যদি আপনি সেদিন কোন সুন্দর সাজে (শাড়ি টাড়ি পরে) শুভ কাজে বেরোচ্ছেন, সঙ্গে আছে আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, মনের মধ্যে মন ভোমরা গুনগুনিয়ে তানপুরা বাজাচ্ছে, তখন যদি রস ভঙ্গ করতে মিসাইল ছুটে আসে তাইলে?

দেখুন, গা বাঁচিয়ে চলা যদি আপনার জন্মসিদ্ধ অধিকার হয় এবং যদি মনে করেন, রাস্তায় অসুস্থ, আহত ব্যক্তি আপনার কেউ নয় বা নিজের ল্যাজটুকু স্বচ্ছন্দে দু পায়ের ফাঁকে গুটিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে স্বচ্ছন্দে মিনমিনিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে ইমন ভূপালী গেয়ে টেয়ে বয়ে যেতে পারেন। কিন্তু, ভিতরে যদি কোথাও সুভাষ, সূর্‍্য সেন বা সরোজিনীর রক্ত থাকে তাহলে কি করবেন, সেটাই একটু টিপস দিয়ে রাখি। অবশ্য সত্যিকারের খাঁটি রক্ত হলে সেটার দরকার নেই, তবে কিনা ভেজালে ভেজালে দুনিয়ে ভিজে চুপ্পুস হয়ে গেছে তো তাই সময়ে অসময়ে একটু জ্ঞান তো ‘বনতা হ্যায়’, তাই না?

সে ক্ষেত্রে, হাতের রুমালটি সন্তানের টি শার্টে গুঁজে, রিক্সা থামিয়ে নেমে গিয়ে দাউদের ঘাঁটিতে হানা দেবেন জোরালো করাঘাতে… বয়স্ক কেউ মুখ বার করে যদি বলেন, ‘ক্যায়া হুয়া’, তখন ঘটনাটি এক বা দুই বাক্যে সোজাসুজি বর্ণনা করবেন এবং আবার করাঘাত করবেন… তখনও যদি তিনি বলেন যে, ‘ছোড় দো জি বাচ্চা হ্যায়!’ তাও করাঘাত বন্ধ করবেন না এবং পুনঃপুনঃ দাবী করবেন দরজা খোলার জন্য এবং নিমরাজি বয়স্ক কতকটা বাধ্য হয়ে দরজা খুললে, প্রাঞ্জল ভাষায়, ‘গোপাল বড় সুবোধ ছেলে’ থেকে শুরু করে ‘হারাধনের দশটি ছেলে’ পর্যন্ত সমগ্র বর্ণপরিচয় এক নিঃশ্বাসে বলে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসুন। ভয়ার্ত যুদ্ধবাজ বা আপনার ভবিষ্যৎ দু দলের চোখেই আপনি অনেকটা উপরে উঠে যাবেন। (যুদ্ধবাজদের অবশ্য আপনার সঙ্গে চোখটাকেও কপালে উঠে যেতে বাধ্য)
সন্তানও শিখবে অকাজে কি ভাবে শান্তিপূর্ণ ভঙ্গিমায় কাউকে হেঁচকি না তুলিয়ে প্রতিবাদ করতে জানতে হয়।

কি বললেন? আপনি বিজ্ঞানের পূজারী ও বৈষ্ণব? দুটোর কোনটাই হবে না? তাইলে তো বাওয়া Prevention is better than cure!!!

বাসস্থান সংবলিত এলাকায় চলার সময় ব্যাটারিতে জল দেবেন না, যাতে একই গতিতে পা, বাইক বা সাইকেল চালিয়ে গেরিলাবাহিনীর সুবিধা করে দেন। স্টপ স্টার্ট পদ্ধতিতে চলতে চলতে দাঁড়িয়ে পড়ুন হঠাৎ, বা হুশ করে গতি বাড়িয়ে দিন। লোকে একটু ছিটিয়াল বলতে পারে কিন্তু আপনার কাপড় কাচার সময় মাথার ঘাম হাওয়াইয়ের হাওয়ায় ওড়াতে হবে না। বেলুন হয় সামনে বা পিছনে পড়বে যেন ভক্তকুলের মধ্যে দিয়ে আপনি বাপুজি (এ কিন্তু সে বাপুজি নয় যার প্রতি একটা হাত আপনা আপনিই কপালে উঠে যায়! এ বাপুজি খরায় গিয়ে জলের হোলি খেলেন এবং পেট খারাপ হলে সিঙাড়া খেতে পরামর্শ দেন)-র মতো হেঁটে যাচ্ছেন হেলায়।
আর সঙ্গে রাস্তায় জলের দাগের উপর লক্ষ রাখুন। বাম দিক ঘেঁষা জল হলে ডানদিকের ছাদে এবং ডানদিক হলে বাম দিকের ছাদে সম্ভাব্য তিহারীরা (লুকিয়ে থেকে যারা হামলা করে তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা আছে বলেই আমার বিশ্বাস! মেঘনাদের এই একটা ব্যাপারই আমার ঘোরতর অপছন্দ ছিল। রামের বালি হত্যাও কাপুরুষোচিত!) আড়ালে অপেক্ষা করে আছেন হয়তো।

তবে কি না বেশী দিন নয়, রাত পোহালেই তো হোলি… মন ভরিয়ে মন দিয়ে প্রিয়জনেদের রঙে আবিরে রাঙান (চোবাবেন না!)… পৃথিবীটাও রঙিন হয়ে উঠবে। তবে শরীরে যদি তারপিন তেলের র‍্যাঁদা না চালাতে হয় তো জবজবে করে তেল মেখে নেবেন। দেখবেন নারকেল তেলের মাহাত্ম্য আপনাকে জাল ভোট দেবার নিষিদ্ধ সুখ প্রদান করবে।

ও হ্যাঁ যাবার আগে, কালকের হিরো, আমার পার্শ্ববর্তিনীকে ঘটনাটা ফিসফাসে দেব কি না অনুমতি চাইতে গেলে তিনি মন্তব্য করলেন যে ‘দশ মিনিট তিষ্ঠ, আমি গিয়ে ছেলেগুলোর নাম জেনে আসছি, একদম অথেন্টিক হবে!’ আমি নিশ্চিত, তাদের নাম যাই হোক না কেন- গুপ্তা, শর্মা, দুদেজা, টুটেজা- তাদের বাবাদের নাম ইতিমধ্যেই খগেন হয়ে গেছে।Without fail!!

Advertisements

One thought on “(৭৮)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s