(৭৯)


Full Throttle কারে কয় জানেন? আরে এটা সেই Charlies Angles- Full Throttle নয়… এটা হল জর্জ বিশ্বাসের ‘ধূলা উড়াইমু?’-র গল্প। জর্জ দা-র (আসলে দাদু হবে কিন্তু একবার আগে দাদা বলে ডাকি… তারপর তো দুবার বলব কিনা চিন্তা করব!) একটু হাঁপানির টান ছিল তাই কোন বিশেষ একটি সভায় ধীরে ধীরে উতল হাওয়ার মত বইছিলেন… সামনে শ্রোতাদের মধ্যে ভাবনাচিন্তা কেউ বোধহয় একটু জোরে করে ফেলেছিলেন। জর্জ দা বললেন, “ধূলা উড়াইমু?” তবলচি না বুঝেই মাথা কাত করে দিয়েছিল… তার পর সে তো ইতিহাস। তবলচি অনুষ্ঠানের পরে তবলা দুটো পাস বালিশের মতো জড়িয়ে থুতনিতে ঠেকিয়ে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে ফিরে গেলেন এবং ঠোকা ঠুকি থেকে একটি তবলার বোলের জন্ম হল সেটি “আমারও না তোমারও না কে জানে কাহার বা” থেকে পরে অন্য নাম পেল। সে অন্য গল্প।
আসল কথাটা না বলে যত ধানাই পানাই- বাঙালীর স্বভাব। আসল কথা হল Full Throttle। ও হো, এখনো মানে বলি নি… ওই যে আগে আড্ডি (RD) বাবু হারমোনিয়ামের রিডগুলির বাইরে গিয়ে গান গাইতেন না? বা সাম্প্রতিক কালে আমাদের প্রিয় বাপ্পিদা গেয়েছেন “লড়কি তু হ্যায় বালি ব্রহ্মভাট…” সেই রকম। চালাও মোটর বোট হলদিয়া-র মতো ব্যাপার।
তার সপ্তকে বেঁধে নিয়ে জিন্দেগী গাড়ি চালাও fifth gearএ। তারপর পারলে Take off করো উড়ে চলে যাও স্বপ্ন পূরণের দেশে। এদিক ওদিক ঘুরে টুরে ফিরে এসো… দেখবে মাটি কি সুন্দর বুকে তুলে নেয়। আহা সবুজ ঘাসের গালিচায় মাখোমাখো খালিপায় হাঁটো। অনুভব কর মনের ভিতরে গালিচার মখমলে মোলায়েম আরাম… অন্তর্বাসের বিজ্ঞাপনের মতো।
কদিন আগে কোলকাতা যাবার পথে সহযাত্রীদের মধ্যে একজনকে পেলাম যাকে দেখে ডোকোমোর বিজ্ঞাপন মনে পড়ল। ট্রেন-এ যখন উঠলেন তখন মোড়া… তারপর ধীরে ধীরে লাচ্চা পরোটার মত পাক খুলতে শুরু করলেন… পাক্কা পাঁচ মিনিট পরে থামলেন অন্তর্বাসের আগের স্তরে এসে। শরীর তখন স্বচ্ছতোয়া নদী… বুঝলাম। প্যাকিঙের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে নিজেকেই প্যাক করেছেন। সেই মোল্লার গল্পের মতো… চিনি কম খেতে বলার আগে নিজেই চিনি কম খান।
আরেকদল এলেন এবং বিশুদ্ধ রাবিন্দ্রিক উচ্চারণে উর্দুর শায়েরীর মত ছেলেপুলেদের নির্দেশ দিতে লাগলেন। আমরা খুশী হলে হিন্দি বলি রেগে গেলে ইংরাজি। নিত্যানন্দরা তাই খুশী থাকার উপায় খুঁজে পেয়ে গেছেন বলেই মনে হল।
নাটক দেখলাম লাল ও সবুজ… অবিসংবাদিত কিছু উক্তি… “আমরা আর ওরা-র মধ্যে পার্থক্য জানেন না? রবি ঠাকুর বলে গেছেন- আমরা চঞ্চল আর ওরা অকারণে চঞ্চল”! সেই আমরা সবাই সব সময় দারুণ ভালো আর যত কুচুটে অকম্মার ধাড়ি রাজ্যের আনাড়ি হল ওরা। ছুৎমার্গ…অচ্ছুৎমার্গ সব মার্গই মোক্ষর দিকে যায় না… অধিকাংশ মার্গই যে দিকে যায় সেখানে মোক্ষ দা দাঁড়িয়ে থাকে গানের ওপারে ঝ্যাঁটা হাতে। ঝেঁটিয়ে সাফ করার জন্য। আজকাল তো মোক্ষদা গায়ে সুতির শাড়ি আর পায়ে হাওয়াই চপ্পল পড়ে মহাকরণে বসেন।
রাজনীতি যখন সাধারণ মানুষের নীতি হয়ে যায় তখন ছোট ছোট ছেলেরাও বড় বড় কাজ করে ফেলে- মাস্টারমশাইকে শাস্তি দেয়- সুকুমারী কায়দায় “ক্যান রে ব্যাটা ইস্টুপিট… পিটিয়ে তোমায় করব ঢিট!!” আরেকদল থাকে, পকেটমারের মত ঝোপ বুঝে কোপ মেরে বলে, আমি তো আগে করি নি… ঠেকে শেখা আর দেখে শেখা… পশ্চিমবঙ্গ দেখে আর ঠেকে… শেখে না কিছুই।
তিরিশ বছর পর মহাজাতি সদনে গিয়ে জিয়া নস্টালে আক্রান্ত হলাম। পিসি সরকারে বয়স কি সেই ছাব্বিশের পর আর বাড়ল না? S O R C A R… F O R ফর হয় তো S O R সরই হবে। আর গাড়ির ইংরাজি… সে তো একটা বাচ্চাও জানে। তাই হরলিক্স… আরে শরীরটাকে তো বাঁচাতে হবে? কিন্তু তার উপরে যদি একটা মুকুট থাকে আর মুকুটের সামনে সেই ভুবন ভোলানো হাসি বলে ওঠে আপনার মুখের সামনে দশটা আঙুল ঘুরিয়ে… “ই ন্দ্র জা ল”?
তাহলে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে ওই বাক্সটার মধ্যে ঢুকে যাই আর ম্যাজিক করে আমার ভিতরের কালোটা বার করে দিয়ে আলোয় আলোকময় করে আসি। মাঝে মাঝে ছোট হয়ে যাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল… ইলাস্টিসিটি কাজ করে ভাল।
পরবর্তী দৃশ্যপট কলেজ স্ট্রিট বই পাড়া… আরে যেখানে সারা বছর বই মেলা চলে সেখানে কেউ শখ করে বই মেলায় যায় রে খুড়ো? যায় যায় বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণে বই মেলাটাও তো যোগ হয়েছে আজকাল। একটা বই খুঁজতে বেরিয়ে কি বিপত্তি… মানুষের চলার জো নেই। শেষে নিজেকে স্টিমারে পরিণত করলাম তারপর ঢেউয়ের দোলে দোদুল দুলে দুলে এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে যাই- জিগাই “অমুক বই আছে?” আর কি সাংঘাতিক তমুক ঠিক তার আগেই নিয়ে চলতে যায় বা দুদিন পরে আবার আসিব ফিরে কালো সিঁড়িটির তীরে… কফি হাউসে- প্রতিশ্রুতি আদায় করে ফিরে যায়। শেষে নাকের বদলে নরুণ- কমলের বদলে নবারুণ বগলে পুরে বগল ফুলিয়ে বাড়ি।
নকুড় নন্দী… কোয়ালিটি! কোয়ালিটি! মুখে দিলে গলে যায় আহারে কি পুষ্টি! পুষ্টির গুষ্টির তুষ্টি পূজো করব! পেট খারাপ হলেও ছাড়ব না নকুড়ের জল ভরা তালশাঁস, মোহিনী! আহা- পরতে পরতে বিস্ময়! কামড় দিয়ে ভুলে যাও… উমম উমম! মিনিট খানেক তারপর ফিল্মি কায়দায় জিজ্ঞাসা করো, “ম্যায় কাঁহা হুঁ?” উত্তর আসবে “আচে আচে একাবিতে আচে! আএকটা দি?” আরে ইয়ে ভি কোই পুছনে কি বাত হ্যায়?
আজকাল আবার ক্যাডবেরি কম্পিটিশন করেছে… নকুড় না হিন্দুস্তান? গাঙ্গুরাম না ভীম নাগ? কে ভাল আর কে ভাল? কি ভাল আর কি ভাল! আরে দাদা সবে তে কি আমরা আর ওরা করা যায়? আমরা চঞ্চল আর ওরা অকারণে চঞ্চল!
এসপ্ল্যানেড চত্বরে আজকাল সবই পাওয়া যায় From আলপিন to Elephant! শুধু শীত পাওয়ায় যায় না। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও কুল কুল করে ঘামি… Cool আর রাখা যায় না! অনাদরই ডাক মোগলাইতে মন ভরে না পেট ভরে না। নিজামের কাটি রোলে জীভ রসনা মন ডুবিয়ে বসে থাকি… আরাম ক্যারাম হ্যায়… ইধার সে উধার যাতা হ্যায় আতা হ্যায়… মুসাফির হুঁ ইয়ারো… চলনা মেরা কাম… জনি মেরা নাম! জনি গতবছরই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ফুলোকা শবাব নিতে।
সময় চলে আসে সময় চলে যায়… দিন আসে দিন যায়। আর আমি চেটে পুটে নিতে থাকি শহরটাকে! এই শহরটাই তো এমন তিন বাঙালীর কর্মক্ষেত্র যাঁদের সার্ধশতবর্ষ উদযাপন করি দু বছর ধরে!
চতুর্দিকে মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে… খোকাবাবু লাল জুতো পায়… করে মুর্গি মারে ঝারি… মোক্ষ দা-ও তখন মারকাটারি… বেডরুমে বেডরুমে দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম… ফেলুমিত্তির পাঞ্জা কষে বাংলার বাঘের মত। পোসেনজিত ও কার কেটে র ফলা জোড়ে।
আলো কমে আসে আলো কমে আসে। দিন আসে দিন যায় রাত আসে… রূপসী চাদর দিয়ে মায়াময় রাত হাওড়া থেকে কোলকাতা… কোলকাতা থেকে হাওড়া দুটো দোলনা দুলিয়ে প্রেমের গান শোনায়! এক সপ্তাহর প্রেম কেটে গিয়ে ফিরে আসি বাস্তব দুনিয়ায়। পনেরো ডিগ্রি তাপমাত্রার পরিবর্তনও তখন গায়ে লাগে না। জীবন চলতে শুরু করে Full Throttle “লড়কি তু হ্যায় বালি ব্রহ্মভাট!!” বুকের মধ্যে কোথাও একটা নাম না জানা আলো জোনাকির মত টুকটুক করে লাফাতে লাফাতে গুন গুন করতে থাকে-“চল রাস্তায়- সাজি ট্রামলাইন- আর কবিতায় শুই কাপলেট…”
গভীরে যাও আরও গভীরে যাও… প্রয়োজনে ডুবে যাও- Full Throttle!!

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ গানের কথাটা কিন্তু “বম্বাট” ছিল… যদিও বুদ্ধিমান পাঠকের জন্য এই Disclaimerটা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু সব রকম সম্ভাবনাই তো মাথায় রেখে চলতে হয়… তাই না ফিস ফাস!!!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s