(১১৫)

জন্মদিন নিয়ে বার তিনেক লিখে ফেলার পর আবার লিখতে গেলে এই ফিসফাসের নাম হতো বোরিং ফিসফাস। কারণ এই যে জীবন শুরু হতে চলেছে বলে বিপণনের যে সব কায়দা তা নিয়ে উন্মুখ হয়ে থাকতেই পারি, কিন্তু সে তো নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার আনন্দে আমি নিজে তা থই নেত্য করতে পারি কিন্তু তা বলে অন্য লোকেও যে খুশ হোগা সাবাশী দেগা এমন কোন কারণ দেখি না। তবে আজকাল সোশাল নেটওয়র্কের চক্করে চাইলে আসমুদ্র হিমাচল পেরিয়ে শুভেচ্ছা শুভাশিস চলে আসে।

শুভাশিস প্রসঙ্গে বলতে পারি, শুভাশিস নামের এক বন্ধু হয়েছিল বেশ বছর দশেক আগে। বিজয়ার পরে পরেই। তা ছেলেটি প্রথম মোলাকাতে খুব স্মার্টলি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে হাল্কা ঠোঁট চিপে হেসে বলেছিল, “শুভাশিস”। আর আমি তো জন্ম ত্যাঁদড়, তার দিকে তাকিয়ে, বিগলিত হাসি দিয়ে বলেছিলাম “শুভ বিজয়া”। হজম করতে বেশ সেকেন্ড দশেক লেগেছিল তার। এবং একেবারেই পছন্দ হয় নি এই ধরণের ছ্যাবলামি। তা যাই হোক, ভাল দোস্তির নমুনাই হল প্রথমে ক্যালাকেলি আর পরে কোলাকুলি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তার ভিন রাজ্যে চলে যাবার আগে পর্যন্ত বেশ ভালই বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল।

তবে আমার পার্শ্ববর্তিনীটি মুখে কিছু না বললেও বেশ ভাবনা চিন্তা করে আমাকে একটা স্পেশাল দিন উপহার দিয়েছিলেন বটে। সে আর নিজ মুখে প্রশংসা করি কি করে? এখন এসে কেক টেক কাটা বেশ নজ্জা নজ্জা লাগে বটে। সেই বা কি করা যাবে। যে সমস্ত বিশেষ বিশেষ লোকজন আমাকে বিশেষ ভাবে পছন্দ করে তাদের সেন্টিমেন্টের তো একটা দাম আছে। আর সত্যি বলতে কি মন্দও লাগে না! সে ধেড়ে বয়সটা যতই কানের পাশ দিয়ে সারা মাথা জুড়ে উঁকি মারুক না কেন।

উঁকি বলতে মনে পড়ল আমার দশ মাস বয়সের পুঁটলি বাঈ বেশ উঁকি দিয়ে টুকি টুকি খেলতে শিখে গেছে, উলু দিতে শিখে গেছে আরও কত কি। তবে এসব তো বেশ স্বাভাবিকই। কিন্তু বছর এগারো পরে আবার একই ধরণের অনুভূতিটা ভিতর ভিতর বেশ রোমাঞ্চের সৃষ্টি করছে। একই রকম ভাবে অ অ্যা ক খ বাক্য রচনার দিকে হাঁটছে। পুঁটলিরা তো পোঁটলাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আর আমার পূজনীয় পিতৃদেব মাতৃদেবীকে জিজ্ঞাসা করলেই উৎস খুঁজে পেতে দেরী হবে না পুঁটলি পোঁটলারা ল্যাজবিশিষ্ট কি ভাবে হল।

আমার জন্মদিনটা আবার বেশ কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তির জন্মদিনের সঙ্গে মিলে গেছে। সবার মধ্যে প্রিয়তম হলেন সলিল বাবু। (সুস্মিতা সেন বলতে পারলে যে মন্দ লাগতো তা নয়। কিন্তু বিধি নাচার)। গতবছরই সলিলবাবুর এক ছাত্র ও ভাবশিষ্যকে নিয়ে একটা আড্ডায় স্মরণীয় গানখেলা হয়েছিল মনে পড়ে গেল।

সলিল হেমন্ত সুমন এসব শুনেই তো পথ চলতে শিখলাম। আইডল। খেলার মাঠেই বলুন আর মিউজিক বা সিনেমার দুনিয়া- আইডল পুজো আমাদের মজ্জাগত। আইডলের সব ভালো, তাদের হাসি কাশি টিকটিকি নিয়ে কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। সে রাধিকারমণই হোক আর রমণীমোহন। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার দেখেছি, আমি যাদের আইডল বলে মনে করি তারা কোথাও না কোথাও গিয়ে মানুষ হিসাবে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। অবশ্য তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, আমার সেই আইডল থেকে চাহিদাটা দেবতার প্রসাদের পর্যায়ে চলে গেছে হয় তো। আরে আজহার, বরিস বেকার, অমিতাভ বচ্চন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এরা সকলেই তো রক্ত মাংসের মানুষ। ভাল খারাপ ভুল ঠিক নিয়েই। King can do no wrong কনসেপ্ট নিয়ে ভাবতে বসলে সবার আগেই মনে হয় তুমি কে বাওয়া? তোমার এত চাইবারই বা কি আছে? একি পুরাকালের মেয়ে দেখতে যাওয়া নাকি? চলন বলন রন্ধ্রণ সব দেখে তবে বেছে নেওয়া। তাও ফুলশয্যার রাতে হয়তো দেখা গেল দাঁতটাই ফলস। ব্যাস ফল খাওয়াই মাটি।

আসলে ফিসফাসের দোষই হল গৌড়চন্দ্রিকা। তবে আসলে ঘা খেতে খেতে সত্যি কথাটা স্বীকার করার সময় একটু সময় বেছে নিতে হয় বই কি! সেই যে সেই নিরানব্বইয়ে ম্যাচ ফিক্সিং থেকে শুরু, তার তো শেষ দেখি না। শেষ মেশ জন জাগরণের নেতা কবীর বাবুও সেই লাইনেই পড়লেন। তা আর কি করবেন? ভুলভাল কাজ কম্ম কল্লেই তার অজুহাতের পাহাড় জমে যায়। আর পরবর্তীকালে অর্ধসত্য অর্ধ মিথ্যা মিলিয়ে মিথ হয়ে চলে যায়। সেই ভাবেই দেখুন, বয়স হয়েছে, অসুস্থতা- সব মিলিয়ে মাথা ঠিক রাখতে পারেন নি! ক্ষ্যামা ঘেন্না করে দিন না হয়! গান গান, গান বাঁধেন তো গান শুনুন আর বাদ বাকি? দু কানের মধ্যে একটুও কি ফাঁকা জায়গা রাখেন নি?

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ তা বলে বাপু ক্রিকেটের ভগবানে এই এতদিন ধরে রাগ পুষে রাখাটাও ঠিক নয়। বই বেচার জন্য তাঁকেও মানুষের পর্যায়ে নামতে হল, কি বলেন?

প্র পু ১ গতবারের জন্মদিনটা অন্যরকম ছিল, মানে সেই শেষবার তার গলাটা শুনেছিলাম- লাইভ- ফোনে হলেও। তারপর তো এখন স্মৃতিটুকু থাক হয়ে গেছে। ভাইটা এখন কোথায় আছে কে জানে?

Advertisements

2 thoughts on “(১১৫)

  1. জন্মদিনের অনেক বিলেটেড শুভাশিস, থুড়ি, শুভেচ্ছা। আপনি আপনার পোঁটলাপুঁটলি ও তাদের শেয়ারহোল্ডারকে নিয়ে দীর্ঘ, সুস্থ ও সুখী জীবনযাপন করুন এই আন্তরিক কামনা জানিয়ে রাখলাম, সৌরাংশু।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s