(১২৪)

চোখে হারানোর রঙ

বিশ্বাস করুন, ষোলো বচ্ছর কোন সম্পর্ক ছিল না। প্রথম প্রেমও না যে আঁচড় গভীর হবে। এতো অলসো রানেদের দলে ছিল। বেড়ে ওঠার সঙ্গী বই পড়া বই পাড়া মেলা বই বই মেলা। তবে স্বার্থপরের মতো নিজের বই বেরনোর সময় থেকেই খালি আনটান শুরু হলো। গত দু বছর আসতে না পারার দুঃখটা যেন আসার পর বেশী করে বাজছে। বেহালার ছড়ে টান দিলে রেশ থেকে যায়, জাত কফিতে চুমুক দিলে রেশ থেকে যায় আর বইমেলার রেশ চোখ ছড়িয়ে মুখ ছড়িয়ে ছেয়ে যায় বুকে। মাত্র একদিনের জন্য ভিন রাজ্য ভ্রমণ, তাও এখন যেন মনে হচ্ছে কি সব হচ্ছে ওই দশ বাই দশের খুপরিটায়। বুড়ো বয়সের প্রেম, বুঝলেন না?

চার কদম… দুই পা ফেলিয়া

পঁয়তাল্লিশ মিনিটেই স্বর্গের সীমারেখায়। গৌহাটি আসি নি কখনও। শহরটা ঘুরেও দেখা হল না কাজের চক্করে। কিন্তু কামাখ্যা ছুঁয়ে নামতে নামতে মনে হলো তারাদের হাতছানি ওই নীচ থেকেই আসছে। সন্ধ্যার ব্রহ্মপুত্র গড়গড়িয়ে জানান দিয়ে যাচ্ছে আমি আছি। আছি হেথায়। বুকে ভাসা হল না হয়তো কিন্তু ভাষা খুঁজে পাবই এই বিশ্বাস রেখে গেল সে।

ভিন্ন ক্ষমতা- সহানুভূতি নয় সুযোগ চাই

রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইণ্ডিয়ার সেমিনারে স্পেশাল এডুকেটরদের আশার বাণী শোনাতে শোনাতে বার বার বলতে হল। তারাও একমত। প্রতিবন্ধকতা নয় ভিন্ন ক্ষমতা, সহানুভূতি নয় সুযোগ চাই। বেড়ে ওঠার সুযোগ লালন পালনের সুযোগ আর চাই কাজের সুযোগ। মানুষের সেবায় গ্যাঁটের কড়ি গুনতে গেলেই পকেট ফুটো থেকে যাবার সম্ভাবনা। সমবেদনা নয় সংবেদনা- পরিবর্তন আনুক সমাজে। ডিসেবেল্ড পরিবর্তিত হোক ডিফারেন্টলি এবেল্ডে।

ফিরে যাই ফিরে যাই

বইমেলাটা শুরু থেকেই চমকে দিল আমায়, মাথায় বুকে পায়ে চমক। মেলাপ্রাঙ্গণে ধুলোর অভাব, তো কি হয়েছে! আসাযাওয়ার পথ তো ধুলোমলিন! পরিচয়, পরিচয়। পুরনো পরিচয় নতুন হয়ে দেখা দিচ্ছে। নতুন পরিচয় যেন কত দিনের পুরনো এমন ভাবে বুকে নিচ্ছে। সেই যে সেই ভদ্রলোক এক দুজন বিশিষ্ট লেখক ছাড়া পড়বেনই না। জায়গার বড় অভাব। শুধুমাত্র আন্তরিকতায় ভর করে বন্ধু হয়ে গেলেন। টানে টানে দুদিন চলে এলেন, শুধু মাত্র আড্ডা দিতে।

আরেকজন শুধু বইয়ের লেখক নামায় চেনা, অচিনপুরের বাস থেকে নেমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটলেন। গল্প দিয়ে চমকে দিলেন। আরে এ তো আমারই মতন ভাবে। আগলে রাখতে হবে দেখছি।

আরেকটি সে তৈরী ছেলে, বছর দুয়েক আগে মনোমালিন্য হয়ে এখন বন্ধুতালিকা ছাড়া, কিন্তু বই আগলে বাণিজ্যে সে তো আমার পথের পথিক। আহা ছোট হোক বড় হোক, গাল টিপে আদর করতে দোষ কোথায়।

আরও যারা সব কোরিয়ায় বসে সাধ করিয়া কবিতা লেখেন বা দেহরাদুন চালের সুগন্ধের মতো অল্প স্বল্প কবিতায় ভাসিয়ে রাখেন বা বরফ বন্দী তাজা প্রাণ বা পথ চলতে চলতে লিখে ফেলে লাইন বা তেরোর গেরোয় আটকে থাকা প্রাণ, গোপন বাঁচায় সুর ধরানো গান, বিনি সুতোয় গেঁথে নেওয়া মালা, এক জীবনে অনেক জীবন মালা। অভিযানের পাতায় পাতায় সুখ, উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপাল যে বুক।
আরে রাখুন সাহেব কাব্যি করবেন না, জীবনের থেকে বড় কাব্যি আর দুইখান নেই।
P1150313

বাইটে বাইটে প্রশ্ন পরতে পরতে সৃষ্টি- স্মৃতিতে স্মৃতিতে টুকরো, উপেক্ষিত যে বৃষ্টি। হুই হুই! আবার পদ্য করছে। তুমি বাপু ফিসফাসাও, সেইখানেই তুমি বাঁচবে। আর রোহণ রোহণ রোহণ। আমার এই তরল কলমে তো টালার ট্যাঙ্ক ভরতে পারি না। ছোট্ট কাঁধে এতটা জোয়াল টানার জোর, ছোট্ট বুকে এতটা গভীরতার ব্যাজ। সিরিয়াসলি বলছি অন্ত্যমিল দেব না বলেই বললাম ব্যাজ। আসলে স্তুতিতে শব্দ খতম হবে না। খামোখা বইমেলাটা খতম হয়ে যায়।

স্টপ ওভার

আবার কালকে আসব আবার ঝড়ের কাছে রেখে যাব ঠিকানা। কাল থেকে আর মাত্র তিন দিন তবু তাতে কি? এক সপ্তাহে এক জীবনের গল্প ঝেড়ে বেছে নিলাম। আবার আসতে হবে, তবে সত্যি বলতে কি বাক্স প্যাঁটরা ছাড়া এতদিন ঠিক মন টেকে না। তাদেরকেও কোন না কোন ভাবে ছুঁয়ে থাকতে হবে। ছুঁইয়ে রাখতে হবে। তারাও তো বইয়েই বাঁচে। এক মন না হলে এক প্রাণ থাকব কি করে বলুন তো?

কাল থেকে আবার সেই ৪৫৭ নম্বর স্টলে! আসবেন তো?

10687981_10153059630295763_1247873749102847541_o

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ আরে বিশাল টেনশন… বইমেলা থেকে ফেরার পথে মানি স্কোয়ারে অটোয় উঠেছি গুনগুন করে গান গাইছি। ওমা পাশের একটি অল্প বয়সী মেয়ে বলে, “আপনি সৃষ্টিসুখের সৌরাংশু না?” গেল ধ্যাস্টামোর মোষ জলের মধ্যে… আর গান গাইবি মনা?

প্র পু ২ আরেকজন হেবি ঘ্যাম নিয়ে রান্না বা গানের বই খুঁজতে এসে ফিসফাসের পাতা ওলটালেন। পড়বি তো পড় গানের গুঁতোর পাতায়। তাই দেখে তেনার কি আনন্দ, “আসলে মিউজিকের লাইনের লোক তো! ছবিটা দেখে মন ভালো হয়ে গেল। আচ্ছা ফুডকোর্টটা কোনদিকে বলতে পারেন? ……

Advertisements

3 thoughts on “(১২৪)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s