(১২৫)

বন্ধুর বাড়ি ওপারে

দাঁড়ান দাঁড়ান! আগে কয়েকটা ছবি টাঙিয়ে দিই। বাকি লেখালেখি তো আজকের বাজারে কাগজের পাতা ওলটালেই পেয়ে যাবেন হাই ভোল্টেজ ম্যাচ বলে কথা।
Javed-Miandad-Last-Ball-Six-Against-India-Sharjah-1986

inda-vs-pakistan_enl

Jadeja

236533,xcitefun-world-cup-1996-1

India vs Pakistan 1996,1999,2003 world cup encounters highlights

venkatesh-prasad

sachin-upper-cutting-shaib-for-six-world-cup-2003

victory

237550,xcitefun-world-cup-india
ভারত পাকিস্তান নিয়ে আমার প্রথম স্মৃতি বলতে সেই ১৯৮০তে আসিফ ইকবালের বিদায়ী ম্যাচ। সেই ম্যাচেও কিরমানির হাতে বল থাকা সত্ত্বেও আসিফ ইকবাল আর জাভেদ মিয়াঁদাদ সিঙ্গল চুরি করে নিয়ে চলে গেল।(এই ছবিটা কোথাও খুঁজেও পাই নি) তার পর রথম্যান্স কাপে ভারতের ১২৫এর জবাবে পাকিস্তানের ৮৭তে গুটিয়ে যাওয়া পেরিয়ে অস্ট্রেলেশিয়া কাপে চেতন শর্মার শেষ বলে ছক্কা। ইডেনের বুকে প্রথম সীমিত ওভারের ম্যাচে সেলিম মালিকের অতিমানব হয়ে ওঠা এসব পেরিয়ে ৯২এর বিশ্বকাপে প্রথম দেখা।

তার আগে অবশ্য ৮৭র বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে দুই দলের হেরে গিয়ে ইডেনের ফাইনালে বিরিয়ানির বদলে শুকনো চিঁড়ে চিবনোর মত করে ইংল্যণ্ড অস্ট্রেলিয়া আর ৮৯-র নেহেরু কাপে শেষ ওভারে ভিভ রিচার্ডসের নির্বিশ অফস্পিনে ওয়াসিম আক্রমের বিশাল ছক্কার উৎসবে ড্রেসিংরুম ভরে যাওয়ার গল্পও রয়েছে।

বিরানব্বইয়ে মিয়াঁদাদের নিষ্ফল নাচ, ছিয়ানব্বইতে জাদেজার ওয়াকার ইউনিসকে ক্লাবস্তরের বোলারে নামিয়ে আনা, নিরানব্বইতে বেঙ্কটেশ প্রসাদের পাঁচ উইকেট, দুহাজার তিনে শোয়েবকে শচীনের থার্ডম্যান গ্যালারিতে ফেলে দেবার পর গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ফিফথ গিয়ারে চাপ না দেওয়া। এর মধ্যে আবার প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে মিসবার অকল্পনীয় চামচ ক্যাচও রয়েছে। ভারত পাক ম্যাচ মানেই ‘হর হর মহাদেব’ ‘জিয়ে জিয়ে পাকিস্তান’-এর জিগির আর দেশগৌরবের আমদানি। কালকেও একটা নিউজ রিপোর্ট দেখলাম। অ্যাডিলেডের ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা আবদার করেছে ওয়ার্ল্ড কাপ চাই না কিন্তু পাকিস্তান ম্যাচ হারা চলবে না। কিন্তু এতটা হাই ভোল্টেজ সাস বহুর নাটকের মধ্যে স্বচ্ছন্দে ভুলে যাই যে এটা শুধুমাত্র একটা খেলা। খেলাকে খেলার মাঠে রেখে আসতে আর কবে শিখব কে জানে?

রক্ত… এত রক্ত কেন রাজা?
71349-004-5D04A44D
সেদিন পার্শ্ববর্তিনীর সঙ্গে আড্ডা হচ্ছিল প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে। হানাহানি আর রক্ত যে কেন ১০০ বছর পরেও এত প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে সেটাই অকল্পনীয়।

ভাবতে পারেন, যে পৃথিবী গত শতকের শুরু এবং মাঝামাঝিতে ওই দুটো যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে সে এখনো শিক্ষা নেয় নি? মৃত্যু এখন শুধুমাত্র একটা সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। পৃথিবীতে ঘৃণার পাহাড় দুদিকেই বাড়ছে। শার্লে এবদো, ৯/১১, ৭/৭, আল কায়দা, তালিবান, পেশোয়ার, আইএস, ইজরায়েল-ফিলিস্তিন, ইউরোপ অ্যামেরিকা আর মধ্যপ্রাচ্য। সংখ্যা দিয়ে সংশয় আর ঘৃণার পরিমাপ করা যাবে না।

রক্তক্ষয় বন্ধের সব থেকে শুরুর রাস্তা হল সংবেদনশীলতা। বিভেদকে গ্রহণ করেই তাকে মিলনের অন্তরায় না করে রাখা। আমরা ওরার রাজনীতি বা কূটনীতি মানুষের মাথার দামের হিসাব কসতে কসতেই জীবন কাবার করে দেয়।

বই না ফিশফ্রাই?

পাঠক পাঠিকারা, আমি নিজে ভোজনবিলাসী, তাই খাবার খাবার অদম্য চাহিদাকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারি না। তাই হয়তো এই অংশের অবতারণা। ধরুন স্বামী স্ত্রী দুজনের একজন বই ভালবাসেন আর একজন বাসেন না! বইমেলায় উভয়কেই আনতে গেলে তো রকমারি রংচঙে বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের স্টলও তো রাখতে হবে। হাজার হোক বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বইমেলা বলে কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বোধহয় কোথাও একটা অনুপাতের গণ্ডগোল করে ফেলছেন। মানে গুণমানের থেকে সংখ্যাকে আগে রাখতে গিয়েই এটা হয়ে যাচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলোর বুদ্ধিমত্তাকে মাটিতে শুইয়ে দেওয়া প্রচারগুলো দেখে সেটা আরও বেশী করে মনে হল। রোজ পাঁচ কোটি নাহলেও চলবে। সবাই থাক বইয়ের মিলনমেলায়। কিন্তু গুরুত্ব যেন বই বই আর কিছুতে না থাকে। শব্দকল্পদ্রুমের চাপে বইপাঠকের সংবেদনশীল মন চাপা পড়ে গেলে পড়বে কে?

আর যাঁরা পার্কস্ট্রীটের ময়দান নিয়ে হাহুতাশ করেন তাঁদের জন্য বলি। আমার ছেলেবেলায় বাবা দশ টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে ব্যাগভর্তি বাজার করে নিয়ে আসত। দুপুরের অবসরে গল্পের বই, মাঠে নেমে ক্রিকেট খেলা, সবুজের সমারোহ সব ছিল। কিন্তু টিভি ছিল না কম্পিউটার মোবাইল কিচ্ছুটি ছিল না। কিন্তু তারপর একটু বড় হবার পর বইমেলা থেকে ফিরতাম ধূলোভর্তি মাথা নিয়ে। ময়দান কোলকাতার ফুসফুস, সেখানে যদি নিকোটিনের ছোপ লাগিয়ে দিই, শহরটাই তো বাঁচবে না।

তাই মিলনমেলা, কদিন অপেক্ষা করুন না। শহরটাও তো তরতর করে এগোচ্ছে। সব নাগরিক সুযোগ সুবিধা আপনার হাতের কাছেই পাবেন। তখন আর ছেলেভুলানো গল্প, “আমার ছেলেবেলায় এই ছিল ওই ছিল”তে ভরসা করতে হবে না। আপনার ছেলেমেয়ের ছেলেবেলার গল্পও দেখবেনে আপনার ভাল লাগতে শুরু করেছে।

ষোল বছর পরে বইমেলায় এলাম… কোলকাতা বইমেলা। দিল্লিতেও হয় বইমেলা। ওয়র্ল্ড বুক ফেয়ার। বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের ৫০টি স্টল নিয়েও বইমেলা হয়। কিন্তু কোলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার বিশালতার কাছে এরা সব মুসুরডাল। আর উন্মাদনা? কিচ্ছুটি লাগবে না, লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে চলে যান। সমান্তরাল সাহিত্য আজও বুক বেঁধে আপনার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। কুড়ি পনেরো দশ বছরের পুরনো মুখগুলো পেরিয়ে যখন কচিকচি মুখগুলো কপালের ঘাম মুছে, নতুন সংখ্যাটা অন্যদের থেকে কেন আলাদা সেটা বোঝাবে, তখন আশার সঙ্গে ভালবাসাও ছিলর জায়গায় আছে হয়ে দেখা দেবে। তবে ভণ্ডামি যে নেই তা নয়, তা সে সব দেখতে বসলে তো আপনার চলবে না। আপনি উপরের ক্ষীরটা খান। নীচে নোংরা অবশেষের চিন্তা পুরসভার।

একটু সৃষ্টিসুখ

থাক! ফেসবুকের পাতায় গলা কাঁপিয়ে অনেক ভাষণ দিয়েছি। আর দিলে আপনারাই ফিসফাসকে বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলবেন। তবে কি না যাকে নিজের বলে মনে করি তাকে নিয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে লজ্জা কিসের। বাংলা প্রকাশনার জগত যখন মেঘে আচ্ছন্ন। বড় প্রকাশকের মৌরসিপাট্টায় ছোটদের নাভিশ্বাস উঠে যাবার অবস্থা। কিন্তু বড়রাও সংখ্যা দিয়ে গুণমানের বিচার করতে গিয়ে ফেলে ছড়িয়ে মেখে একশেষ করে ফেলছেন সেখানে অভিযান, ধানসিঁড়ি, সৃষ্টিসুখ এরাই কিন্তু বিকল্প পথ দেখাচ্ছে। প্রতিভাস পারুল পুনশ্চ এরাও হয়তো আরও এগিয়েছে। তবে লক্ষ্য রাখুন। বই কিন্তু সইয়ের জায়গা ছাড়তে রাজী নয়। নতুনরাও যেমন লিখছি, তেমন পুরনোরাও নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলতে।
P1150313
সৃষ্টিসুখ আমার প্রথম বইয়ের প্রকাশক, আমার দ্বিতীয় বইয়েরও। রোহণ এবং সৃষ্টিসুখের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা তাই ভাষায় ভাবা সম্ভব নয়। ভালবাসার আরেক নাম সৃষ্টিসুখ।

এবং রাজনীতি

রাজনীতি নিয়ে বাঙালীর ছুঁতমার্গ বরাবরই। আমারও যে নেই তা নয়। বাঘের এক আর পুলিশের আঠারো পেরিয়ে রাজনীতির ছত্রিশ ঘা নিয়ে আমরা বড়ই কাতর। মতামত একটা আছে তবে নিরপেক্ষতা যাতে না হারাই সেটা মাথায় রাখতে গিয়ে মন্তব্য করা হয়ে ওঠে না। তবে সাম্প্রতিক দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল অনেক কিছুই দেখাচ্ছে। দেখাচ্ছে সাধারণ মানুষও দূর থেকে ঝারি না মেরে যুদ্ধে নামতে পারে সরাসরি। অন্ততঃ আজকের জনতা তাই চাইছে। যে নিজের মতো কেউ আসুক আর সব কিছু সাফাই করে দিক।

তবে ঝাড়ু নিয়ে এখনি আশাবাদী হবার মতো কিছু দেখি নি। নিরাশাও নয়। নির্বাচনী ইস্তেহারে বড় বড় বাতেলা মারা তো রাজনৈতিক দলগুলির একচেটিয়া হতে পারে না। তাই ৫০০ স্কুল, ১০০ কলেজ, শহর জুড়ে ওয়াই ফাই, সিসিটিভি, এসবগুলো জাদুর ছড়িতে হয়ে যাবার আশা না করাই ভাল।

কিন্তু আট নমাস আগেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসার পরেও মুখ থুবড়ে কেন পড়ল একটি দল? তার পিছনে সাবোতাজের গল্প আছে না আত্মম্ভরিতায় অন্ধত্বের গল্প আছে, সেটা মনে হয় দেখার দরকার আছে। আপের জয় তাই সাধারণ মানুষের টনকে টানের মধ্যেই যাতে সীমাবদ্ধ না থাকে এই আশাতেই আরেকবার বুক বাঁধলাম। আসলে ধাক্কা খেতে খেতে আর বিশ্বাসভঙ্গের গল্প শুনতে শুনতে আজও আমরা গরু হারাই নি। পৃথিবীর শেষ স্টেশনের খোঁজটা যে এ জীবনে যাবার নয়। আমেন।

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ বইমেলার একদিন, বন্ধুর বই নিতে ধানসিঁড়ির স্টলে গেছি, এক ভদ্র সন্তান এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “নজরুলের কবিতার বই আছে?” স্বাভাবিক উত্তর, “না নেই”। এই অবধি কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তারপরেই ধেয়ে এল তাঁর স্বগতোক্তি, “নজরুলেরও বই রাখে না এরা!” কি হল কে জানে, সম্পূর্ণ অনধিকার চর্চা করে ভদ্রলোককে ডেকে বললাম, “আপনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সাহিত্য অ্যাকাদেমী বা বাংলাদেশের স্টলে পেয়ে যাবেন। আসলে আমরা ছোট প্রকাশক তো! নজরুলকে ঠিক মতো কদর করতে পারব না বলেই রাখি না।”

প্রয়োজনহীন পুনশ্চ২- শান্ত স্বভাবের রোহণ দাঁড়িয়ে আছে সৃষ্টিসুখের স্টলে। তাকে এসে আরেক ভদ্রসন্তান জিজ্ঞাসা করল, “লিটল ম্যাগাজিন?” হাতে তার আনন্দ এবং দেজের ক্যাটালগ। রোহণ ধৈর্য নিয়ে তাকে সৃষ্টিসুখ কি, কি ধরণের বই বের করে তা বোঝালো। সে কি বুঝল কে জানে, “লিটল ম্যাগাজিন না আমি ঠিক বুঝি না!” বলে চলে গেল। লাও ঠ্যালা।
10986511_10153067337550761_105309937910942553_n

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s