(১৭০)

বেশী সময় নেই বুইলেন। সদ্য সদ্য কোল্কেতায় এসে পৌঁছেছি, আর এখনই যদি আপনাদের সঙ্গে পিরিত করি তাহলে আমার প্রথম প্রেমিকাই রাগ করবে। সে যাই হোক এয়ার ইণ্ডিয়া আজকাল মানুষজনকে পাক্কা নিমাই সন্নেসী বানাবার ধান্ধা করছে। এমনিতেই কস্টকাটিং-এর চক্করে এয়ার ইণ্ডিয়ার ইস বার শনিবার আব কী বার মঙ্গলবার।

তা গতবারে কোলকাতা আসতে গিয়ে বললাম তো ঘুমের ঘোরে ‘জৈন মিল’ খাইয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেটা ছিল ঘুঘনি আর পরোটা। আর নর্মাল মিল দিয়েছিল ক্যারামের স্ট্রাইকারের সাইজের ইডলি আর মাকড়ির সাইজের বড়া। যে কোন সুস্থ পেটের এবং মস্তিষ্কের মানুষ পরেরটা ছেড়ে আগেরটাই খাবে। আমিও নিজেকে সুস্থ বলেই দাবী করে থাকি! অতএব এবারেও আসার সময় আগ বাড়িয়ে আমি ‘জৈন মিল’ খাব বললাম আর এবারে আমার বাক্স প্যাঁটরারা নর্মাল ভেজ মিলই নিল।

কিন্তু এবারে তো মিলে সুর মেরা তুমহারা হয়ে গেছে। তিন দিন আগেই আমি ময়ূর বিহারের মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে পাঁচ মশলার ফুচকা খেয়েছি। জিরের জল, ধনেপাতার জল, হিংএর জল, পুদিনার জল আর কেওড়ার জল। নাকের জল চোখের জল না ফেলেই বলছি হিং আর কেওড়াটা আমার মেফিস্টোফিলিস লেগেছিল। এই রে কর্ড লাইন ধরে ফেলেছি!

তা যা বলছিলাম! আমার জৈন মিল খুলতে দেখি ইক্কিরে বাওয়া! এখানে বিয়ের আংটির সাইজের বড়া আর ধনে পাতা দেওয়া পাঁচ সিকের সাইজের সাদা রঙের একটা কিছু যাকে ইডলি বা পরোটা বলতে মন সরে না। সঙ্গে অবশ্য একটা জাঁদরেল লাল লঙ্কা দেওয়া সাম্বারও দিয়েছিল। আর কেলো টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি কেসে দেখি বাক্স প্যাঁটরারা ঘুঘনি পরোটা প্লেটে নিয়ে আমার দিকে মুচকি হেসে চোখ নাচাচ্ছে।

সে যাই হোক সেসব খেয়ে আমার অপাপবিদ্ধ পেটে জেলুসিল গোঁজার অবস্থা হয়েছে। কিন্তু একটা কথা বলতেই হচ্ছে! নেহাত পার্শ্ববর্তিনী সক্কালবেলায় পনেরো মিনিট পরে সবার ঘুম ভাঙা সত্ত্বেও অবিশ্বাস্য তৎপরতায় একটা জবরদস্ত চিজ অমলেট খাইয়ে বাড়ি থেকে বার করেছিল তাই আজ টিকে আছি। কিন্তু তিন দিনের বাসী বড়া আর আধকাঁচা ইডলির মতো কিছুটা এখনও পেটে গজগজ করে যাচ্ছে। যাই হোক, কোলকাতা আমার দুঃখ ভুলিয়ে দেয়, এবারও দেবে বলে আশা রাখছি। আর সেই সব বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আবার দেখা হবে জেনেই পুলক লাগছে, যা পুদিনহরার মতো গলা ছুঁয়ে বুক পেটে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

আজ তাহলে এ পর্যন্তই!

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ সকালে তিনটেয় একটা অ্যালার্ম মেরেছিলাম নিজের মোবাইলে আর ব্যাকআপ হিসেবে পার্শ্ববর্তিনীর মোবাইলে তিনটে দশ-এ! আবিষ্কার করলাম যে তিনটে দশের অ্যালার্মটা এখন বাজছে। ভর বিকেলে কোলকাতার বুকে, শান সে! না আসার সব ব্যবস্থাই করে রেখেছিলাম। কিন্তু কেমন করে জানি না আমার বাক্স প্যাঁটরাদের উৎসাহে এসে পড়েছি বটেক।

Advertisements

3 thoughts on “(১৭০)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s