(১৬২)

 

সাধারণতঃ আমি নাগরিক হিসাবে বেশ ভালো। নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্দেশানুসারে চলাটা একদম রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এতদিনের সরকারি মুটেগিরির এফেক্ট বলতে পারেন। চট করে খাঁই মাই করে প্রতিবাদ না করে আগে দেখার চেষ্টা করি ব্যাপারটা কি। বিশেষতঃ সরকার বা রাষ্ট্রযন্ত্র ভিতরে থাকলে তো বটেই।

১৭ বছর হয়ে গেল সরকারি ঠিকানায়, লোকে বলে সরকারি চাকুরেগুলো নাকি ফ্রিতে বিষ পেলেও তা খেয়ে নেবে! তারা আরও বলে, সরকারি কর্মচারীদের কাজ করতে হয় না! ‘আসি যাই মাইনে পাই, কাজ করলে ওভারটাইম পাই’! একজন সরকারি কর্মচারীর দিনপঞ্জী লিখতে গিয়ে এটাই মোটামুটি ট্র্যাডিশন ধরে নেওয়া হয় যে সে এগারোটায় অফিস যায়, ছেলে হলে দুটো ফাইল নাড়িয়ে চা খেতে বসে মহিলা হলে উল বুনতে বসে। দুপুরে লাঞ্চ দেড় ঘন্টা তার পর এক কাপ চা খেয়ে বাড়ি। ভালো কথা! যুগ যুগ ধরে সরকারি চাকুরেরা ইম্প্রেশনটা সেইরকমই করে রেখেছেন বলেই না এসব কথা!

আবার নদীর এপারের গল্পও আছে, সরকারি চাকর হবার জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা অব্ধি ঘস্টানো, মন্ত্রী বা আমলাদের পা চাটা, ঘাড়টাকে তলপেট পর্যন্ত নুইয়ে তাদের মনমর্জিমাফিক ল্যাজ নেড়ে যাওয়া, না পারলেই কম্ফোর্ট জোনের বাইরে ছুঁড়ে ফেলা। এরপরেও কাজ করলেও একই মাইনে কাজ না করলেও! বরং যারা কাজ করে, ঘাড় সোজা রেখে কাজ করে তাদের ধরে ধরে মাঝেই তুর্কীর ক্যুতে চুকিতকিত খেলতে পাঠানো হয়।

যাকগে পাঠক পাঠিকারা, উপরের হাবিজাবিগুলো স্রেফ ভুলে যান! আসুন কালকের গল্পে নামি! দেখুন হামি গরীব আদমি আছে! তাই ডব্লিউএইচ প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারব না। কেন কবে কি বৃত্তান্ত! কিন্তু ঘটনা হল, বিকলাঙ্গ সশক্তিকরণ বিভাগের অ্যাক্সেসেবল ইন্ডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য একটা সুপার বাইক র‍্যালি সংঘটিত হল রবিবার। আর তাতে ভর সকালবেলায় সাড়ে চারশো সুপারবাইকার তাদের ন্যুনতম ৫০০ সিসির সুপারবাইকের ১০০০ ওয়াটের হেডলাইট জ্বালিয়ে ঢ্যাকঢ্যাক করতে করতে ইন্ডিয়াগেটে এল আর গেল! আর হুজুগে পাবলিক সেলফি তুলে তুলে হয়রান হয়ে গেল।

ও হ্যাঁ মন্ত্রী আর আমলাদের সঙ্গে ছিলেন দেশের অন্যতম ‘সুপারস্টার’ বিবেক ওবেরয়। সবাই বিশাল বিশাল মানুষ। এদের ভিড়ে আমি থাকি টাকি না! নিজের কাজ করে টুক করে সরে পড়ি। এবারেও আমার দায়িত্ব ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ডঃ হর্ষবর্ধনকে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে ব্রিফ করা এবং তাঁকে অন্ধের যষ্টির মতো এস্কর্ট করে নিয়ে আসা। হর্ষবর্ধন অতীব অমায়িক ব্যক্তি। তাঁকে ব্রিফ করার সময়ও চুপ থাকেন, তাঁকে ক্যাম্পেনের টিশার্ট পরবার জন্য অনুরোধ করলেও মেনে নেন। আর চ্যাংড়া চামচার দল যখন বারফট্টাই করে কাউকে ভোর সাতটায় তার ইয়ার দোস্ত ‘মন্ত্রী’র সঙ্গে দেখা করাতে আনে তখনও হাসিমুখে মেনে নেন। এমনকি অতিরিক্ত উত্তেজিত কোন সহনির্দেশক, অনুষ্ঠান মঞ্চের দিকে ডাক্তারবাবুর যাবার সময় যদি ধাক্কা মেরে চলে যায় তাহলেও কিছু বলেন না এবং সেই সহ নির্দেশককে রীতিমতো বকাঝকা করে যদি ডাক্তার বাবুর এসকর্ট ডাক্তারবাবুর কাছে ক্ষমা চাওয়াতে বাধ্য করে তাহলেও হাসিমুখে তা মেনে নেন।
কিন্তু সকলেই তো সেরকম হয় না! সরকারী ক্ষেত্রে লুকানো কারণ সর্বত্র থাকে! কে কোথায় কার নম্বর বাড়াচ্ছে সে সব জানিয়ে কি করব বলুন! শুধুমাত্রা নিজেকে মাঝে মাঝেই এই পৃথিবীতে বড়ই অপাংক্তেয় বলে মনে হয়। উদ্দেশ্য বিধেয় কিস্যুটি খুঁজে না পেয়ে কেমন যেন ম্যাদামারা ভ্রমণ করছি! উদ্দেশ্যহীন, বিধেয়বিলীন!

সে যাই হোক, তারপর একটা লম্বা মিটিং সামলে বাড়ি ফিরলাম সাড়ে তিনটে। এবারে পার্শ্ববর্তিনীকে নিয়ে একটু ইডলি উডলি উহু করতে গাড়ি নিয়ে বেরোলাম। আনন্দবিহারের দিকে যাচ্ছি! রাস্তা একদম গড়ের মাঠ! ফ্লাইওভার চড়লাম! রেডিওতে একটা বেশ চ্যানেল হয়েছে ১০৭.২ কাছের দূরের পুরনো গান ফান দেয়। তাতে স্বপ্নো কি রাণী চলছে আর পার্শ্ববর্তিনী পাশে বসে। কি ইয়াইয়া মৌসম! ফ্লাইওভার থেকে নামলাম!

হঠাৎ দেখি চার পাঁচটা কচি কচি পুলিশ ছুটে এল! আমি ভাবলাম সিটবেল্ট পরে চালাচ্ছি না বলেই বোধহয়। যাও গচ্চা যাবেই! কিস্যু করার নেই! মুড খারাপ করব না ভেবেও জিগালাম! কি কেস ভাই? বলে কি ওভারস্পিডিং? অ্যাঁহ বলে কি? আমার নাইন্টিন ফর্টি টু আ লাভস্টোরির শেভরোলে স্পার্ক মডেল, যেটা একাশিহাজার কিমি ড্যাংড্যাং করে চলে গেছে সেটা ওভারস্পিড করছে? মেজাজটা একটু ইয়ে হল বটে তাও জিজ্ঞাসা করলাম কত? বলে একাত্তর! লাও গজা! খালি রাস্তায় ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় একাত্তর? জিজ্ঞাসা করলাম স্পিড গান কই? আর লিমিট কত? বলে স্পিড গান ক্যামেরায় লাগিয়ে ফ্লাইওভার থেকে নেমেই লাগানো আছে! আর লিমিট পঞ্চাশ। মাজাকি পায়া হ্যায়! দশ বারোটা পুলিশ আর আমি একা! দে ঝাড় দে ঝাড়! ইয়ে তো জান বুঝকে ফাঁসানে কি তরিকা!

কিছু করার নেই স্যার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! লাও ব্যাটা যখন সোমবার আটটার সময় আনন্দ বিহার দিয়ে যাবার সময় পাঁচশো অটো আর টুকটুক দাঁড়িয়ে থাকে আর আট লেনের রাস্তাটাও কাশীর পেয়ারের গলি হয়ে যায় তখন তোমাদের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কোথায় যায় হে? উত্তর নেই! আমি বললাম, না হে এগুলো তোমরা বাড়াবাড়ি করছ! সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! ইচ্ছে করে ফাঁকা রাস্তায় স্লোপে টঙে তুলে ক্যামেরা লাগিয়েছ। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! সাধারণ মানুষকে বিবস্ত্র করার এটা নতুন পন্থা। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! শেষে বলে কি লাইসেন্স সিজ করবে! সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! লাও ঠ্যালা! সু নাগরিক হবার ট্যালা বোঝ! সুপ্রিম কোর্টের আদেশ! ওকে ওকে! বুঝেছি! চিৎকার করছি, এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তিনী বেরিয়ে এসেছেন। আর তাঁর সেই বরাভয় মুর্তি দেখে মামারা গেছে ভয় পেয়ে! বলে ‘ম্যাডাম আপ বৈঠিয়ে না কুছ নাহি হুয়া!’ আমি বলি কুছ নাহি হুয়া মতলব? লাইসেন্স তুমি নিয়ে নিচ্ছ আর কুছ নহি হুয়া? তবুও তারা দেখি রা কাড়ে না! তা ম্যাডাম বললেন, যা করার একটু তাড়াতাড়ি করতে! লাও! তারপর তিন পাতার একটা চোথা ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘তিন মাস পরে নিয়ে যাবেন! কিস্যু হবে না!

কেমন ভেবলে গেলাম! পুলিশও এমন অমায়িক ভাবে গ্যাঁট কেটে নিল? সাতজন ছিল অধিকাংশ জাঠ গুর্জর! স্বচ্ছন্দে আমাকে মাটি ধরিয়ে দিতে পারত! কিন্তু এমন একটা মাটির মানুষের মত ব্যবহার করল যে আমিই কেমন মাটিতে মিশে গেলাম! ফাইন দিয়ে লাইসেন্স দিয়ে তিনপাতার ক্রোড়পত্র নিয়ে গাড়িতে যখন এলাম পার্শ্ববর্তিনী গচ্চার হিসাব চাইলেন! বিরস বদনে বলিলাম চারশো! কিন্তু বিকেলের মুডটার দফারফা করে চলে গেল শুধু মাত্র লাইসেন্স নিয়ে!

লাইসেন্সের শোক ভোলার জন্য আজ সকালে যখন গ্রেটার নয়ডা হাইওয়ে ধরেছি ছেলেকে স্কুলে পৌঁছোবার জন্য তখনও বাধ্য নাগরিকের মতো ওডোমিটারের কাঁটায় চোখ রেখে চলেছি! ফ্লাইওভার থেকে নামতে গিয়ে পঞ্চাশের নিচে গতি নিয়ে আসতে কালঘাম ছুটে গেল! তাও ছাড়লাম না! তারপর ক্রিকেট মাঠের আম্পায়ারের মতো ব্যাটসম্যানের দিকে নজর দেবার আগে দেখে নিচ্ছি নোবল হচ্ছে কি না!

পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার রাস্তা। প্রতিটি লুকনো ক্যামেরার হিসাব নেওয়া হয়ে গেছে বস! খোঁজ খবর নিয়ে রাহাজানি করতে হলে আমাকে জিজ্ঞাসা করে নেবেন! বিলকুল ফাস্টোকেলাশ গাইডের কাজ করে দেব। তবে কিনা রাহাজানি বাটপাড়ি এসবই বেআইনি কাজ! আর কে না জানে, অন্ততঃ এখন তো জেনেই গেছেন যে। ঘাড়টায় এমন মালিশ হয়েছে, যে আইনের দাস হয়ে নিজেকে সুনাগরিক প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগেছি।

তবে কি না এতো পথ দুর্ঘটনা হচ্ছে হামেশাই! না হয় একটা লাইসেন্স তিন মাসের জন্য সরকারি মেহমাননওয়াজির জন্য পাঠিয়েই দিলাম! পুলিশ তো আমায় তুললো না! আমার লাইসেন্সটাকে আলতো করে তুলে নিল! লাইং সেন্সটাই কমে যায় যাতে, আর লাইনে আসার সেন্সটা বাড়ে! আমেন!

Advertisements

(৯৯)

পাঠক পাঠিকারা, ধরা যাক আপনি তালে গোলে মালে অফিস বেরোতে দেরী করে ফেলেছেন এবং সাড়ে নটার সময় নিজের লাল টুকটুকে স্পার্ক চালিয়ে বিকাশ মার্গ এক্সটেনশনের পথে আনন্দবিহার দিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ফোন এল আপনার বসের। এমন জায়গায় যে আপনি গাড়ি সাইড করতেও পারবেন না আবার বস বলে ফোন ফেলে দিতেও পারবেন না। অগত্যা না হয় বসের ফোন তুললেন এবং তাকে ভুজুং ভাজুং দেবার সময় দেওনন্দন ঝা নাম্নী এক সাব ইন্সপেক্টর এবং ভূষণ কুমার বলে এক কনস্টেবল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় আপনার ডান দিক দিয়ে ওভার টেক করে আপনাকে থামাতে বলল।

তাইলে কি করবেন? সেই বিজ্ঞাপনের ছাতাছেঁড়া ব্যক্তির মত ভাববেন “বড় দেরী করে ফেলেছি ভাই!” নাকি নেমে আমি এর বাচ্চা তার বাচ্চা বলে তাবড় তাবড় নাম ফেলতে শুরু করবেন? গায়ে যদি আবার কমলা হাফ শার্ট থাকে তো কেয়াবাত মিয়াঁ!

নাকি সুবোধ বালকের মত সুর সুর করে ট্যাঁক থেকে লাইসেন্স বার করে মাশুল গুনবেন? সে রকম করতে পারেন কারণ পাপ মাথায় নিয়ে তো আর দিন গুজরান চলে না! তার চাপে বেঁটে হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা।

তা না হয় করলেন, কিন্তু তারপর যদি দেখেন দেওনন্দন বাবু আপনাকে আগামী উনত্রিশ তারিখ কারকারডুমা কোর্টে তোলার তাল করছেন তাহলে? তাহলে বরং আপনি ধীরে ধীরে আপনার জাল বিস্তার করতেই পারেন। হাজার হোক আপনি তো ফাইন দিয়ে ‘ইউ আর ফাইন, আই অ্যাম ফাইন’ বলে চলে যেতেই চেয়েছিলেন, খামোকা ব্যাটা আইন দেখিয়ে ফাইনাবস্থার দফারফা করতে গেল কেন? আপনি তাকে অনুরোধ করতেই পারেন যে ভাই ফোনে কথা বলার হাজার টাকা দিতে পারব না আপনি রেড লাইট জাম্পের একশত টঙ্কা জরিমানা করিয়া আপনাকে মুক্ত করে দেয় যেন।

কিন্তু বিধি বাম থাকলে সে আপনাকে পাঁড় অবধি ডিকশনে আরও বোঝাতে বসবে, ‘নহি নহি হামারে জুরিসডিকশন মে খালি লাইসেন্স লেকে কোর্ট ভেজনা হ্যায়!’

আরে মশাই কোর্টের চক্করে পড়লে তো একটা দিনই পুরো বরবাদ। কেন ফোনের হামি খাবার সময় মনে ছিল না তা? আরে বাবা সে তো বিভীষণই বলে গেছে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। তা জ্ঞান বুদ্ধি বেড়েছে যখন যাও হাওয়া খাও!

না না তা কি করে হয়? আপনি তখন তাকে ভাল করে বোঝাবেন যে নতুন সরকার ২৬ তারিখে শপথ গ্রহণ করলে ২৯ তারিখ আপনি দম ফেলার সময় পাবেন না। সে সেয়ানা বলতেই পারে, “তো ফির কাল আইয়ে!” ভেস্তে যাচ্ছে দেখে আপনি হালকা হালকা করে মন্ত্রালয় বা পদের গল্পের মশলা ফেলে তাতে আবার একটু জল ঢেলে দিতে পারেন এই বলে যে, আমি কি এ সব বলে সুবিধা চাইছি?

তা দেওনন্দন এ সব অনেক দেখেছে। সে আপনার প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখেই আবার বোঝাবে যে তার হাত পা বাঁধা, সেও তো আপনার কাছে কোন উপঢৌকন চাইছে না! তখন আপনি বিকল্প খুঁজবেন, বলবেন, “আরে আগে রাস্তে মে ট্রাফিকবালা খাড়া মিলেগা, চলো সাথ মে যা কে উসে পেমেন্ট করকে আতে হ্যায়।”

তা সে গেঁতো শুনবে কেন? সে জোর করবে, “আরে উনকা জুরিসডিকশন অলগ হ্যায়! আপ কেয়া আপকা মন্ত্রালয় ছোড়কে দুসরে মন্ত্রালয় মে যাকে কাম করকে আওগে?” আপনার বুকে টং করে লাগবে! বল ব্যাটা কি বলবি? তখন আপনিও বলবেন, “আগর জরুরত পড়ে তো ও ভি করনা হো গা!” আপনি যে কালকেই মোদিময় ভাষণ শুনেছেন, “দেশকে লিয়ে কুছ ভি করনা পরে তো পিছে নহি হটনা!” টাইপের ভাষণ।
তারপর, আপনি ঘুরে ফিরে এই ওই তাই বলে বলবেন কোন সা থানা? সে হয়তো বলল, আনন্দবিহার! তা আপনি তখন প্রস্তাব দেবেন যে। “চলো ওহা যা কে ভর কে আতে হ্যায়!” যেন এদিকে রোদ্দুর আসছে চলো ওই ঘুপচিতে গিয়ে বসি!

তা সে দেওনন্দন ঘাঘু মাল, সে আপনাকে বড় ছোট, উঁচু নীচু, ভুল ঠিক, ট্রাফিক পুলিশ খাঁকি পুলিশ ইত্যাদি নিয়ে গল্প জুড়তে আরম্ভ করবে। ব্যাস এই সুযোগটাই তো চাইছিলেন। আপনিও তখন যেন একটু একটু গলে আসছেন এইভাবে আলোচনায় যাবেন, ওদিকে ঘড়ির কাঁটা বয়ে যায় তো যাক। আড়চোখে দেখবেন ভূষণ কুমার উসখুস করছে কি না। করলেই তো ব্যাস ঘড়ি আপনার দিকে ঘুরতে শুরু করেছে।

কিন্তু দেওনন্দন পাতায় চলা পুলুশ! সে তখন আপনার নাম ধাম কাম সব লিখে নিয়ে কোর্টের নোটিশ পাঠাতে তৎপর হয়ে উঠবে। আপনি তখন যেন বাধ্য নাগরিক। বলবেন যে, “কব যানা হ্যায়?” “কাল আইয়ে, ৪ বাজে!” “৪ বাজে? ১১ নহি হো সকতা?” “আরে ম্যাজিস্ট্রেট কেয়া আপকা শকল দেখকে বয়ঠেঙ্গে?” সত্যি তো! তারপর আপনি যেন মেনেই নিয়েছেন বলে লাইসেন্স এগিয়ে দেবেন, কিন্তু আহ্লাদী গলায় বলবেন, “আরে মোবাইল পে বাত কর রাহা থা মত লিখো! লিখো রেড লাইট জাম্প কিয়ে থে!” এই নিয়ে মিনিট তিনেকের চাপান উতোরে দেখবেন ভূষণ কুমার ছটফটিয়ে যাচ্ছে।

শেষে সেই বরাভয় মূর্তি হয়ে আপনাকে অভয় প্রদান করবে, “আরে স্যার আপ যাইয়ে, কোই চালান নহি ভেজেঙ্গে”! আপনি অবশ্য তখনও সৎ নাগরিক, “নহি নহি গলতি কিয়া তো ভুগতনা পড়েগা হি না?” এবারে সেই হাত জোড় করে আপনাকে অনুরোধ করবে, “স্যার আপ যাইয়ে প্লিজ! ভরোসা রাখখিয়ে কোই নোটিশ নহি ভেজেঙ্গে।” এর পর চলে আসবেন মাথা নাড়তে নাড়তে যেন কতই না অন্যায় হোল! তারপর গাড়ি চালিয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে যাবার সময় থ্যাঙ্কু বলে নাম জানতে ভুলবেন না! আপনিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন, আর তারা তো বাঁচবেই।

এই যে উপরোক্ত টোটকা দিলাম তা ব্যবহার করতেই পারেন। তবে কি না আক্কেল দাঁত তো সকলেরই গজায়! সেই ভরসায় বলি, আইনকানুন তৈরী হয় যাতে অধিকাংশের সমান অধিকার থাকে। তাই সেগুলো একটু মেনে চলুন। গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলের হামি খাওয়া বন্ধ রাখুন! আর খুব জরুরী হলে গাড়ি পাশে দাঁড় করিয়ে কথা বলে নিন। কে জানে, বিপদ কোথায় ওঁত পেতে থাকে!

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ বসকে কেন দেরী হল, তার ব্যাখ্যা দিতে দেখবেন কোন অসুবিধাই হবে না! মামার পাল্লায় সবাইই এক বা একাধিক বার পড়েছেন। আপনার সহকর্মীরাও সহমর্মী হয়ে উঠবে।