(১৩৬)


TH09_TAGORE_GRI4R8_1077687e
সব ফিসফাস হাঁউমাউ সাইজের হতে নেই পাঠক পাঠিকা। তবে মূক অন্ধত্ব নিয়ে কিছু কথা বলে চলে যাব। কাল হেলেন কেলারের ১৩৫তম জন্মদিন। ভদ্রমহিলা কি করেছিলেন সে তো ইতিহাসের পাতায় ব্রেইলাক্ষরে রচিত আছে। আজ ডিসএবিলিটি বিভাগে সেন্স ইন্টারন্যাশনাল থেকে এসে ছোট্ট এক ঘন্টার প্রেজেন্টেশন দিয়ে গেলেন তার কর্তারা। একটা সিমুলেশন প্র্যাক্টিকাল গেমও ছিল। একজনের চোখ বন্ধ থাকবে এবং তাকে কিছু না বলে চিরকুটে লেখা প্রশ্নটি বোঝাতে হবে। আমরা যারা পঞ্চেন্দ্রিয় নিয়ে দাঁত ছরকুটে পড়ে থাকি। আর সারা দিন রাত খালি ব্যর্থতার গান গাই, “কিসসু হচ্ছে না, কিসসু হবে না”, তাদের চোখ খুলে দেবার জন্য যথেষ্ট। যে যেখানে যতটুকু পারেন করুন। সহনাগরিকদের জন্য। কে কি পাচ্ছে না পাচ্ছে নিয়ে ঝগড়া বিবাদ না করে আপনি কি দিচ্ছেন সেখানে কান পাতুন। দেখবেন দুনিয়াটাই বদলে গেছে।
0083034b9d766fb2d7d83e930c7a15ac2bccc65f

ছবিতেঃ আজকের অনুষ্ঠানের কিছু অংশ এবং সঞ্জয়, যিনি রানী ও অমিতাভ বচ্চনকে স্পর্শের ভাষা শিখিয়েছিলেন তার বক্তব্য রাখার মুহুর্ত ধরা আছে। মাল্টিপল ডিসএবিলিটির মধ্যে ডেফব্লাইণ্ডনেস বা মূক অন্ধত্ব একটি জটিলতর অবস্থা। কোশিশ মনে করে দেখুন পাঠক পাঠিকারা।
11660092_10153436578915763_1610985825_o
11642153_10153436581370763_316347587_o

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ এটা ফেবুতেও দিয়েছি। তবুও আরও বড় পাঠককুলের সঙ্গে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। প্রতিদিন সকালে আমাদের জন্য বরাদ্দ থাকে টাটকা ফুল। গতকাল ছিল রজনীগন্ধা আর হাবিজাবির সময়। আজ সকালে মালী ছেলেটি যখন না ফোটা বাসি রজনীগন্ধাগুলো ফেলে দিতে যাচ্ছিল, আটকালাম। বাকি অফিসারদের আর আমার টেবিলের ফুলগুলোকে এক বোতলে ভরে রেখে দিয়েছি। গন্ধগুলো ধীরে ধীরে ফুটছে। আরাম… আঃ
11663920_10153436480630763_902344946_o

(১৩৫)


11402381_10153397736595763_8016975454157146210_o
ব্লেড আর কলম ব্যবহার না করলে মরচে ধরে যায়। আবার অতিরিক্ত ব্যবহারেও এই দুটি ভোঁতা হয়ে যায়। তাই মধ্যপন্থা খুঁজে বার করা খুব জরুরী। কিন্তু সাম্যের গান গাহিয়া ভারসাম্য রক্ষা করতে তো সমগ্র মানবজাতিকে ভগা শেখান নি। তাই পা হড়কে যাবার সমূহ সম্ভাবনা। ক্রিকেটে বোলারদের অধিনায়ক করলে তারা হয় বেশী বোলিং করে নয় তো কম বোলিং। বলি ভারসাম্যের বলি তো যত্র তত্র সর্বত্রই দেখা যায়। তাহলে আর আলাদা করে ফিসফাসের লেখককে দোষ দিয়ে কি করবেন বলুন? তারচেয়ে বরং সদ্য সমাপ্ত জামশেদপুর-কোলকাতা-দীঘা ত্রিকোণ প্রেম সফর নিয়ে কিছু মুখরোচক আর কিছু মিইয়ে যাওয়া গল্প বলি।

কথায় আছে কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। সারা বছর ধরে স্বচ্ছতা নিয়ে মাতামাতি করে হঠাৎ করে মোদী সরকারের যোগের নামে হুটোপাটি করে ল্যাজে গোবর অবস্থা। সরকারি কর্মচারীদের কিসসু করার নেই হ্যাঁতে যদি হ্যাঁ মেলাতেই না পারলে তাইলে আর আমলা হলে কেন? সাধারণ মানুষের অবস্থা তো আরও করুণ।

কোনও এক অজ্ঞাত কারণে টিকিট বুকিং দু মাসের জায়গায় চার মাস আগে থেকেই করা যাবে। আরে বাবা সফর সূচী প্রধানমন্ত্রীরই চার মাস আগে পাকা হয়ে ওঠে না আর আমরা তো নশ্বর মানুষ। তাই প্রাপ্তি ওয়েটিং লিস্ট আর উৎকণ্ঠা। আর সকলের মতই ততকাল বুকিং-এর টোটকা এখনো ফিসফাস লেখক বার করে উঠতে পারে নি বলে জনসমুদ্রেই বিলীন হন।

এবারের গরমের ছুটি কাটাবার শুরু করার কথা ছিল জামশেদপুর থেকে, কিন্তু টিকিট কাটছি কাটব করে সময় কেটে যায়। আর লাইন সংরক্ষিত টিকিট পেরিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ওয়েটিং লিস্টে। প্রথমে বিশেষ পাত্তা না দেওয়া, “ও হয়ে যাবে” ভেবে। তারপর ধীরে ধীরে যখন সময় দাঁত নখ বার করতে শুরু করে তখন, দাদা ধরার তাড়া। সাধারণ ক্ষেত্রে নিজের জন্য কখনই ভিআইপি কোটার ব্যবহার করি না। কিন্তু এবার তো চাপ বাপ বাপ বলে ডাক দিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির দেশে যাব আর টিকিট কনফার্মড না হলে মুখ পুড়বে। তাই বাধ্য হয়েই পিএনআর নম্বর দিয়ে পাঠালাম যথাস্থানে। যাত্রার ঠিক দুদিন আগে খবর এল, নাও হতে পারে।

মরেছে! জামশেদপুর থেকে কোলকাতা, কোলকাতা থেকে দীঘা, দীঘা থেকে কোলকাতা এমন কি যাবার আগের আগের দিন কোলকাতা থেকে ফেরার টিকিট যা কিনা শতাধিক ওয়েটিং লিস্টে ছিল তাও কনফার্মড হয়ে গেল। অথচ শ্রী গণেশই গোঁসা করে বসে। তাও তদ্বির তকদির লাগিয়ে ব্যাগ গুছোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

তারপর আমার অফিসের বড় বস আবার বলে বসলেন যাবার আগের দিন নাকি পাটনা যেতে হতে পারে। আমি অনেক করে বোঝালাম যে প্যাকিং ট্যাকিং কিসসু হয় নি। ছোট বাচ্চা নিয়ে যাওয়া টাওয়া চাপ হয়ে যাবে। শেষে নিরস্ত্র করা গেল। পরে অবশ্য জানা গেল যে অনুষ্ঠানের পূর্বালোকনের জন্য আমাকে পাঠানো হচ্ছিল সেই অনুষ্ঠানটিই বাতিল হয়ে গেছে আদর্শ আচার সংহিতার পাল্লায়। বিধানসভা নির্বাচন বলে কথা। হুঁ হুঁ বাওয়া সবার উপরে কমিশন সত্য তাহার উপরে নাই।

তবুও আশায় বুক বেঁধে বাক্স প্যাঁটরা বেঁধে আগের দিন ট্যাক্সি ফর সিওরে বুক করলাম। মেল এল স্টেশনে যাবার ট্যাক্সি আসবে অথচ মেসেজ এল আসবে না। দ্বিধা কাটাতে যাত্রার দিন সকালে তাদের গ্রাহক পরিষেবার ফোন করলাম। তারা আশঙ্কা সত্যি করে দিল। শেষে ওলা ক্যাবস বুক করলাম। যাবার ঠিক ১৫ মিনিট আগে ড্রাইভারের বিস্তৃত বর্ণনা এল, সেই অনুযায়ী ফোন করলাম। সে বলে আমার গাজিয়াবাদ ঢোকার পারমিট নেই। খেলে যা। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রিগ্রেট এসএমএস এসে গেল। ওলা অপারগ।

শেষে চার্ট তৈরী হবার আগেই যাত্রা শুরু করলাম অটো করে। যেতে যেতে এসএমএস এল দুটি টিকিট কনফার্মড হয়েছে আর আমার ছেলেরটি হয় নি। সে তো বিদ্রোহ করে বসল। তাকে ছাড়া আমরা যেতে পারিই না। তাকে বুঝিয়ে বাঝিয়ে ফোন ধরলাম বিশেষজ্ঞদের। অনলাইন বুকিং-এ তো আবার ওয়েট লিস্টেড টিকিট সরাসরি রিফাণ্ড হয়ে যায়। তা নানা মুনির নানা মত! একজন বলে, “সুপারফাস্টের জেনারেল টিকিট কেটে চড়ে পড়” ভাল কথা। তা রাজধানীর তো জেনারেল থাকে না। কে বোঝায় কাকে! আরেক গন্যিমান্যি বলেন, “এমনি এমনি চড়ে পড়ো, টিটিকে বলবে তুমি জানতে না”। ইল্লি আর কি, টিটি তো বোকা পাঁঠা আর আমরা চকিত চপলা হরিণী।

তা শেষে সেই বাতলে দিল, যদি হেড অফিস কোটা থেকে হয়ে থাকে তাহলে কিচ্ছু করতে হবে না। অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় সবগুলো হয় নি। তা টিটি এসেও দেখলাম সেই কথাই বলল। এক দিক দিয়ে নিশ্চিন্ত। কিন্তু ভুবনেশ্বর রাজধানীর বার্থগুলি আবার ছোট ছোট। একটায় পার্শ্ববর্তিনী মেয়েকে নিয়ে আর একটায় আমি আর ছেলে। দুজনেই দুজনকে কষে লাথি গোঁত্তা মরে গত বারো বছরের যত রাগ আছে মিটিয়ে নিলাম। আর মেয়ে সেই ফাঁকে পুরো কামরা জুড়ে জমিদারী পরখ করে শেষমেশ বই খাতা পেন্সিল নিয়ে ট্রেনের মেঝেতে উবু হয়ে ছবি আঁকার চেষ্টা করতে লাগল। এই ভাবেই পৌঁছে গেলাম জামশেদপুর।

অবশ্য রাজধানীর খাবার দাবারের অবস্থা কহতব্য নয়। শিয়ালদা রাজধানী আগে অন্তত পুঁটি মাছের ফ্রাই দিত। ভুবনেশ্বর রাজধানীতে তো রাতের কন্টিনেটালে ভেজিটেবল সেদ্ধই দিয়ে দেয়। ব্রেডের কথা জিজ্ঞাসা করলে বলে সাড়ে দশটায় কানপুর এলে ব্রেড দিতে পারবে। শেষে স্যুট বুটের সঙ্গে তিলক কেটে সাদা দই খেয়েই পেট ভরাই।

জামশেদপুরের পুরনো তারগুলির সঙ্গে এবার জোড়া লাগল নতুন তার বারিন দার সঙ্গে দেখা। তারপর অবশ্য বিশেষ ভোগান্তির গল্প হল না, শুধু মাত্র যে রাতে হাওড়া তার দুয়ার খুলে দিল ঝড়ে সে রাতে ভিজে ভিজে বাড়ি এসে পৌঁছলাম সাড়ে দশটায়। আহা কোলকাতা আমার, ছেড়ে দিলেও শহরটা আমায় ছাড়ে না। কোথাও না কোথাও আস্টেপিস্টে জড়িয়ে রাখে অর্জুন গাছের মত।

তাই আমি এলে সৃষ্টিসুখের বইপ্রকাশ, পুরনো কূট সাহিত্যের বন্ধুদের সঙ্গে জিটি আর স্কুলের সহপাঠী পাঠিনীদের সঙ্গে আড্ডা তো বাঁধাই থাকে। সঙ্গে কিছু নতুন বন্ধুর পুরনো হয়ে যাওয়া আর পুরনো বন্ধুদের নতুন করে ফিরে পাওয়া। এর সঙ্গেই থাকে আমাদের শিকড়ের টান। যে সব শিকড়গুলো আমাদেরকে ঘিরে ধরে বড় করে তুললো তাদের বৎসরান্তে একটা সন্ধ্যা, একটা সকাল বা একটা বিকেল দিয়ে জোরদার করে তোলা। বলে যাওয়া আবার আসব আমরা আবার একসঙ্গে বসে কিছুটা সময় জীবন কাটাব আমরা।

রূপঙ্কর দা-র সঙ্গে গল্প লেখা গদ্য লেখা নিয়ে হুল্লাট আড্ডা, কিশোর দা, কৌশিক দা, তমাল, অতনু, ইন্দ্রনীলদা, সুবীরদা, সোমা, রাজা দা, বাসু দা, শুদ্ধ, ইন্দ্রাণী, হরি দা, কোয়েলি, সুস্মিতা দি, অমিতাভ, বক্সী, কেয়ার বইপ্রকাশ, সামরানদির পুরস্কার প্রাপ্তি, সরোজ, সিদ্ধার্থ- মিঠুন পেরিয়ে স্কুলের গণ্ডির এক্কা দোক্কা।

এর মধ্যেই মনে থাকে অ্যাকাদেমি চত্বরে রূপঙ্কর দার সঙ্গে আড্ডার সময় হঠাৎ পেনের দরকার পড়লে পাশের টেবিলের সদ্য তরুণীটি বলে ওঠে আমার বই পড়তে খুব ভালো লাগে। আর বই উপহার পেয়ে কিশোরীর মত খুশীতে ভরে ওঠে সে। বলে, আমি নিশ্চয় জানাবো কেমন লাগল। আমার বই কাউকে দিই না। আগলে রাখি! বইয়ের গন্ধটাই যে আলাদা হয়।

এর মাঝে প্রিয়জনের অসুস্থতা আবার সেই বয়স্কদের অসহায়তা সামনে এনে দেয়। কথায় বলে সরকারী পেনশনপ্রাপকরা নাকি সবথেকে সুখী সরকার তাদের জন্য পেনশন দিচ্ছে, স্বাস্থ্য সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু কোলকাতা ছেড়ে পরবর্তী প্রজন্ম যে প্রবাসে পাড়ি জমায় তখন তাদের সঙ্গ কে দেয়? আর সরকারী স্বাস্থ্য পরিষেবার পেয়ারায় যে পোকাগুলো বাস করে, সেগুলোকে যত্ন করে সরিয়ে দেবার লোকের বড়ই অভাব। খোঁজ নিন পাঠক পাঠিকারা, খোঁজ নিন আমাদের আগের প্রজন্ম কেমন আছেন? আমাদের মুখের দিকে তাকিয়েই তাদের জীবন কাটছে নাকি সেখানেও অন্ধকার?

ফিরে আসার সময়, ট্রেনের মধ্যেই দুটো ঘটনা মনে থেকে যাবে। শিয়ালদায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বার্থে গিয়ে দেখি সেখানে সর্দারনি হাজার খানেক বাক্স প্যাঁটরা আর খান দশেক কাচ্চা বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। বড় গলায় বললেন তাদের নাকি চারটে বার্থ আছে। আমি বললাম আমাদেরই তিনটে আছে তো তাঁদের চারটে কি করে হয়? হয় হয় zaনতি পার না। দুই আর দুইয়ে পাঁচ হলে চার আর তিনে ছয় হবে না কেন? সন্দেহ হতে চার্টে গিয়ে দেখি কোন এক মহাপাত্র এবং পুরকায়স্থ আছেন আর আছেন এক মালাকার, তিনি আবার দূর্গাপুর থেকে উঠবেন। সে কথা বলতে সর্দারনি বললেন তিনি জানেন, তাঁদের বার্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বলে সর্দারগুলো সেগুলো খুঁজতে গেছে। আমি বললাম সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি বললেন “তো?” “ধিরজ রাখো, অন্দর অন্দর নিকল জায়েঙ্গে!” আমি বললাম “আর আমরা?” তিনি তেড়িয়া হয়ে বললেন, দশ মিনিট রুকনে সে কেয়া ট্রেন নিকল জায়গা?” অকাট্য সর্দারি যুক্তি। নীচে নেমে ওদের মধ্যেই যে একটু পাগড়ি খোলা মুক্ত হাওয়া ছিল তাকে বলতেই পরিষ্কার হল কেসটা। এদের বুকিং বি ১ এবং ২য়ে। অতটা পথ পেরতে গেলে হাঁপিয়ে যাবে বলে সর্দারনি ইচ্ছে মতো জায়গা দখল করে বসে আছে। শেষে কামরা শুদ্ধ লোককে রেহাই দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়ে সর্দারকুল বিদায় নিল। মহাপাত্রবাবু বললেন, যে তিনি বেজায় ঘাবড়ে গেছিলেন। তিনি নিজের জায়গায় বসতে যেতেই নাকি সর্দারনি তাকে হুকুম করেছিলেন যে তাদের বার্থ বি১এ আছে এবং মহাপাত্র বাবুকে সেখানেই যেতে হবে। শেষে আমি মিষ্টি কথায় বলতে নাকি তিনি একটু সাহস পেলেন।

আর দুটি বিজাতীয় বাচ্চা চৌবাচ্চার মতো বাঁদরামো করে যাচ্ছিল। তাদের মা এক একবার বকছে আবার তারপরেই তারা কান্না জুড়লে ভোলাতে গিয়ে বলছে মার মুঝে। বোজো ঠ্যালা। তাদের মা একবার আমায় বললেন, “ভাইয়া ডাঁট দিজিয়ে জোরসে! নেহি তো শুনেগা নেহি!” তা সে আমার কেন। এক আরপিএফ জোয়ান বন্দুক দেখালেও তারা হ্যা হ্যা করে। শেষে রাত দশটায় পার্শ্ববর্তিনীর সিংহি নাদে তারা চুপ করে।

তারপর? তারপর আর কি? ট্রেন ফেরার পথে তুমুল বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে পড়ে সাহিবাবাদে, নেমে পড়ে ট্যাক্সি সার্ভিস থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সময়ের আগেই বাড়ি। কিন্তু পৌঁছতে পার্শ্ববর্তিনীর বৃষ্টিবাবদ নতুন মোবাইল হারানো এবং তারপর বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবিরে রক্তদান করে পাকাপাকি দিল্লি মোডে ফিরে আসা।

সেদিন আবার যোগা দিবস। সারা জীবন ধরে যারা লাভ ক্ষতির হিসেব রাখতে পারে না সেই চল্লিশ হাজার ভারতীয় রাজপথে জড় হয়ে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করে তোলে। প্রায় সত্তর বছর পেরিয়েও দেশের মেরুদণ্ড সোজা হল না। স্টান্টবাজদের পাল্লায় যেন এক একুশে জুনেই হয়ে যাবে! যাই হোক স্বপ্ন দেখতে তো স্বচ্ছ ভারত সেস লাগে না। তাই এই আকালেও চলতে থাকুক স্বপ্ন দেখা আর চলতে থাকুক ফি বছর শিকড়ের কাছাকাছি ফিরে যাওয়া। শিকড়ের টানটাই তো আমাদের উড়তে দেয় আকাশে ঘুড়ির মতো। লাটাই গোটাতে গোটাতে যেন সুতো ছিঁড়ে না যায়। মাঞ্জাটা ভাল হওয়া চাই মামা! বৃষ্টি আসবেই…
11402381_10153397736595763_8016975454157146210_o

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ সারা ময়দান মার্কেট ঘুরেও একটা দরের মোহনবাগান জার্সি পেলাম না। ক্লাবগুলোর এবার ভাবার সময় হয়েছে মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে।

(১৩৪)

 আমাদের সূর্য মেরুন ,
নাড়ির যোগ সবুজ ঘাসে ,
আমাদের খুঁজলে পাবে –
সোনায় লেখা ইতিহাসে ..
আমাদের রক্তে খেলা ,
খেলার ছলে বিপ্লবীদের –
আমরাই কখনও বুক ,
কখনও দল ,
কখনও দেশ …..
জন্মেছি মাথায় নিয়ে খেলয়ারি পরোয়ানা ,
বুকের এই কলজে বলে লড়াই করো হার না মানা ,
আমাদের বুকের ভেতর ,
সবুজ মেরুন এক ঝাঁক বান ,
আমরাই মোহনবাগান ,
মোহনবাগান।।
326997-mohun-bagan-logo ‘এগারো’ সিনেমাটা দেখতে গিয়ে সিনেমার গুণাগুণ বিচার না করে একবার আবেগ দিয়ে ভাবতে গেলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। স্পাইক বুট পরিহিত বড় বড় চেহারার গোরা দল ইস্ট ইয়র্কের সঙ্গে ১৯১১ সালের ফাইনালে শিবদাস ভাদুড়ির নেতৃত্বে মোহনবাগানের জয়টা জাতীয় গৌরবগাথায় পর্যবাসিত হয়েছে। যদিও পরবর্তী সাফল্য আসতে আসতে ১৯৩৯ হয়ে যায় মোহনবাগানের। তবু মোহনবাগান আর তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলের ইতিহাস বাঙালীর বুকের খুব কাছাকাছি। যে কোন বাঙালীকে জিজ্ঞাসা করুন, যার তারুণ্য বা যুবাবস্থা কেটেছে ৭০এর দশকে। নিদেনপক্ষে আশির দশকেও যারা হামাগুড়ি দিয়েছে তারা পর্যন্ত মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল , ঘটি বাঙাল, ইলিশ চিংড়ি নিয়ে নরক গুলজার করতে ছাড়বে না।

একটা বেড়ে সিনেমা এসেছিল, ‘মোহনবাগানের মেয়ে’ তার ফিরতি জবাব হল ‘ইস্টবেঙ্গলের ছেলে’। দ্বিতীয় সিনেমাটার কথা জানেন না বুঝি? একটু ঘেঁটে দেখুন আর্কাইভ, চিরঞ্জিতের এই বেওয়ারিশ ফিলিমটা আপনার নজরে পড়েই যাবে।

আমার বাড়িতে ক্রিকেট টা যতটা ছিল ফুটবলটা অতটা না হলেও বেশ ছিল। অন্তত মোহন বাগান তো ভাল ভাবেই ছিল।

সেই কোন ষাটের দশকে আমার বাবা মোহন বাগানে ক্রিকেট খেলেছিলেন সেই ঘিয়ের গন্ধ আমার ছোটবেলায় খুব ভালকরেই গরম ভাতে ঘোরাফেরা করত। আমার ভাই যখন হয় নি তখন বাবার হাত ধরে মোহনবাগান তাঁবুতে যে কতবার গেছি তার ইয়ত্তা নেই। সেই যে সেই তাঁবু, যার গেটে যেদিন মোহনবাগান মাঠে খেলা থাকত। এক কালো চশমা স্যুট বুট পরিহিত ভদ্রলোক আগলে দাঁড়িয়ে থাকতেন যাতে যে কেউ তাঁবুতে ঢুকে পড়তে না পারেন। ধীরেন দে।

কিন্তু ১৯৮০ সালের ১৬ই আগস্ট ইডেন গার্ডেনের সেই অভিশপ্ত ইব্লকের গ্যালারি আমার ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখার ব্যাপারে অলিখিত গণ্ডি টেনে দিয়েছিল। আর সেই গণ্ডি অতিক্রমের দূর্মতি আমার হয় নি। খেলাটা আমি টিভিতে দেখেছিলাম। টিকিট বণ্টনে গড়বড় ছিল। এক লাখ দর্শকের চিৎকারের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের দিলিপ পালিত বিদেশ বসুকে একটা জঘন্য ফাউল করে বসে। তার পর থেকেই গ্যালারিতে আগুন জ্বলতে শুরু করে যা দাবানলের রূপ নেয় খেলা শেষে। ১৬টা তাজা প্রাণ… হাজার লোকের পায়ের চাপে হারিয়ে গেল খোকা… মান্না দের গানটায় চোখ ভিজে যেত পাঠক পাঠিকারা… বয়স তখন অল্প হলেও।

মোহন বাগান দলের আমার প্রথম প্রিয় খেলোয়াড় ছিল এক মালায়লি। না বিজয়ন নয়, বিজয়নের আগে যে মালায়লি বাংলা জয় করেছিল সে হল জেভিয়ার পায়াস। পায়ে বল পড়লেই উদ্বেল হয়ে পড়ত মোহনবাগান জনতা। কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা শুরু করার আগে স্বপ্ন দেখতাম শিবাজী ব্যানার্জি হবার। ৭৭এর পেলের পেনাল্টি বাঁচাবার পর থেকেই শিবাজী ব্যানার্জি লেজেন্ড। প্রশান্ত সিনহার টেকনিক, ভাস্কর ব্যানার্জীর সাহস বা তরুণ বসুর গ্যাদারিং না থাকলেও পেনাল্টি হলেই শিবাজী উঠে আসতেন সকলের হৃদয়ে। সেই একটা পোস্ট ছেড়ে রেখে সে দিকে মারতে বাধ্য করা আর অবধারিত সেভ।

তিরাশি সালের এক বিকালে টাইব্রেকারে মোহনবাগান শিল্ড সেমিফাইনালে হেরে গেল এরিয়ানের কাছে। বড়মাসির বাড়িতে রেডিও শুনছিলাম। ছুটে গিয়ে চৌকাঠে মাথা ঠুকে মাথা ফুলিয়ে ফেলেছিলাম বলে যে বকা জুটেছিল তা হেরে যাবার দুঃখের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।

আশির সেই অভিশপ্ত বিকেল আর বিরাশির বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি টিভিতে দেখার পর থেকেই কেন জানি না স্থানীয় ফুটবল নিয়ে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের একটা বিরাট অংশের ক্রেজ কমতে শুরু করে। আশির দশকের শেষের দিকে পিকে ব্যানার্জি শুরু করলেন সিরিয়া এ-র খেলা দেখানো। ব্যাস আর যায় কোথা। মোহন বাগান ইস্টবেঙ্গলের পাগলামিটা প্রান্তিক হয়ে দাঁড়ালো। আমিও যে খুব বেশী মাঠে যেতাম তা নয়।

ততদিনে তো যুবভারতীও ছন্নছাড়া হতে শুরু করেছে। তারপর সেই পর্ব এল। যখন আমারই ভাইটা বড় হচ্ছে আর তার চারপাশে ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছে। মোহন বাগান তলিয়ে যাচ্ছে। এমন কি প্রথম জাতীয় লিগেই স্থান হল না মোহনবাগানের। আবিষ্কার করলাম ঘরের মধ্যেই বিভীষণ ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। কি যন্ত্রণা হয়েছিল বলে বোঝাতে পারব না।

তার পর আর কি তিনটে জাতীয় লিগ জয়। আমি তখন দিল্লিতে। শেষবার বাবলু দার কোচিং-এ মনে আছে দল দুর্দান্ত না হলেও প্রচুর অ্যাওয়ে ম্যাচ এক গোলে জিতে যাচ্ছিল ব্যারেটো আর জেদের উপর ভর করে। শেষ ম্যাচে চার্চিল ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন আর আমাদের জিততে হবে। স্যালিউ ব্রহ্মতালু দিয়ে গোল করল। আমি অফিস থেকে ফিরে এসে বাংলা চ্যানেল খুলে জানলাম। অবিশ্বাস্য আনন্দ। উপভোগ করার জন্য আশেপাশে তো কেউ নেই। খালি আমার তদানীন্তন বাড়িওলা মোহনবাগানী। ফোন কর বাড়িতে ফোন কর বাড়িওলাকে। ব্যাস ওইটুকুই।

তাই ১৩ বছরের আই লিগের খরা আর ৫ বছরের ট্রফির খরা কাটিয়ে উঠতে যখন তীরে এসে তরী ডোবার অবস্থা হচ্ছে। তখন শুনলাম দিল্লির মেরিনাররা আহায় বুক বেঁধে চিত্তরঞ্জন ভবনে এক সঙ্গে খেলা দেখার জন্য বড় স্ক্রিন প্রোজেক্টরের ব্যবস্থা করছে। যা থাকে কপালে, অমিতাভ দাকে বললাম ছেলেকে নিয়ে যাব। ছেলে তো আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দেখতেই পায় নি তার জীবনে। যেমন ব্রাজিল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন তার হবার বছরেই হয়েছিল। বাবার দেখাদেখি সেও যে ব্রাজিল আর মোহনবাগান। যেমন আমার ভাইটা ছিল আজহার আর বরিস বেকার আর ব্রাজিল।

অমিতাভ দা জানালেন। ফিসফ্রাই আর চা আর বিরিয়ানিও থাকছে। আমি বললাম দেখবেন যেন সব উৎসব মাটি না হয় তাহলে হবিষ্যি খেতে হবে। দুপুরে বাড়ি থেকে বেরোবার আগে কি পরি কি পরি। মেরুন আর সবুজ একসঙ্গে কিছুই নেই। তো মার গুলি মেরুন ধুতি আর সবুজ পাঞ্জাবী। ছেলে বলল তার খালি সবুজ টি শার্ট আছে। তাই সই। গালে সবুজ মেরুন কপেল সবুজ মেরুন তিলক কেটে দিয়ে হাজির হলাম চিত্তরঞ্জন পার্কে চিত্তরঞ্জন ভবনে। এবার খেলা শুরু পালা।

এদিক ওদিক অচেনা মুখের ভিড়ে চেনা মুখও হাজির। তার আবার সহধর্মিনীর জন্মদিন। তা ঘটনাটা পরে শুনেছিলাম। মিয়া বিবির তর্ক চলছে, বউয়ের জন্মদিন বছরে একবার আসে আর মোহনবাগানের আইলিগ/ জাতীয় লিগ তেরোবছরে একবার! এ যে মহাকুম্ভেরও এক কাঠি বাড়া। সাতটার সময় ফেরা যাবে না! কথা বন্ধ তো বিকালে তনু ওয়েডস মনু হি সই! কিন্তু সেটাও কায়দা করে চিত্তরঞ্জন পার্কের কাছাকাছি সাড়ে চারটেয় রাখা গেলে কেমন হয়? সিনেমা তো সাড়ে ছটায় শেষ! হ্যাঁ রে তুই বলছিলি না কোথায় যেন মোহনবাগানের খেলা দেখাবে! আহা এই জন্যই তো রাজযোটক মামা। বাই ডিজাইন আর বাই হুক অর ক্রুক! এই সুযোগ কি মিস করা যায়? তাই চিত্তরঞ্জন ভবন! 11209415_10153373088970763_26967760107449995_n
এদিকে ব্যাঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টি, খেলা শুরু সময়ও টিপটাপ চলছে। ভাষ্যকার বললেন কুড়ি বছরে নাকি এরকম বৃষ্টি দেখেন নি ব্যাঙ্গালুরুতে। বড় স্ক্রিনে মাঠে বসে খেলা দেখার শখ ঘোলে মেটাচ্ছি। কিন্তু সবই তো ব্যাঙ্গালুরুর দর্শকদের দেখায়। মোহন বাগান সমর্থকরা যে টিভি স্ক্রিনের বাম দিকে বসে আছে তাদের তো কই একবারও পাত্তা দিচ্ছে না ক্যামেরা? তবে তাতে কি? খেলা মাঝমাঠে তুল্যমূল্য। বল নিয়ন্ত্রণে রাখা সমস্যা হচ্ছে। ব্যাঙ্গালুরু চাপে বোঝা যাচ্ছে আর তাদের কোচ অ্যাসলে ওয়েস্টউড সেরা খেলোয়াড় সুনীল ছেত্রীকে বাইরে রেখে বোধহয় হাত কামড়াচ্ছেন। গলার শির কাঁধের মাসল ফুলিয়ে চিৎকার করে নির্দেশ দিচ্ছেন। উল্টো দিকে সঞ্জয় সেন নির্বিকার। সোনি নর্ডের শট বার কাঁপিয়ে ফিরে এল। আশঙ্কা! উল্টোদিকে জন জনসন লিংডোর কর্ণার থেকে মাপা হেডে গোল। আমরা হায় হায় করে উঠলাম। কিন্তু তারপরেও আশা ছাড়া নেই।

মাঝে ফিশফ্রাই আর লেবু চা চলছে। কিন্তু তাতে মন নেই কারুর। হাফটাইমে হাডল। সংকল্প শপথ বোয়া কাতসুমি সোনি প্রীতম শিলটনদের। হাফটাইমে বাসু দাকে ফোনে ধরলাম। এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়া থেকে খুব ঘনিষ্ঠ কেউ কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। সারাদিন হাসপাতালে থেকে সন্ধ্যায় ফিরেছেন ক্লান্ত মন নিয়ে। বললেন, ‘আর বোধহয় হল না!’ বললাম ‘দেখই না কি হয়?’ খেলা শুরু হল আর ব্যাঙ্গালুরুতে বর্ষারও। বল নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। তাও মোহনবাগান খেলা নিয়ন্ত্রণ করছে, মুহুর্মুহু আক্রমণ। মিসের পর মিস মাথা চাপড়ানি হা হুতাশ। কিন্তু মনে হচ্ছে হয়ে যাবে। টেনশন ধীরে ধীরে বুকের পাঁজর বেয়ে গলার কাছে। আশি মিনিট, বলবন্তের পরিবর্তে জেজে। পঁচাশি মিনিট, সোনির শট দুই ডিফেন্ডার ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচাল। পর মুহূর্তেই ধনচন্দ্রের হেড ব্যাঙ্গালুরুর গোলকিপার বাঁচাল। সাতাশি মিনিট আবার কর্ণার এবার মাপা কর্ণার সোনির, বেলো রজাক, যার উচ্চতা প্রশ্নাতীত নয় সবার থেকে লম্বা হয়ে গিয়ে সেদিন হেড করল দ্বিতীয় পোস্টের মাটিতে। বল জালে জড়িয়ে যেতেই উত্তাল কোলকাতা উত্তাল দর্শক উত্তাল আমরা। দৌড়োদৌড়িতে কেবলের সেটটপ বক্সই গেল পড়ে। কোনরকমে আবার লাগিয়ে শুরু হল। ৫ মিনিট ইনজুরি টাইম। অমিতাভ দা বাইরে পায়চারি করছেন। যে যেখানে সেখান থেকে যেন না নড়ে। কার্তিক কোথায়? তুকতাক কার্তিক? আরে সবাই আমরা কার্তিক হয়ে গেছি। জলের বোতল চেয়ারে নয় মাটিতে নামাও কাকা। উঠে দাঁড়িও না। বসে থাক যেখানে ছিলে। বাইরে গেছ তো ভিতরে নয় বৌদি। বল শিলটনের গোলকিক থেকে মাঝমাঠে রেফারির হাত উঠছে। আমাদেরও হাত… ‘পিপ পিপ পিইইইইইইইইইইইইইইইই’ উল্লাসে ফেটে পড়ছি সবাই। দৌড়ে গিয়ে সবুজ মেরুন পতাকাটা ধরে নিজেকে শান্ত করছি। 1620752_10153373089090763_8048590252821093025_n 11390227_10153373089055763_2705089799655946378_n
এত আবেগ নিজে খেলার সময় তো থাকে না! শুধু বস্তাপচা ভারতের বস্তাপচা ফুটবলে মোহনবাগানের জন্য আবেগ? না সে আবেগ ভারতের জন্যও হয়, ব্রাজিলের জন্যও হয়। কিন্তু ১৩ বছর বনবাসের যন্ত্রণা নিয়ে শুধু ক্লাবের জন্য আবেগ যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল সেদিন। বাসুদা, হরিদা, পবিত্র সবার উপরে বাবাকে ফোন করে আনন্দ ভাগ করে নিলাম। এ আনন্দ তো একা খাওয়া যায় না। উপস্থিত সবাই মিলেই বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরছি। ভেসে যাক আদরের নৌকা। চিংড়ির মালাইকারি আর দইপোনা থাক খাবার টেবিলে।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দুঃখটা বুঝি, কিন্তু ভাই হিংসে কোর না তোমারও হবে! তখন না হয় আমরাও অভিনন্দন জানাবো। ততদিন বরং এই গানটা আরেকবার গাইঃ https://www.youtube.com/watch?v=Dw97-ZNaSEs

(১৩৩)

বহুদিন ধরে যদি না লিখি তাহলে অনেকগুলো ফিসফাস জমা হয়ে পড়ে। আজকের ফিসফাসটাও মনে হয় একের মধ্যে বহুকে দেখার প্রয়াসঃ
(এক)
কদিন আগেই ভাষা শহিদ দিবস হয়ে গেল। আসলে ভাষা দিবস বলতেই আমরা একুশে ফেব্রুয়ারিকেই বুঝি। অথচ তার ১১ বছর পরেই ভারতেরই বুকে বাংলাভাষার জন্য ১১জন প্রাণ দিয়েছিলেন সে বিষয়ে আমাদের অজ্ঞতা কহতব্য নয়। যদিও ইদানীং ফেসবুক ও ইন্টারনেটের দৌলতে আপামর বাঙালী জনগণ এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল হচ্ছেন।

যাই হোক ফিসফাসের পাতায় জ্ঞান বিতরণ না করে বরং পাঠক/ পাঠিকারা একটু অন্তর্জাল খুঁজে দেখে নেবেন। আমি শুধু ভাষা শহিদ দিবসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে আপনাদের সামনে নিয়ে আসি।

উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলতে গেলে এটাও বলতে হয় যে প্রাতিষ্ঠানিক আবৃত্তি করতে আমার কেমন যেন একটু অনীহাই বোধ হয়। যদিও নিজ মুখেই বলি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা বা আবৃত্তি করতে খারাপ লাগে না। তবে তা নেহাতই ঘরোয়াভাবে বা সঞ্চালনার সময়ে। ঘোষণা করে গলা কাঁপিয়ে আবৃত্তি করতে গেলে যত রাজ্যের কুঁড়েমি জেগে বসে।

সে যাক গে গিয়া, ভাষা দিবস উপলক্ষে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করার সুযোগ ঘটে যায় মুক্তধারায়। তা সময়াভাবে সেই তিন নেমে আসে দুইটিতে। সে তো অন্য কথা। আসল ঘটনা হয়েছিল, বাক্স প্যাঁটরা সমেত আমার পুঁটলিটিও গেছিল। কিন্তু সে বেশীক্ষণ অডিটোরিয়ামে বসে থাকার পাবলিক নয়। বাধ্য হয়েই তার মাসিমণি তাকে নিয়ে নীচে নেমে আসে। তার খানিক পর তার মাও এবং অনতিবিলম্বে, তার দাদাও। একা কুম্ভের মতো মোবাইল হাতে নিয়ে আমি গড় রক্ষা করতে থাকি। আবৃত্তির সময় এলেই মিসড কল দিতে হবে পার্শ্ববর্তিনীকে।

মিসড কলে শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তিনীই তাঁর তীব্র অনুরাগবশত হাজিরা দিতে পারেন। বাকিরা কোন এক বিশেষ কাজে নীচেই আবদ্ধ ছিল। সে গল্প তো পরে শুনলাম। কিন্তু আবৃত্তির পরে নীচে গিয়েই দেখি নরক গুলজার। আমার এক বছর চার মাসের পুঁটলিটি আর এক দুই বছরের পোঁটলাকে জোগাড় করে, “উই শ্যাল ওভারকাম” করে বেরাচ্ছে। আর বাকিরা অসহায়ের মতো “ধর ধর”, “গেল গেল”, “আয় আয়”, “ওইযযাহ” ইত্যাদি সহকারে চরকি খাচ্ছে। একজন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে তো আরেকজন সোজা পাপোষে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে “কেমন দিলাম” চাহনি দিয়ে। একজন সামনে হাজির সব চেয়ার উল্টোতে থাকে তো আরেকজন গাছের কান ধরে টানাটানি করে। এর মধ্যে একজন আবার সটাং হাঁটা দিল বাইরের দিকে। অপরজন তখন হাত ছাড়িয়ে দোতলার দিকে। আর আমার বড় ভায়রা, বড় শালী, পার্শ্ববর্তিনী ও পোঁটলার মা মিলে এই ধর তো সেই ধর।

মাঝে এক বয়স্ক ভদ্রলোক সিঁড়ি দিয়ে টলমল করে নামছিলেন। পুঁটলি উপরে ওঠবার তাগিদে ফস করে তার পায়ের তলায় হাত দিয়ে দিয়েছে। আর সে ভদ্রলোক তো টাল না সামলাতে পেরে যায় যায়।

এর মধ্যে আর এক কাণ্ড। একটি দাড়িওলা কম বয়সী ছেলে, আমার আবৃত্তির ঠিক পরে অডিটোরিয়ামে ঢুকে আমার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, “হোয়াট ইজ শি সেয়িং? আই ডোন্ট আণ্ডারস্ট্যান্ড বেঙ্গলি” মঞ্চে তখন ঈশিতা দাস অধিকারী “বিদ্রোহী” আবৃত্তি করছেন। আমি বললাম, “অ্যা লট অফ থিংস, কান্ট বি এক্সপ্রেসড ইন ওয়র্ডস!” তা সে মন দিয়ে ভিডিও তুলতে লাগল। আমি ভাবলাম যে সকল বাচ্চাগুলো একটু পরেই নাচবে তাদের কারুর সঙ্গে এসেছে বোধহয়।

নীচে গিয়ে শুনি তিনি একটু টেনে এসেছেন। তারপর কেক খেতে খেতে দুম করে কেক অফার করেছেন আমার ছেলে আর দুটো বাচ্চাকেই। তা ছেলে তো পত্রপাঠ কেক খেয়ে ফেলে দাঁত বার করে আছে। আর সেই ছেলেটি পুঁটলিকে কেকে খাওয়াবেই! শেষে তার মা বেশ জোরে বকা দিলে ক্ষান্ত দিল। সে মাতাল তখন অডিটোরিয়ামে গিয়ে স্টেজের একদম নীচেই বসে বাচ্চা মেয়েদের নাচের ভিডিও করতে লেগেছে। তাকে আমি বকা দিতে সে আমায় জিজ্ঞাসা করল, “ইস দেয়ার এনি প্রবলেম ফর সামবডি?” আমি বললাম, “ইয়েস, আই অ্যাম হ্যাভিং প্রব্লেমস!”

তা তারপর তো কোন রকমে সবাইকে টাটা করে আমরা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। পরে শুনি আমার প্রায় আশির কাছাকাছি শ্বশুর মশাই সেই মাতালটার কলার চেপে ধরে দিয়েছেন দাবড়ানি।

সে যা হোক, আসার পথে অকল্পনীয় পরিশ্রম করার ফল স্বরূপ পার্শ্ববর্তিনী বললেন, একটু কিছু খেলে হত। যেমন বলা তেমন কাজ। সামনেই এক কোয়ালিটি আইসক্রিমের কাছ থেকে দুটো ছোট কোন আর একটা বড় কোন কেনা হল। পুঁটলি আশা করা হচ্ছিল দৌড়াদৌড়ি আর হুল্লাট করার পর খাওয়া দাওয়া করে গাড়িতে ঘুম দেবে। কিন্তু সে অম্লান বদনে তার মায়ের আইসক্রিমটি ঠিক তার দাদার মতো করে সাঁটাতে শুরু করল। মানে আইসক্রিম থেকে ক্রিম গলে নীচে পড়ার সময় পাচ্ছে না তার আগেই গভীরতর পাহাড় তৈরী হচ্ছে। শেষে প্যাটেল চকের কাছাকাছি সেই পাহাড় যখন আগ্নেয়গিরি হয়ে গেল, আমি বাধ্য হয়েই নেমে তাকে আগ্নেয়গিরি থেকে খুঁটে খুঁটে আইসক্রিম খাওয়াতে লাগলাম আর একটা নতুন আইসক্রিম তার মাকে ধরালাম যাতে অন্তত পেটে কিছু পড়ে।
10898235_10202975453466532_8390398564431442462_n
গরমে কলকব্জা সমেত ছানাপোনারাও বিগড়ে যেতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অবশ্য এমনিতেই সব কথা রিপিট করতে শুরু করেছে বলে পুঁটলির নাম হয়েছে কাকাতুয়া!

(দুই)
গরমে শুধু ছানাপোনারাও নয়, আমরাও বিগড়ে যেতে পারি। সে বিগড়ানোর সংবাদ দেবার আগে জিজ্ঞাসা করি, ১৯৮৭-র হাসিমপুরার ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন? সাতাশি সালে হিন্দু মুসলিম রায়েট হয় মেরঠে। তার ফল স্বরূপ, তার পার্শ্ববর্তী হাসিমপুরা গ্রাম থেকে প্রায় ৪০এরও বেশী মুসলিম পুরুষদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, অনুসন্ধান এবং প্রশ্ন করার জন্য। তাদের আর জীবিত ফেরত পাওয়া যায় নি। যে সতেরো জন পুলিশ সেই সময় সেই তল্লাশিতে অংশ নিয়েছিল তারা সকলেই স্টেট রায়েট পুলিশের সদস্য। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রমাণাভাবে সকলেই মুক্ত ঘোষিত হয় দিল্লি হাইকোর্ট থেকে।
উত্তরপ্রদেশকে পিতৃদেবের জমিদারী ধরে নেওয়া বিতর্কের ধ্বজাধারী আজম খান নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার তৈরীই করে ফেলেছিলেন হাসিমপুরার আক্রান্তদের তুরুপের তাস করে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তাঁর ঘুম ভাঙে নি। হাই কোর্টের রায় বেরোবার পরেই তিনি হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে শনিবার ছুটির দিন প্রতিবাদ র‍্যালি করতে দিল্লি ছুটে এসেছেন।
IndiaTvb885b5_hashimpura
তা কাল ছিল আমাদের বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের ‘সুচিত্রা স্মরণ’। সেই জন্যই যাচ্ছিলাম। কিন্তু সমাজবাদী পার্টির কার্যালয়ের সামনে জ্যামের মধ্যেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ ব্রেক থেকে পা ফস্কে গিয়ে দিলাম সামনের ইন্ডিকাটাকে ঠুকে। সুবোধ বালকের মতো তাকে এস্কর্ট করে একটু খালি জায়গায় নিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করে বললাম, “ভাই পুলিশ ডাকো!” তা গাড়ি থেকে নেমে এল দুটি পুরুষ এবং দুটি মহিলা। চারজনেই তেলেগুভাষী। তারা অন্যায় আবদার শুরু করল। বলে এ গাড়ি নাকি তাদের বন্ধুর। তাই আমাকে তাদের সঙ্গে গিয়ে গাড়ি ঠিক করিয়ে দিতে হবে। ইল্লি আর কি! আমি বললাম ভাই হয়েছে কি? খালি তো বাম্পারে একটা ক্র্যাক হয়েছে। দুটো পাঁচশো টাকার কড়কড়ে নোট পকেট থেকে বার করে দিচ্ছি (উফফ যেন পাঁজরা খুলে দিচ্ছিলাম! কিন্তু দ্রুত যেতে হবে! ইতিমধ্যেই ফোন আসা শুরু হয়ে গেছে।) তারপর দেখে নাও। তারা নাছোড়বান্দা! পুলিশও ডাকবে না! হাজার টাকাও নেবে না (মানে অঙ্কটা বাড়াতে হবে!)! যাবেও না। শেষে ভালো মানুষের মুখোশটা খুলব খুলব করছি, তাও একটা চান্স নিলাম, বললাম, “আমার ফোন নাম্বার নিন, কার্ড রাখুন! না কাজ হলে আমায় বলবেন! বাকি টাকাটা আমি দিয়ে দেব!” ছাতা তাও গাঁইগুঁই করছে।

তখন বললাম, “চন্নু তাহলে!” বলে “অ্যায়সে ক্যায়সে যা সক্তে হো?” আমি বললাম, “দেখ লো?” লেনা হ্যায় তো লো? ইয়া পুলিশ বুলাও ইয়া ফির ম্যায় যা রহা হুঁ!” তারা ইনিয়ে মিনিয়ে নিয়ে বলল, “ইফ মোর মানি ইজ রিকোয়ার্ড উই উইল বি কলিং ইউ!” আমি “হ্যাঁ হ্যাঁ!” করে গাড়ি চালিয়ে কেটে পড়লাম। মুক্তধারায় এসে শুনি আসলে সময় ছিল সাড়ে ছটা থেকে আর আমি লোকজনকে বলেছি সাড়ে চারটে। গরমে পেগ্লিয়ে গেছি পুরো।

অপরের গাড়ি নিয়ে এত কিছু বললাম, কিন্তু নিজের গাড়িটাই বিগড়েছে। বাম্পারটা হাল্কা ঢুকে গিয়ে বনেট একদম ধনুক হয়ে আছে। খামোকা সুখে থাকতে ভুতে কিলোয়।

(তিন)
এটা কোন ঘটনা নয়। আসলে রোহিঙ্গাদের জন্য খুব কষ্ট লাগছে বলেই লিখে হাল্কা হচ্ছি। সেই ইঙ্গআরাকান যুদ্ধে জিতে ব্রিটিশরা এদের মিয়ানমারের পূর্বপারে বসিয়ে দিয়েছিল। সংস্কৃতি বা আচার আচরণে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের সঙ্গে কখনই কোন মিল ছিল না। জাতিযুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছলেও মিয়ানমার সরকার, এমন কি আং সাং সু কির পার্টিও মুখ বন্ধ রাখে। শেষ মেশ হাজার হাজার রোহিঙ্গা জাহাজে করে ভেসে পড়ে নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে। জানা গেল যে পানীয় জলে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছিল নাকি সরকার। মানবতার আশ্চর্য নিদর্শনই বটে।

মিয়ানমার এদের রাখতে উৎসাহী নয়, শ্যামদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া কেউই এদের স্মরনার্থীর মর্যাদা দিতে উদ্যোগী নয়। শুধুমাত্র সুদূর ফিলিপিন্স জায়গা দিতে রাজি। গত দেড় দু মাস ধরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেরাচ্ছে এরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জলে জলে। খাবার নেই পানীয় জল নেই। ইতিমধ্যেই মানসিক বিকারের কারণে বেশ কিছু জাহাজবাসী সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে হারিয়ে গেছে। মানবিক কারণে কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা জারী করছে থাইল্যাণ্ড, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া। কোন পৃথিবীতে বাস করছি আমরা কে জানে? রাষ্ট্রসংঘ, ভারত বা বাংলাদেশও কি কিছু করতে পারে? উত্তরটাও বোধহয় লোনা জলের মতই বিস্বাদ। সত্যিই তো কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা…!
786714DWL
(চার)
আজ জামাই ষষ্ঠী! ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাই ফিসফাসটা শেষ করতে ইচ্ছা করল না বলে কিশলয় পত্রিকায় প্রকাশিত সমর কুমার সরকারের একটা গল্পের সাহায্য নিলামঃ
প্রাচীন বঙ্গভাষী হিন্দু সমাজে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে গৃহে আগত জামাতাদিগ কে শ্বশ্রূমাতাগণ যেমন সাধ্যাতীত আদর অপ্যায়ন করিতেন,তেমন ই জামাতা ইচ্ছাপূরণে ব্যর্থ হইলে অর্থাৎ শ্বশ্রুমাতাকে দৌহিত্র বা দৌহিত্রী উপহারে ব্যর্থ হইলে তাহার আদর ও মান সন্মান ক্রমশঃ হ্রাসমান হইত। এমনই একটি গল্প
আপনাদের কাছে নিবেদন করিব। এই গল্পের কতখানি অংশ সত্য,বা কতখানি অংশ লেখকের কল্পনা প্রসূত তাহা নির্ণয়ের চেষ্টায় বিরত থাকিয়া গল্পকে না হয় গল্পের দৃষ্টিতেই দেখুন।

প্রাচীন কলিকাতা নিবাসী এক গৃহস্থ কোন এক সময়ে ভাগ্যের বিড়ম্বনায় তাহার
পরম সুন্দরী কন্যা কে হুগলী জেলার কোন এক অজ পাড়াগাঁয়ের এক দরিদ্র
পরিবারে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। বিবাহের কয়েক মাস পরেই প্রথম জামাইষষ্ঠী তে
ঐ গৃহস্থের কন্যা ও জামাতা নিমন্ত্রিত হইয়াছিলেন। গৃহস্থ পত্নী নতুন জামাতা কে
যথাবিধি মান্যতা সহ ধান্য ও দূর্বা দ্বারা আশীর্বাদ করিয়া নানা স্নেহসূচক
বাক্যে তাহার প্রীতি বর্ধন করিলেন। মধ্যাহ্নে মহার্ঘ উপাদেয় ভোজ্যবস্তু দ্বারা
তাহাকে অপ্যায়িত করিলেন এবং জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদী স্বরূপ জামাতাকে এক
জোড়া জুতা,ধুতি,পাঞ্জাবি ও গাত্রবস্ত্র অর্থাৎ চাদর উপহার দিলেন। জামাতা ও
কন্যার বিদায় কালে গৃহস্থ পত্নী পুনরায় তাহাদের আশীর্বাদ করিয়া
বলিলেন-“সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।”

বর্ষকাল পরে দ্বিতীয় বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। ঐ
জামাতার ঘোরতর আর্থিক অনটন ছিল এবং তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। তিনি
হয়তো ভাবিয়াছিলেন – “আমার যা স্বল্প রোজগার,তাহাতে দুই জনেরই অন্নের
সংস্থান হয় না,সন্তানের জন্ম হইলে কোনক্রমেই তিন জনের ব্যয় সংকুলান
হইবে না। শ্বশ্রুমাতা দৌহিত্রের মুখ দর্শন করিতে চাহেন তো আমার কি ?
তাহার সাধ পূরণের সংকল্পে আমি কেন সংকটাপন্ন হইব?” তাই তিনি সন্তানের
জন্ম যাহাতে কোনমতেই সম্ভব না হয়,সেই বিষয়ে যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন। কন্যা
ও জামাতাকে গৃহস্থ পত্নী এইবারেও যথেষ্টই অপ্যায়িত করিলেন। মধ্যাহ্নের
ভোজ্যসকল পূর্বাপর উপাদেয় ও লোভনীয়ই ছিল। কেবল জামাই ষষ্ঠীর
আশীর্বাদীতে পূর্বের ন্যায় এক জোড়া জুতা,ধুতি ও পাঞ্জাবি থাকিলেও গাত্রবস্ত্র
অর্থাৎ চাদর অনুপস্থিত ছিল। আর ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা জামাতা কে আশীর্বাদ
কালে শ্বশ্রূমাতা কিঞ্চিত মলিন বদনে শুধু মাত্র জামাতা শুনিতে পায় এমন অনুচ্চ
স্বরে মন্ত্র আওড়ানোর কায়দায় পুত্রবৎ জামাতাকে তিরস্কার করিলেন –
“সন্তানহীন, গেছো বাঁদর,
বাদ গেল তোর গায়ের চাদর।”
কেবল মাত্র জামাতা বাবাজী ই বুঝিতে পারিলেন,শ্বশ্রুমাতাকে দৌহিত্রদানের
অক্ষমতার দণ্ডস্বরূপ তাহার প্রাপ্তি হইতে চাদর বাদ গেল। এবারেও বিদায় কালে
শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময় বলিলেন-“সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান
কোলে লইয়া আসিবে।”

যথাবিধি বর্ষ গতে তৃতীয় বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন।
কন্যা ও জামাতা কে গৃহস্থ পত্নী যথাবিধি অপ্যায়িত করিলেও, এবারের মধ্যাহ্ন
ভোজে দুই একটি মহার্ঘ উপাদেয় পদের ঘাটতি ছিল। অবশ্য গৃহস্থ পত্নী দোষ
খণ্ডন হেতু বারে বারেই ব্যক্ত করিলেন,তাহার শরীরটা না কি বেশ কয়েক দিন
ধরিয়াই অসুস্থ। এবারে জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদীতে শুধু এক জোড়া জুতা ও
একটি ধুতি ছিল। চাদর তো আগের বৎসরেই বাদ পড়িয়াছিল,এবারে বাদ গেছে
পাঞ্জাবি। এবারে শ্বশ্রুমাতা ছায়াঘন বদনে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ কালে
জামাতাকে পূর্বোক্ত ভঙ্গীতে তিরস্কার করিলেন-
“ছেলে আমার হয় না মামা,
বাদ গেল তোর গায়ের জামা।”
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন,”অদৃষ্টের কি পরিহাস,শ্বশ্রুমাতার পুত্র মামা
হইতে পারে নাই,অর্থাৎ তাহার ভগিনীর কোন সন্তান জন্মে নাই,সেই অপরাধে
আমার প্রাপ্তি হইতে পাঞ্জাবি বাদ গেল। চাদর বাদ গিয়াছে,পাঞ্জাবি বাদ
গেল,না জানি অদৃষ্টে আরও কত দুর্ভোগ আছে।” এবারে বিদায় কালে শ্বশুর
মহাশয় বারংবার জামাতাকে বলিলেন,”তোমার শরীর টা কেমন দুর্বল দেখিতেছি
বাবাজী,চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলিয়ো।” পিতৃবৎ শ্বশুর মহাশয়ের পক্ষে এর
বেশী কিছু বলা সম্ভব নয়। শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময় শ্লোক কটিয়া বলিলেন-
” সবার কপাল সোনায় মোড়া,
আমার জুটেছে বেতো ঘোড়া।
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।”
এববিধ সব বাক্য শ্রবণে জামাতা মর্মাহত হইলেন। ভাবিলেন,আর শ্বশুরালয়ে
আসিবেন না। কিন্তু বাস্তব বড় রূঢ়,সন্মানের ধার ধারিলে তাহাকে আরও সঙ্কটে
পড়িতে হইবে। এই দুর্মূল্যের বাজারে এক জোড়া জুতা ও একটি ধুতির মূল্য কম
নহে। আপন রোজগার হইতে এতগুলি টাকা খরচ করা তাহার সাধ্যাতীত।

জীবনে হতাশ হইলে জগৎ মিথ্যা। যত দিন মানুষ বাঁচে,আশা লইয়াই বাঁচে।
তাই চতুর্থ বার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। ভাঙ্গা চেয়ার
টেবিলের পায়াটিও কোন গৃহস্থ মায়াবশতঃ ফেলেন না কখন কোন কাজে লাগে
বলিয়া,আর এ তো জামাই বলিয়া কথা ! গৃহস্থ পত্নী যথারীতি জামাতাকে
অপ্যায়িত করিলেন।শ্বশ্রুমাতার শরীর আর সারে নাই,তাই আয়োজনে এবারে ও ঘাটতি ছিল।
এবারে জামাই ষষ্ঠীর আশীর্বাদীতে শুধু এক জোড়া জুতা পাওয়া
গেল। প্রাপ্তি হইতে ধুতি বাদ গিয়াছে। শ্বশ্রুমাতা নির্লিপ্ত ভাবে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা
আশীর্বাদ কালে জামাতাকে চাপা স্বরে তিরস্কার করিলেন-
“নপুংসক,মদ্দা হাতি,
বাদ গেল তোর পাছার ধুতি।”
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন, “এ তো জানা কথাই,দণ্ড কেবল বাড়িয়াই চলিবে।
তাই বলিয়া আমি পরের সুখের কারণে আত্মবলি দিতে পারিব না।” এবারে বিদায় কালে শ্বশুর
মহাশয় বারংবার জামাতাকে উপদেশ দিলেন,”সময়ের কাজ সময়ে না করিলে পরে পস্তাইতে
হয় বাবাজী,তুমি বুদ্ধিমান,তোমাকে অধিক বলা অশোভন।” শ্বশ্রুমাতা আশীর্বাদের সময়
শ্লোক কাটিয়া বলিলেন-
“পুরুষ যারা, নড়েচড়ে-
মেদিমুখো ডরে মরে।
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে।”
জামাতা মনে মনে বলিলেন, “আপনি মেদীমুখোই বলুন,আর যাই বলুন,আমার
চিন্তাধারায় কোন রূপ পরিবর্তন হইবে না। আমি মেদিমুখো হইতে পারি,কিন্তু
আপনার কন্যা আমার অঙ্গুলীহেলন ব্যতীত টুঁ শব্দ টি পর্যন্ত করিতে পারে না।”

কালচক্র নিয়ত ঘূর্ণায়মান, তাই আবার পঞ্চমবারের মত কন্যা ও জামাতা
জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন। এবারের অপ্যায়নে আতিশয্য ছিল না,আর
জামাতার জন্য কোন উপহারও ছিল না। শ্বশ্রূমাতা শুধু ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা
আশীর্বাদ কালে অনুচ্চ অথচ শ্লেষের স্বরে বলিলেন –
“ঠিক ধরেছি জামাই খুঁতো,
শেষ বাদ তোর পায়ের জুতো।”
জামাতা বাবাজী মনে মনে বলিলেন,”ভাবিয়াছিলাম,দণ্ড হইতে নিস্কৃতি নাই,কিন্তু
একেবারেই শূণ্যহস্তে ফিরিতে হইবে,এইরূপ ভাবি নাই।” এবারে বিদায় কালে
শ্বশ্রমাতা শুধুমাত্র শ্লোক কাটিয়া বলিলেন-
“যতই না হও পাহাড় চূড়া,
মুখ দেখে না আঁটকুড়া।”
সামনের জামাই ষষ্ঠীতে অবশ্যই সন্তান কোলে লইয়া আসিবে-এই কথাটি
শ্বশ্রূমাতা আর বলিলেন না।
জামাতা মনে মনে বলিলেন,”শ্বশ্রূমাতা স্থিরনিশ্চিত হইয়াছেন,আমি
পুরুষত্বহীন,তাই এবারে আর বলিলেন না যে,সামনের জামাই ষষ্ঠীতে সন্তান
কোলে আসিয়ো। উপরন্তু জ্ঞাত করিলেন,যতই তুমি পাহাড়ের চূড়ার মত
উঁচুদরের মানুষ হও,আঁটকুড়া অর্থাৎ নিঃসন্তান লোকের মুখ কেহই দেখিতে চাহে
না।শ্বশ্রুমাতাকে দোষ দিয়া লাভ কি ? এইরূপ চিন্তা তো আমার আত্মীয় স্বজন,
বন্ধু বর্গও করিতে পারেন।সত্য বলিতে কি,আমার ও তো পরীক্ষা হয়
নাই,আমার পক্ষে সন্তানের জনক হওয়া সম্ভব কি না ? যতই কষ্ট হউক,
সন্তানের পিতা হইতে না পারিলে আমি আর শ্বশুরালয়ে পদার্পণ করিব না।”
অতএব গৃহে প্রত্যাগমন করিয়াই জামাতা সন্তানের জন্মের ব্যাপারে বিশেষ
যত্নবান হইলেন। উদ্যমী পুরুষের চেষ্টা বিফলে যায় না। তাই পুনরায়
জামাইষষ্ঠীর পূর্বেই জামাতা এক দেবশিশু তুল্য পুত্র লাভ করিলেন।

পরবর্তী বৎসরে আবার কন্যা ও জামাতা জামাই ষষ্ঠীতে নিমন্ত্রিত হইলেন।
এবারে কন্যা আর শূণ্য ক্রোড়ে আসেন নাই,তাহার ক্রোড়ে এবার এক ফুটফুটে
সুন্দর শিশুপুত্র। শিশুর জন্মের সংবাদ শ্বশ্রূমাতা পূর্বেই অবগত হইয়াছেন। তাই
এবারের আয়োজনে প্রাচুর্যের ছড়াছড়ি। অতি উপাদেয় ও মহার্ঘ সব খাদ্য সম্ভার।
শ্বশ্রুমাতা এইবারে পুলকের আতিশয্যে জামাতাকে বারংবার ব্যজনী দ্বারা বাতাস
করিলেন। উৎফুল্ল বদনে জামাতাকে ধান্য-দূর্বাদি দ্বারা আশীর্বাদ করিয়া
বলিলেন,”চিরসুখী হও বাবা। ষাট ষষ্ঠীর ষাট,এতদিনে আমার ষষ্ঠী পূজা সফল
হইয়াছে।” আশীর্বাদী স্বরূপ জামাতাকে একজোড়া জুতা,ধুতি,পাঞ্জাবি ও চাদর
তো দিলেন ই,অতিরিক্ত উপহার স্বরূপ দিলেন একটি ওজনদার কারুকার্য খচিত
সোনার আংটি। জামাতা বাবাজী এতদিনের অপমান বিস্মৃত হন নাই। তাই পূর্বেই
একটি চির কুটে কিছু লিখিয়া রাখিয়াছিলেন, শ্বশ্রূমাতাকে প্রণামের ছলে চিরকুট
টি তাহার পদতলে রাখিয়া দিলেন। শ্বশ্রূমাতা পড়িয়া দেখিলেন,তাহাতে লিখা
আছে –
“পাঁচ বছরে ঢের শিখেছি,বেশ হয়েছে জ্ঞান,
হয়নি ছেলে,অবহেলে,দাও নি আমায় মান।
যার কারণে ফিরে পেলাম সকল উপহার,
আশীর্বাদ টা তাকেই ক’রো,জানাই নমস্কার।
নইতো আমি নপুংসক,নই তো আর আঁটকুড়া,
সংসারেতে টানাটানি,তাই তো দেরী করা।
নাতি দেবে স্বর্গে বাতি,নিয়ো তাহার ভার।
কর্ম আমার হলো সারা,আসবো না কো আর।”

হতবাক শ্বশ্রুমাতা নিরুত্তর রহিলেন। কিন্তু জামাতার যে সন্মানবোধ জন্মিয়াছে,সেই কারণে অতিশয় প্রীত হইলেন।

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ জামাই ষষ্ঠীর পরে জামাতা বিদায়ের সময় শ্বাশুড়িরা কি গান করেন? উঃ “জামাই কা ফেয়ারওয়েল”। পিজে পিজে!
jamai

(১৩২)

যখন ফিসফাসের একখান পোস্ট লেখার জন্য সকাল থেকে কম্পু মুখে করে বসতে হয় পড়াশুনোর জন্য তখন কেমন মনে হয় না যে ফিসফাস জাতে উঠছে? বেশ একটা রাশভারী বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব জাগে আর বইটাও পেপারব্যাক ছেড়ে হার্ড বাউণ্ডের রাস্তায় ঘুরপাক খায়।

যাক সে কথা, প্রথমে কিছু ইতিহাস ঘেঁটে ঘ করি। তিব্বত গেছেন তিব্বত? আরে এই কোলকাতা হয়ে ডায়মণ্ডহারবার হয়ে তিব্বত। এমা হযবরল পড়েন নি? নিশ্চয় পড়েছেন? কিন্তু তিব্বতের কেসটা কি বলুন তো? ছোটবেলায় পড়া সাধারণ জ্ঞান উগড়ে দিই বরং! তিব্বতের রাজধানীর নাম লাসা। তিব্বতকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় কারণ বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমি তিব্বতেই। আর লাসাকে আবার নিষিদ্ধ শহর বলা হয়। সে সব মেলা ব্যাপার স্যাপার।

তিব্বতের কথা আসলেই আসে দলাই লামা আর ধরমশালার ম্যাকলিওডগঞ্জের কথা। এক ভদ্রলোক ১৯৫৯ থেকে নিজের দেশ থেকে পালিয়ে এসে ভারতে বসে আছেন আর ১৯৮৯তে নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়ে গেছেন। কিন্তু দলাই লামা কে আর কি? এসব ঘাঁটতে বসে দেখা গেল দলাই লামা হল তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। বর্তমান দলাই লামা ১৯৩৭ থেকে দলাই লামার আসন গ্রহণ করেছেন এবং ওনার আসল নাম ‘জেতসুন জাম্পেন নগাওয়াং লবসাং ইয়েসে তেনজিং গ্যাতসো’ বা সংক্ষেপে তেনজিং গ্যাতসো। উনি যখন দলাই লামার আসন গ্রহণ করছেন তখন ইতিমধ্যেই তিব্বত চীনের অভ্যন্তরস্থ ধরি মাছ না ছুঁই পানি মার্কা জায়গা হয়ে আছে।

আসলে হয় কি, তিব্বতিদের বিশ্বাস অনুযায়ী দলাই লামা এবং সেকেণ্ড ইন কমাণ্ড পানচেন লামা দুজনেই যুগে যুগে পুনর্জন্মের মাধ্যমে ফিরে ফিরে আসেন। সে এক এলাহি ব্যাপার দলাই লামা মারা গেলে কিছু অলৌকিক সূত্রের মাধ্যমে স্থান নির্ণয় করে সেই এলাকার বাচ্চা কাচ্চাদের কাছে দলাই লামার খেলনাপাতি আরও কিছু ফলস মার্কা খেলনাপাতি নিয়ে যাওয়া হয়। পূনর্জন্ম প্রাপ্ত লামা ঠিক নিজেরটা চিনতে পারেন। আরে সেই যে আমাদের অন্নপ্রাশনে যেমন টাকা, মাটি আর পেন দেওয়া হয় থালা ভরে আর বাচ্চাগুলো নিজের নিজের ভবিষ্যৎ ছোট ছোট দু হাতে নির্ধারণ করে সেই রকম ব্যাপার।

তা তেনজিং গ্যাতসোও নাকি নিজের খেলনা চিনতে পেরেছিলেন। ব্যাস আর যায় কোথা। তাকে তুলে এনে ঠিক মতো পড়াশুনো করিয়ে একদম মাথায় তুলে দেওয়া হয়। সেই যে এক হ্যাভেলসের বিজ্ঞাপন মনে আছে? ‘রিনপোছে’ ‘রিনপোছে’? সেই রকম।

তা বর্তমান দলাই লামার আগের ভদ্রলোক তো ১৯১৩ সালে মওকা বুঝে তিব্বতকে স্বাধীন ঘোষণা করে দেন ১৯৩৩এ তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত। এর মাঝে ১৯২৪এ সিমলাতে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার, তিব্বত ও চীনের মধ্যে চুক্তি সম্পূর্ণ হয় নি চীন মাঝ পথে চলে যাওয়ায়। তার পরে প্রায় দশ বছর চীনকে তিব্বতে ঢুকতে দেওয়া হত না। কিন্তু তিব্বতেও সমস্যা লেগে ছিল।

তার প্রধান কারণ ধর্মকে হাতিয়ার করে সামন্ত্রতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। যার ফলে ছুটকো ছাটকা বিদ্রোহ শুরু হয়। আর চিয়াং কাই সেকের হাত ধরে ১৯৪২এ আর শেষে মাও সে তুং-এর হাত ধরে ১৯৪৯এ তিব্বত দখলের প্রয়াস শুরু হয়। শেষমেষ ১৯৫০এ চীন তিব্বতকে চীনের অংশ বলে ঘোষণা করে কিন্তু লাসা সহ আর আশেপাশের অঞ্চলকে স্বশাসিত প্রদেশ হিসাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়।

কিন্তু দড়ি টানাটানি চলছিলই। শেষে ১৯৫৯ সালে লাসার বিদ্রোহকে হাতিয়ার করে চিন পাকাপাকিভাবে লাসা দখল করে এবং দলাই লামা তার সঙ্গীসাথীদের সঙ্গে নিয়ে ম্যাকলিওডগঞ্জে আশ্রয় নেন। আর বহু তিব্বতি দিল্লি এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন জায়গায় রিফিউজি হিসাবে থাকতে শুরু করে।

তিব্বতিদের যে উপনিবেশ দিল্লিতে আছে সেটি মজনু কা টিলা এবং কাশ্মীরী গেটের বৌদ্ধ বিহারের আশেপাশে। ভোজনবিলাসীদের জন্য সেগুলি স্বর্গরাজ্য। হালকা অন্ধকার গলির মধ্য দিয়ে সুসজ্জিত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উজ্জ্বল রেস্তোরাঁগুলিতে খাবার দাবাড়ের দামও অবিশ্বাস্য রকমের কম। কাশ্মীরী গেটের বৌদ্ধ বিহারে বার কয়েক গেলেও মজনু কা টিলায় যাওয়া হয়ে ওঠে নি কিছুটা কুঁড়েমি আর কিছুটা অজ্ঞানতা বশতঃ।
তা কালকের দিনটা একটু অন্যরকম ছিল। হয়েছে কি? ছেলের তায়কোয়ণ্ডো প্রতিযোগিতার দিনই আমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক। অনেক কাকুতি মিনতিতেও ছুটির চিঁড়ে ভেজে নি। তাই ভাবলাম একটু নিয়ে টিয়ে যাব কোথাও খেতে। তাই জোম্যাটো ডট কম ঘেঁটে ঘুঁটে গবেষণা করে রেখে দিয়েছি। তার মধ্যেই পার্শ্ববর্তিনী খবর পাঠালেন যে তাঁর বাল্যবন্ধুর পেণ্টিং-এর প্রদর্শনীতে তিনি যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু মানুষ ইচ্ছা পোষণ করে আর উপর ওলা নিজের ইচ্ছা মতো তাতে কাঠি করেন। তাই সাতটার মধ্যে শেষ হওয়া প্রদর্শনীতে পৌঁছনো দিল্লির ট্র্যাফিক জ্যামের গর্ভে নিক্ষিপ্ত হল।

কিন্তু বাড়ি থেকে তাম ঝাম নিয়ে বেরিয়েছি কি ল্যাজ গুটিয়ে ফিরে আসার জন্য? তাই হিসেব কষে রিগো রেস্তোরাঁ মজনু কা টিলা যাব বলে ঠিক করলাম। একটা কোরিয়ান রেস্তোরাঁর কথা ভাবা হয়েছিল বটে পাহাড়গঞ্জে, কিন্তু দুর্গমতার কারণে তা বাতিল হল। গাড়িটাকে সবুজ ওভারব্রিজের কাছে রেখে পায়ে হেঁটে ব্রিজ পেরিয়ে গেলাম। ছেলে তো মহা উৎসাহী হয়ে তিব্বতি ভাষা পড়ার চেষ্টা করতে লাগল। চাইনিজ প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি আগমনে তিব্বতিদের প্রতিবাদ নিয়েও উৎসাহিত রিপোর্তাজ পেশ করতে শুরু করল। তারপর আমাদের শুরু হল গলিখুঁজি।

খুঁজে খুঁজে হাজির হলাম রিগো রেস্তোরাঁয়। যেই বসতে যাব, ওমা পরিবেশনকারী এসে বোমাটা ফেললেন। ‘আজ কিন্তু নিরামিষ’।

খেলে যা! নিরামিষ কেন রে বাওয়া? আবার চল চল। ততক্ষণে পার্শ্ববর্তিনী তাঁর মঙ্গোলিয়ান বন্ধুর সঙ্গে এই প্রান্তরের এক রেস্তোরাঁয় বিফ খাবার গল্প বলছেন। সেই রেস্তোরাঁও এসে পড়ল কিন্তু নিরামিষ আজ বলে বোর্ড গলায় ঝুলিয়ে সে দাঁড়িয়ে। শেষে আ-মা রেস্তোরাঁয় এসে হাজির হলাম। ততক্ষণে নিশ্চিত জেনে গেছি তিব্বতি কলোনিতে আজ সর্বত্র নিরামিষ। কিন্তু এসে না খেয়ে চলে যাব? তাই রেস্তোরার পরিবেশকের স্মরণাপন্ন হলাম। সেও দেখলাম নিরামিষ তিব্বতি খাবারের বিষয়ে অন্ধকারে। বলে কি না উত্তরভারতীয় খান। আমাদের পাশের টেবিলে অবশ্য কয়েকটি মনিপুরী ছেলে মেয়ে তাই খাচ্ছিল।

কিন্তু নাইতে নেমে গা ভেজাব না বললে চলবে? সাবান না থাকলেই বা কি? বেছে বেছে উটকো নামের জিনিষপত্র অর্ডার করলাম। আলু ফিং মাশরুম ভেজ থানটুক আর টিগমা। আলু ফিং-এর আলু হচ্ছে বাংলায় আলু আর ফিংটা বুঝলাম না। কিন্তু চাইনিজ রাইস ওয়াইন দেওয়া নুডলস আলু ও মাশরুমের সুরুয়া আমাদের সামনে উপস্থিত করা হল। আর ছিল থানটুক। যা আবার তিব্বতি সুরুয়া। বান রুটির মতো টিগমাও ছিল। তা তাই দিয়ে স্যুপের বন্যা বইয়ে দিয়ে শেষে ফ্রুট বিয়ার দিয়ে শেষ করব কি? ইচ্ছা হল সুইট ডিশ খাই! তা ব্যানানা টফি ছাড়া কিচ্ছুটি নেই। তাই সই! তার কলা চটকে তার উপর তিল আর মধুর ক্যারামেলাইজড কোটিং দিয়ে চিবিয়ে পেট ঢকঢকিয়ে বাড়ি এলাম।
b5ced35548efb53fc17fd484bef32070_200_thumb

টিগমা

টিগমা


আসার পথে ছেলে আবিষ্কার করল, নিরামিষি বুধবারের কারণ। বুধবারকে খুব পুণ্যবান দিন হিসাবে দেখা হয় দলাই লামার জীবনে। তাই গত অগাস্টে এক বছরের জন্য মজনু কা টিলার তিব্বতি বাসিন্দারা বুধবার নিরামিষ খাবার অঙ্গীকার করেছে। অজ্ঞানীরা আর কি করবে? আবার কোন নতুন সূর্যাস্তের অপেক্ষায় থাকবে, গিয়ে একটু বিফ, ল্যাম্ব, পর্ক, চিকেন বা ফিশের তিব্বতি সংস্করণে যাতে দাঁত ফোটানো যায়। তদ্দিন না হয়, পেটের মধ্যে স্যুপের সাম্রাজ্য ঢক ঢক করুক!

প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ বেরিয়ে আসার সময় বিশ্বের সর্ব কনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দির ছবি দেখলাম। পানচেন লামা নির্বাচিত হবার পর গেধুন চৈকি নেইমাকে ১৯৯৫ থেকেই চীনা সরকার কোন অচেনা জায়গায় সরিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং তিব্বতি জনগণের আবেদনের পরেও তাঁর বর্তমান অবস্থান প্রকাশিত হয় নি। ছেলেটি এখন প্রায় ২৫ বছরের হয়ে গেল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা বিরুদ্ধ মতকে রাষ্ট্রযন্ত্র বরাবর ভয় পেয়ে এসেছে। চীন তো আরও বেশীই। তিয়েন আন মেনেরও তো পঁচিশ বছর পেরিয়ে গেল।
300px-Save_the_Panchen-lama
প্রয়োজনহীন পুনশ্চ১- কালকেই দেখলাম সলমন খানের পাঁচ বছর জেলযাত্রা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। বিশেষত ফেসবুকে উপচে পড়ছে সলমনের জন্য “ঠিক হয়েছে” আর তার সমর্থনকারী (পড়ুন অভিজিত ভট্টাচার্য্য ও ফারহা খান আলি)-দের জন্য “ছিছিক্কার”। জনগণ একবার ভেবে দেখুন আপনার বাড়ির ছেলেটি এরকম বিচারবিবেচনাহীন কাজ করলে আপনারা কি তাকে বিবেকের কাছে আত্মসমর্পণ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে জেলে পাঠাবেন? না কি আপনারাও মনগড়া গল্প তৈরী করে তাকে বাঁচাবার চেষ্টা করবেন? প্রথমটা হলে তো আপনাকে স্যালুট আর যা করছেন তা চালিয়ে যান। আর দ্বিতীয়টা হলে? আপনিও কিন্তু অভিজিত কিংবা ফারহা খান আলি (ইনি সঞ্জয় খানের কন্যা) কিংবা অর্জুন কাপুর হয়ে পড়ছেন।

অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই, ভদ্রলোক এর আগেও পাকিস্তানী গায়ক বা ইত্যাদির উপর নিজের অকালে ঝরে যাওয়া জ্ঞান বর্ষণ করেছেন। এখানেও ব্যতিক্রম নয়। বাকিরা স্রেফ নিজেদের পরিচিতকে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। দুঃখের বিষয় হল আমরা এতদিন ধরে কিন্তু সেই রাত্রে হতভাগ্য নুরউল্লাহ মেহবুব শরীফ (নামটা আমিও জানতাম না স্বীকার করছি) বা সলমনের পুলিশি দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাতিল (যিনি প্রথম এফআইআর করেছিলেন কিন্তু অদ্ভুত অবস্থায় সাত বছর পর সহায় সম্বলহীন অবস্থায় যক্ষ্মাগ্রস্থ হয়ে মারা গেছিলেন)-এর কোন খবর নিই নি। তাই বলি কি, শুধু চুপ করে খবরটা দেখি, বাক্যবাণের অধিকার বোধহয় আমরা হারিয়েছি! আমেন!
Junior-Car-Designer-Car-Drawing-For-Kids-Made-Very-Easy-SUV-Front-View-6

(১৩১)


গত বৃহস্পতিবার গেছিলাম গাজীপুর মণ্ডিতে। মণ্ডি হল যেখানে গেলে মন ভালো হয়ে যায় এমন জায়গা। অবিশ্বাসীদের কাছে অবশ্য মণ্ডির ইংরাজি অর্থ হল পাইকারি মার্কেট বা আড়ত। তার উপর গাজীপুর মণ্ডির এক বিশাল নাম আছে। যারা জানেন না তাদের জন্য জানাই গাজীপুর-এ মোট পাঁচটি মণ্ডি। ফুল মণ্ডি (নাকি full monty?), সবজি মণ্ডি, ডিম ও চিকেন মণ্ডি, ঈদগাহ আর মচ্ছি মণ্ডি।

হ্যাঁ, কোলকাতার লোককে মাছের গল্প শোনাতে গেলেই তো চিত্তির। আরে শুনুনই না। কোলকাতায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায় বটে, কিন্তু এক জায়গায় এতো মাছ তো পাওয়া যায় না! তাই চুপটি করে শুনুন পাঠক পাঠিকারা।

হয়েছে কি, গত রবিবার বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করেছিল বাংলা ফুড ফেস্টিভ্যাল-এর। খাবার দাবারের বিষয়ে আমি দুই পায়ে খাড়া। তার উপর বাংলা ফুড ফেস্টিভ্যাল। এর আগে আমার অভিজ্ঞতা বলতে দুগগো পুজোর আনন্দমেলা। কিন্তু এত বড় স্কেলে কোনদিনই কিছু করি নি বলে একটু চিন্তাভাবনা করছিলাম। তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খোঁচানোয় ক্ষুদিরাম হতে রাজি হলাম।

রামপুরী চত্বরে দেখতে দেখতে আমার নয় পেরিয়ে দশ বছর প্রায় হয়ে গেল। কিন্তু বাড়ির সামনের এই বিস্ময় বালককে চাক্ষুষ কোন দিনই করা হয় নি। মানে গাজীপুর মণ্ডিতে গিয়ে মাছ কেন মাংসও কেনা হয় নি। কিনবই বা কেন। মধ্যবিত্ত ঘরের ২৩০ লিটার ফ্রিজে এক কিলোর বেশী তো মাছ ধরে না। আর সেখানে শুনেছি কুইন্টালে হিসাব হয়।

তাও বড় বড় শহরে এরকম ছোট ছোট ভুল ত্রুটি হয়েই থাকে। রবীন্দ্রনাথও তো আজন্ম ধানের শীষে শিশির বিন্দুর জন্য হেদিয়ে রইলেন।

যাই হোক সক্কালবেলা উঠে ছেলেকেও টেনে তুললাম। ‘চল আজ তোকে একটা জায়গা দেখিয়ে আনি’! ‘কোথায় বাবা?’ ‘চলই না!’

তারপর দুচাকায় করে জিজ্ঞাসা করতে করতে পৌঁছিয়ে গেলাম মণ্ডি রাজ্যে। গাজীপুরকে একটু দূর থেকে দেখলে একদম আমাদের কাদাপাড়া লেকের পাশটা মনে হবে। সেই একই রকম আবর্জনা জমিয়ে পাহাড় করে সুসজ্জিত রাখার চেষ্টা চোখের পীড়া কম করে।

তা গাড়ি পার্ক করে ভিতরে ঢুকে চোখ সওয়াতে সওয়াতেই পনেরো মিনিট চলে গেল। তারপর এদিক ওদিক জিজ্ঞাসা করতে করতে সামুদ্রিক মাছের আড়তে। “বাবা ওটা কি?” “শঙ্কর মাছ” “ঊরিত্তারা স্টিং রে? আর ওটা কি?” “হাঙর” “ হ্যামারহেড?” বাপরে বাপ! সে সব অদ্ভুত অদ্ভুত নাম না জানা মাছের পেট থকে বের হওয়া দানাদারের সাইজের এক একটা ডিম। খাব কি মিউজিয়ামে রাখব তাই জানি না।

20150430_090152

বহুকাল আগে দীঘায় গিয়ে টাটকা বাগদা চিংড়ি দেখে চিত্তচাঞ্চল্য অনুভব করেছিলাম। এখানে বরফবন্দি মাছ দেখেও একইরকম আনন্দ হল বটে। কাতারে কাতারে সামুদ্রিক আর অসামুদ্রিক মাছ ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে আছে খরিদ্দার কখন তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে ঝালে ঝোলে অম্বলে ফেলে মুক্তি দেবে বলে।

আমার দরকার খুব সীমিত ছিল, তাই খুঁজে খুঁজে হাজির হলাম বাগদা চিংড়ির এক পাইকারি বিক্রেতার কাছে। বাগদার ব্যাপার আবার একটু সেনসিটিভ। একদম তাজা না হলেই মুড়ো ছাড়তে শুরু করে। আর এ কি আর আপনার কোলকাতার মানিকতলা বা শিয়ালদা বাজার পেয়েছেন? পুকুর থেকে তুলে এনে মার্কেটে ফেলে বলবে কেমন দিলাম? এখানে বাবা অনেক সাধ্য সাধনার পর গুজরাট বা অন্ধ্র থেকে মাছ আসে। তার তাজা থাকার সম্ভাবনা আর দিল্লির রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে বিনা ঝঞ্ঝাটে গন্তব্যে পৌঁছনো একই রকমের অসম্ভব প্রায়।

তাও হিসেব টিসেব করে বললাম আড়াই কিলো! সর্দারজি আড়তদার বলল তিনশো কুড়ি। আমি যেন হাতের কাছে ঝুড়ি ভরতি চাঁদ পেয়েছি! আহা তিনশো কুড়িতে প্রায় তাজা বাগদা? রয়াল বেঙ্গল টাইগারের হাসিও এর থেকে দূর্লভ বস্তু। সময় নষ্ট না করেই বস্তা বন্দি করে হাঁটা লাগালাম।

একটু দূরেই দেখি, আহা, দিনের বেলায় রূপালি চাঁদ উঁকি দিচ্ছে থরে থরে বরফের মেঘ থেকে। দিল্লির বাজারে প্রথম গঙ্গার ইলিশ। সেদিনই। পাইকারি দাম হাজার আর আমাদের মত খুচরো পাপীদের জন্য এগারশো! আহা জন্নত তো একবারই যাব বাওয়া! কিন্তু আমিও হেমলক খেয়েছি আর অপ্সরাদের নাচ দেখেছি বলার সৌভাগ্য কি ছেড়ে দেওয়া যায়? শোনা কথা যে সমুদ্র মন্থনে প্রথমে উঠেছিল বিষ। তা মহাদেব গলায় ধারণ করে নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন- বেঁচেছিলেন দূর্গার আশ্রয়ে। আরে সে সব দেবাদেবীর ব্যাপার বাপু। আমি সামান্য মানুষ, একই সঙ্গে ঘটি বাঙালের স্বর্গজাত পারিজাত দু হাতে ধরার সৌভাগ্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে দেখে সামলাতে পারলাম না।

বললাম দিন দাদা এক খান কিলো খানেক। শেষে পেট টিপে টুপে চ্যাপ্টা কিন্তু রাগবি বলের মতো চওড়া পেট ওলা এক চাঁদপানাকে হস্তগত করে হেঁটে এলাম পেশাদারি কাটিয়েদের কাছে। কোলকাতার বিভিন্ন বাজারে মাছ দোকানিরা সাধারণত কেটে দেয় না। কাঁচি আর বঁটির সাহায্য এইসব কাটিয়েরা শির কলাম করে। দিল্লিতে মাছের দোকানিরাই সাধারণত কেটে দেয়। কিন্তু এ তো পাইকারি বাজার। তাই এখানেও ব্যাপার স্যাপার আলাদা। মুঘলাই কাটিয়েরা ইয়া ইয়া বড় আরবি তলোয়ারের মতো দেখতে বঁটি নিয়ে বসে থাকে আর ছুরি দিয়ে ফাইন সে ফাইন ফাইল ‘ফিলে’কেটে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে “জিলেট”।

ইলিশ দেখেই তারা গল্প জুড়ে দিল। কুড়ি বছর আগেও দশ টাকা কিলো পাওয়া যেত। দশ বছর আগেও একশো টাকা করে না পেলে খরিদ্দার ফেলে রেখে চলে যেত। হঠাৎ করে যে কবে রূপালি অমৃতগুলো আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেল কে জানে?

যাই হোক, অমৃত একা খেলে অমর হওয়া যায় না। তাই ভাগ করে নিয়েই খেলাম। পোস্ত সর্ষে আর দই বাটা দিয়ে মাখিয়ে একটু সরষের তেল আর কাঁচা লংকা চিরে ভাপা আহা ভাত কে ভাত উড়ে চলে গেল হাঁড়ি সাফ করে দিয়ে। আর মুড়ো দিয়ে তেঁতুলের টক। আহা কচুশাকগুলো যে কোথায় গজাচ্ছে কে জানে?

20150430_213932

আর চিংড়ি? আহা বাঘের বাচ্চার মতো সেও রাজ করল রবিবার বাংলা ফুড ফেস্টিভ্যালে। সঙ্গে খোদ মালদা থেকে আনা আমসত্ত্বের খেজুর দিয়ে চাটনি। আহা ল্যাংড়ার গন্ধেই বেণুবন মাতাল হয়ে গেল।

IMG_20150504_203512

স্বর্গের সন্ধানে স্বপ্নসন্ধানীরা বারবার ফিরে ফিরে আসে আর আমরা তো সামান্য বাঙালী। রসনার বাসনায় বুঁদ হয়ে মজে থাকি। আহা রাখিস মা রসে বসে।
প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ সাধারণতঃ ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো ব্যক্তিগতই থাকে। কিন্তু আজকে তার জন্মদিন ছিল। এই নিয়ে দুটো জন্মদিন হয়ে গেল সে নেই। মানুষ এগিয়ে চলে কিন্তু ফাঁকগুলো ফাঁকই থেকে যায়। আমার ভাইটা আমারই মতো খেতে ভালবাসত কি না!!

(১৩০)

আরে গত এপিসোডে একটা কথা বলতে ভুলেই গেছিলাম। আসলে আমার এই তিতকুটে পারসোনালিটির মূল ভিত্তিই হল আমার তেঁতো প্রীতি। মানে উচ্ছে , করলা, নিমপাতা, পলতা আমার রসনার লাভা স্রোতে লালা বর্ষণ করে, সেই ছোট বেলা থেকেই। কালমেঘ আমার প্রথম বর্ষার মেঘ। নিম বেগুনে মনে আগুন লাগে। পলতার বড়ায় সলতেয় সেঁকে সিক্ত হয় হৃদয়। (আহা কদ্দিন যে পলতার বড়া খাই না! এই পোড়া দিল্লিতে ম্যাপল পাতা এমন কি চিনার পাতাও পাওয়া যায় কিন্তু পলতা পাতার দেখা? নৈব নৈব চ!)

আমার সারা পরিবারকে পইপই করে বলেও বোঝাতে পারি নি যে তেঁতোটা বাদ দিলে করলার মতো স্বাদু সবজি আর নেই। চেষ্টা করে দেখবেন! করলা কাটার পর ঈষদুষ্ণ গরম জলে একটু নুন দিনে করলা ভিজিয়ে রাখলে তেঁতো ভাবটা অনেকটাই চলে যায়। তারপর কোপ্তা কালিয়া রেঁধে দেখুন না ইচ্ছে মতো!

যদিও আমাদের বাড়িতে তেঁতো খাওয়া হয়, কিন্তু তা রসনার বাসনায় নয়। আয়ুর্বেদিক রেসিপি হিসাবে। আমার ছেলেটাও করলা দেখলে এখন নাক সিঁটকোয়। (উদাসী উত্তমকুমারের ইমোটিকন)

কিন্তু ধর্মের কল বোধহয় উলটোবার সময় হয়েছে। আয় দিন আমার মেয়েটি তার গুটগুটে দুই পায়ে হেঁটে এসে খাবার সময় কোলে বসে আমার থালা থেকে মণিমাণিক্য অর্ডার করে। যদিও তাকে বেশ তরিবৎ খাবার দাবারই দেওয়া হয়। কিন্তু তার বোধহয় বিশ্বেস হয় না যে সেগুলোও ভালো হতে পারে। নদীর এপার আর ওপার আর কি! তা সেদিন কাছের পার্ক থেকে কচি কচি বাদামী নিমপাতা বাড়িমুখো হয়েছে। আর ডুমো ডুমো বেগুন কাটা রয়েছে। অফিস থেকে ফিরে এসব দেখে আর সামলাতে না পেরে নিজেই দায়িত্ব সহকারে কম তেলে কুড়কুড়ে করে ভেজে সবে নিয়ে বসেছিলাম। সে মহারাণী এসে সেই খান থেকেই হুকুম করল।

সব বাপ মায়ের সুপ্ত বা ব্যক্ত ইচ্ছা থাকে যে সন্তান যেন নিজের কিছু ভালোলাগাকে আপন করে নেয়। এই নিয়েই মাত্রাছাড়া ঝঞ্ঝাট বা ঝটাপটির শুরুয়াত হয়ে যায়। তা আমার ভালো লাগার নিম বেগুন যদি আর কেউ খেতে চায় তাহলে সত্যিকারের ফ্যানের মতো হাওয়া বিতরণ করেই সুখ অনুভব করতে চাইবই, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তা মহারাণী চাইতেই হুজুর খিদমতগার হাজির করল, একদা সবুজ অধুনা কালচে কড়কড়ে নিমপাতা! মুখে দিতে এক মুহুর্তের জন্য তাঁর মুখভঙ্গিমা পালটে গেল। কিন্তু অপাপবিদ্ধ মন, কালো কে কালো, তেঁতোকে তেঁতো বলতে শেখে নি। সে কুড়মুড়ে অন্য স্বাদের খাবার পেয়েই খুশী। এক গাল হেসে ঘাড় বেঁকিয়ে বলল, “ভাও”! আবার দাও!

আর কি বলব মহায়! পুলকে আমার হৃদয়ের কলমে প্রেমসংগীত লেখা চালু হয়ে গেল। তার মাকে এক গাল হেসে বললাম, “দেখলে? বাপ কা বেটি!” পার্শ্ববর্তিনী তাল ভঙ্গ করলেন খাবার প্রসঙ্গ পাল্টে। কিন্তু তাতে কি? মিশ্র কাফির দরবারি কানাড়া তখনো বুকের মধ্যে তান তুলে রেখেছে। জিয়োহ বেটি।

ছেলেবেলায় আমার বোর্ড গেমের মধ্যে দারুণ লাগত চাইনিজ চেকার খেলতে। তা সেটা কারণ কি না বলতে পারব না। তবে কোলকাতার রাস্তায় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লাল বাস বা সরকারি বাসের ততোধিক বিলুপ্ত প্রায় টিকিট চেকারদের মুখোমুখি কখনই হই নি। তাল কাটল কলেজে উঠে।

এক বন্ধুর মা অসুস্থ, তাঁকে দেখতে যাব বলে বারুইপুরের ট্রেন কখন আছে তা দেখতে কোলাপসিবল পেরিয়ে সবে বোর্ডের কাছে গেছি। আর যাই কোথা? ক্যাঁক করে ধরে সোজা নিয়ে গেল আরপিএফ থানায়। তা যাই হোক, তখনকার দিনের টিউশনির মার্কেটে তিরিশটি কড়কড়ে টাকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলাম বটে।

আর তারপর দিল্লিতে এসে একবার দুশো টাকা চেকারকে ফাইন দিতে হয়েছিল দু টাকার জন্য। তখনও দিল্লিতে সামান্য দূরত্বের জন্য দু টাকার টিকিট পাওয়া যেত। দিল্লির বাসগুলিতে কন্ডাক্টর আপনার ঘাড়ের কাছে ‘টিকিট টিকিট’ করে টোকা মারে না। তারা বহাল তবিয়তে নিজের সরকারি সিংহাসনে বসে থাকে আর আপনাকেই যাত্রী স্রোতের বিপরীতে গিয়ে টিকিট কেটে ফিরে আসতে হয় ঝাণ্ডা উঁচিয়ে। তা অন্য একটা ঘটনায় রুমাল রেখে টিকিট কাটতে গেছি আর ফিরে এসে দেখি এক জাঠ তনয় রুমালটিকে জানলার উপর রেখে নিজে বেশ আগলে বসেছেন। আমার গা থেকে কোলকাতার জলের গন্ধ তখনও যায় নি। তাই তর্ক জুড়েছিলাম বটে। কিন্তু ষাঁড়ের সামনে লাল শালু নেড়ে বিশেষ ফল হয় না সে ষাঁড় যদি তখন তার প্রিয় বিচুলির সন্ধান পেয়ে যায়।

তা যাই হোক আগের গল্পটায় ফিরে আসি, আর কে পুরম থেকে বসন্ত বিহার চারটি স্টপেজ। তার মধ্যে একটি অতিবাহিত, তা আমি ঝটপট দুটি টাকা বার করে কন্ডাকটরকে দিতে যাব আর ও মা সে জানলা দিয়ে মুখ বার করে কি যেন দেখে হাত সরিয়ে নিল। আর মুর্তিমান অমঙ্গলের মতো খান চারেক ধূসর পোশাক পরিহিত চেকার উঠেই ক্যাঁক করে আমায় ধরল। তাদের যত বলি যে আমি টিকিট কাটতে যাচ্ছিলাম, কিছুতেই বিশ্বাস করে না। তবে বিশ্বাস না করার কারণ বোধহয় কোটা সম্পূর্ণ করা। মানে তাদের সারা দিন ধরে তমুক সংখ্যক লঙ্ঘনকারীকে ধরা এবং অমুক সংখ্যক অর্থ জরিমানা হিসাবে সংগ্রহ করার হুকুম থাকে বোধহয়। সেই প্যাঁচে দুটাকার বদলে দুশো টাকা দিয়ে পাসপোর্ট উদ্ধার হল।

তবে এবার যে গল্পটি বলব (বা সত্য ঘটনাটি বলব), সেটি কলেবরে এই সকল গল্পের মধ্যে ভীম ভবানী। এটি আমার সঙ্গে হয় নি, জয়পুরের সেই ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুর সঙ্গে ঘটেছিল।

কলেজে পড়ার সময় কোন কারণে সে ও তার বন্ধু দুজনে কোলকাতা এসেছিল। সে বর্ধমানের আর তার বন্ধুটি দুর্গাপুরবাসী। তা একইভাবে টিকিট না কেটে ট্রেন কখন আছে দেখার জন্য তারা হাওড়া মেন স্টেশনে ঢুকে পড়েছিল। আর ঠিক একইভাবে তাদেরকেও পরীক্ষকরা ক্যঁক করে ধরে। তা দুজনেই নাকি একটু শান্তশিষ্ট ভিতু প্রকৃতির ছিল। আর তাদের ভয়ার্ত চেহারায় আরও দু তিনটি বলিরেখা যুক্ত হল যখন তারা আরপিএফ থানার ভিতরে বসে থেকে পাশের ঘর থেকে শুনতে পাচ্ছিল ‘বাবা রে, মা রে মেরে ফেলল রে’ চিৎকার। তাদের সন্দেহ নিরসনের দায়িত্ব সেই চেকারই নিলেন। তিনি বললেন, “ও কিছু না পকেটমার ধরা পড়েছে তো!” তা পকেটমারের পকেটে কে আর দেখতে গেছে কোন পরিচয়পত্র আছে কি না পকেটমার বলে। তাই বন্ধুটি ঘাবড়ে গিয়ে বলল, যে দেখুন আমার কাছে একশো টাকা আছে। বাড়ি পৌঁছত হবে তো! তাই পঞ্চাশ দিই?

কিন্তু তার বন্ধুটার হঠাৎ কি হয় কে জানে? সে ছুট লাগালো সেখান থেকে, কিন্তু উসেইন বোলট না হোক সে নিদেন পক্ষে আদিল সুমারিওয়ালাও ছিল না। তাই চড় চাপড়ের মাঝে উভয়ে মিলে একশো টাকা দিয়ে তবে রফা হয়। তারপর হুড়মুড়িয়ে দেখে শুনে একটি ট্রেনে তারা উঠে পড়ে। নির্দিষ্ট সময় বন্ধুটি বর্ধমান আসায় নেমে পড়ে আর তার বন্ধুকে বলে তুই দুর্গাপুর পৌঁছে খবর দিস। কিন্তু ততক্ষণে নটা বেজে যাওয়ায় আর একে সারাদিনের ধকলে আমার বন্ধুটি অচিরেই খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে টেলিফোনের চিল চিৎকারে ঘুম ভাঙে। সেই বন্ধুটি নাকি সারা রাত ঝড় ঝাপটা সামলে বাড়ি পৌঁছে কোনরকমে রাত কাটিয়েই বেইমান বন্ধুর উপর হামলে পড়ে ফোন করে।

কিছুই না, আমার বন্ধুটি নেমে যাবার পর তার বন্ধুটি ফুরফুরে হাওয়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিল এই ভেবে যে দুর্গাপুরে তো ট্রেন আপসেই থেমে যাবে। কিন্তু যখন তার ঘুম ভাঙে ততক্ষণে দশটা বেজে গেছে, আর ট্রেনটা নাকি দুর্গাপুর যায় নি এবং শান্তিনিকেতনের পথে চলছিল। ছেলেটি কিছু না বুঝতে পেরে ক্রমশ ফরসা হয়ে আসা সহযাত্রীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে তারা ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছে। তারপর কোন রকমে পরের স্টেশনে নামে। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ অপর একটি লোকাল ট্রেন ধরে সে ফিরে আসে বর্ধমানে। দুর্গাপুর যাবার ট্রেন তখন পাশের প্ল্যাটফর্মে আসব আসব করছে। সে লাইন পেরিয়ে সেই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে সামনে সাদা শার্ট পরিহিত এক ভদ্রলোককে বলে “দাদা হাতটা ধরুন!” ভদ্রলোক তাকে প্ল্যাটফর্মে তুলে নিজের কালো কোটটি পরে বলে, ‘টিকিট?’ আর যা হবার তাই হয়! সে রাতে কে আর গল্প শোনে। শেষে কপর্দক শূন্য অবস্থায় দুর্গাপুর এসে রাতের অন্ধকারে লাইটহাউসের মতো জেগে থাকা একমাত্র পরিচিত এসটিডি বুথ থেকে সে কাঁদোকাঁদো অবস্থায় বাড়ি ফোন করে বাবাকে অনুরোধ করে গাড়ি পাঠাতে! বাবা গাড়ির ব্যবস্থা করে তাকে বাড়ি নিয়ে যখন পৌঁছন ততক্ষণে স্টুডিওর ঘড়িতে ছোট কাঁটাটি দুইয়ের ঘরে ঘোরাফেরা করছে।

পাঠক/পাঠিকারা যত পারেন হাসুন, কিন্তু সেই বেদনাহত ছেলেটির সঙ্গে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই কোন ঘটনা বা দুর্ঘটনার কথা মনে করে একটু দীর্ঘশ্বাস অন্ততঃ ফেলবেন। ছেলেটি অজান্তেই একটু শান্তি পাবে! আমেন!
being-gratuitous
প্রয়োজনহীন পুনশ্চঃ বর্তমান ভারতীয় একদিনের ও টি২০ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শ্রী মহেন্দ্র সিং ধোনি একদা দক্ষিণ পূর্ব রেলের টিকিট কালেক্টর ছিলেন। তবে সে অন্য কোন জীবনের গল্প বটে।